খবর

‘তোমরা কোথায়?’—সংসদ অভিযানের দিন সৌরভ-আশুতোষের উপর কেন ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন দীপকে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ‘সংসদ চলো’ অভিযানের দিন ককরোচ জনতা পার্টির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার উপর প্রবল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক…
  • ২০ জুলাইয়ের সেই অশান্ত দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি জানিয়েছেন, অনশন এবং মিছিল—দুইয়ের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে তিনি তখন শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রায় ভেঙে…
  • অথচ ঠিক সেই সময়েই দুই সহযোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ‘সংসদ চলো’ অভিযানের দিন ককরোচ জনতা পার্টির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার উপর প্রবল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। ২০ জুলাইয়ের সেই অশান্ত দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি জানিয়েছেন, অনশন এবং মিছিল—দুইয়ের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে তিনি তখন শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রায় ভেঙে পড়েছিলেন। অথচ ঠিক সেই সময়েই দুই সহযোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দীপকে জানান, ‘সংসদ চলো’ অভিযানের দিন ছিল তাঁর অনশনের তৃতীয় দিন। ওই দিন বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সৌরভ ও আশুতোষকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করিয়ে রাখা হলেও মূল বৈঠকটি মাত্র দশ মিনিট স্থায়ী হয়।

এদিকে যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়া আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ক্রমশ ফুরিয়ে আসছিল। তাঁরা সংসদের দিকে অভিযান শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। দীপকের দাবি, দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল পরিচালনা করার জন্য তিনি বারবার জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু অনশনে দুর্বল হয়ে পড়ায় তাঁর পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে জমায়েতকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

সেই সময়ে সৌরভ ও আশুতোষকে বারবার ফোন করেও তিনি পাননি। তাঁদের ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। দীপকের কথায়, তিনি তখন চিৎকার করে জানতে চাইছিলেন, “তোমরা কোথায়?” পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে দুই সহকর্মীর উপর তিনি “ভীষণ রেগে” গিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ওই দিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগের সময় সিজেপি নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না বলেও সমালোচনা হয়। সেই প্রসঙ্গে দীপকে স্বীকার করেছেন, সুযোগ পেলে তিনি একটি সিদ্ধান্ত বদলাতেন—সৌরভ ও আশুতোষকে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যেতে দিতেন না।

তাঁর বক্তব্য, অনশন কীভাবে করতে হয়, কোন কাজগুলি এড়িয়ে চলতে হয়, সে সম্পর্কে তাঁর কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রথম দু’দিনও তিনি নিয়মিত জনতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের মধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ফলে তৃতীয় দিনে তাঁর শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। সকালে তিনি অজ্ঞানও হয়ে গিয়েছিলেন। হাঁটার ক্ষমতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত একটি ট্রাকে উঠতে হয় তাঁকে। সৌরভ ও আশুতোষ যন্তর মন্তরে উপস্থিত থাকলে জনতাকে সামলানো এবং মিছিল পরিচালনা করা অনেক সহজ হতো বলে তাঁর দাবি।

সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন, ২০ জুলাই, সিজেপি ওই অভিযান করেছিল। নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ৩৭ দিন ধরে আন্দোলন চলেছিল। যন্তর মন্তর থেকে সংসদমুখী মিছিল ছড়িয়ে পড়ে রাইসিনা রোড, জনপথ, কনট প্লেস ও ইন্ডিয়া গেট অঞ্চলে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষও হয়। ২৫ জুলাই প্রধান পদত্যাগ করার পরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে সিজেপি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles