‘আবারও খুন করব, কেউ পথে এলে ছাড়ব না’: আদালতেই হুমকি, কেরলের দ্বৈত-খুনে দোষী সাব্যস্ত সিরিয়াল কিলার

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: কেরলের পালাক্কাড়ের একটি আদালতে দ্বৈত-খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অভিযুক্তের মন্তব্যে শিউরে উঠেছে আদালতকক্ষ।
- ৫৮ বছরের চেন্থামারা আদালতের সামনেই জানিয়ে দেন, তাঁর কোনও অনুশোচনা নেই।
- বরং ভবিষ্যতেও কেউ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে তিনি আবার খুন করবেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: কেরলের পালাক্কাড়ের একটি আদালতে দ্বৈত-খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অভিযুক্তের মন্তব্যে শিউরে উঠেছে আদালতকক্ষ। ৫৮ বছরের চেন্থামারা আদালতের সামনেই জানিয়ে দেন, তাঁর কোনও অনুশোচনা নেই। বরং ভবিষ্যতেও কেউ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে তিনি আবার খুন করবেন।
সোমবার পালাক্কাড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিবেশী সুধাকরণ এবং তাঁর মা লক্ষ্মীকে খুনের ঘটনায় চেন্থামারাকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে অভিযুক্তের আচরণ ও মন্তব্য বিচারক, আইনজীবী এবং উপস্থিত সকলকে বিস্মিত করে।
সরকারি কৌঁসুলি এম. জে. বিজয়কুমার জানান, জেলা প্রবেশন আধিকারিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অভিযুক্তের মধ্যে নিজের অপরাধ নিয়ে কোনও নৈতিক অনুশোচনা নেই এবং তিনি সমাজের জন্য এখনও বিপজ্জনক। সেই প্রসঙ্গ আদালতে ওঠার পরই চেন্থামারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার কোনও অনুতাপ নেই। কেউ যদি আমার পথে আসে, আমি আবারও খুন করব।”
এই মন্তব্যের ফলে আদালতের সামনে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, অভিযুক্তের মধ্যে অপরাধবোধের কোনও লক্ষণ নেই। তদন্তকারীদের মতে, তাঁর মানসিক প্রবণতা সমাজের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ।
চেন্থামারার বিরুদ্ধে এটাই প্রথম খুনের মামলা নয়। গত বছর একই আদালত তাঁকে সুধাকরণের স্ত্রী সাজিথাকে ২০১৯ সালে পুথুন্ডিতে খুন করার অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত করেছিল। অর্থাৎ একই পরিবারের তিন সদস্যকে আলাদা সময়ে হত্যার অভিযোগে তিনি ইতিমধ্যেই দোষী।
তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর বিবাদ চলছিল। সেই শত্রুতার জেরেই প্রথমে সাজিথাকে হত্যা করা হয়। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুধাকরণ এবং তাঁর বৃদ্ধা মা লক্ষ্মীকেও নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তিনটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা এবং পরিকল্পিত আক্রমণের মিল খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
সরকারি পক্ষের দাবি, এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে অভিযুক্ত সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রবেশন আধিকারিকের মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, তাঁর আচরণে অনুতাপ বা আত্মসমালোচনার কোনও চিহ্ন নেই। বরং তিনি নিজের কাজকে ন্যায্য বলেই মনে করেন।
দ্বৈত-খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শাস্তি ঘোষণা এখনও বাকি। প্রসিকিউশনের দাবি, অভিযুক্তের অতীত অপরাধ, ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড এবং আদালতে প্রকাশ্যে ফের খুনের হুমকি—সব দিক বিবেচনা করে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের সামনে এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য বিচারকের কাছে সাজা নির্ধারণের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। কারণ, এতে অভিযুক্তের মানসিক অবস্থার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় অপরাধ করার সম্ভাবনাও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
এই ঘটনায় কেরলজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও অভিযুক্তের প্রকাশ্য ঘোষণা—‘আবারও খুন করব’—সমাজে সহিংস অপরাধীদের পুনর্বাসন, মানসিক মূল্যায়ন এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



