খবর

ই-কেওয়াইসি না হলেও মিলবে কাজ, সব নথিভুক্ত শ্রমিককে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: কেন্দ্র

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি: বৈদ্যুতিন পরিচয় যাচাই বা ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে কোনও গ্রামীণ শ্রমিক কাজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না।
  • রবিবার এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক।
  • একই সঙ্গে মন্ত্রকের দাবি, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পে নথিভুক্ত প্রত্যেক শ্রমিককেই ইতিমধ্যে নতুন ‘বিকশিত ভারত—গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি: বৈদ্যুতিন পরিচয় যাচাই বা ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে কোনও গ্রামীণ শ্রমিক কাজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। রবিবার এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। একই সঙ্গে মন্ত্রকের দাবি, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পে নথিভুক্ত প্রত্যেক শ্রমিককেই ইতিমধ্যে নতুন ‘বিকশিত ভারত—গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জি রাম জি প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ই-কেওয়াইসি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে মন্ত্রক জানিয়েছে, এটি মূলত শ্রমিকের পরিচয় যাচাই এবং প্রকল্পের তথ্যভান্ডার নির্ভুল রাখার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কোনও ব্যক্তির যাচাই অসম্পূর্ণ থাকলে তিনি কাজ চাইতে, কাজে যোগ দিতে কিংবা মজুরি পেতে পারবেন না—এমন কোনও শর্ত নেই। কাজ পাওয়ার আগে ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করাও বাধ্যতামূলক নয়।

তবে পরিচয় যাচাইয়ের বকেয়া কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করে শ্রমিকদের ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে সাহায্য করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, প্রকৃত শ্রমিকদের নাম তথ্যভান্ডারে রাখা, একই ব্যক্তির একাধিক নথিভুক্তি ঠেকানো এবং ভুয়ো নাম বাদ দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।

নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু হওয়ার দু’মাস পরেও প্রায় ৫৭ লক্ষ সক্রিয় শ্রমিকের ই-কেওয়াইসি বাকি রয়েছে—এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর কেন্দ্রের এই ব্যাখ্যা এল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে অন্তত এক বার কাজ করেছেন এমন সক্রিয় শ্রমিকদের প্রায় ৯৪.৮৮ শতাংশের পরিচয় যাচাই হয়েছে। কিন্তু সমস্ত নথিভুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৭১ শতাংশ।
রাজ্যভেদে যাচাইয়ের হারে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সক্রিয় শ্রমিকদের মধ্যে তামিলনাড়ুতে ৯৯.৩২ শতাংশ, রাজস্থানে ৯৫.৬৬ শতাংশ, উত্তরপ্রদেশে ৯৪.২১ শতাংশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ৯০.৪ শতাংশের ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, সমস্ত নথিভুক্ত শ্রমিকের হিসাবে বিহারে যাচাইয়ের হার ৫৮.০৫ শতাংশ—বড় রাজ্যগুলির মধ্যে যা অন্যতম কম।

কেন্দ্র জানিয়েছে, পুরনো প্রকল্পের বৈধ কর্মপত্রগুলি নতুন ‘গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড’ না পাওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। যাঁদের কর্মপত্র নেই, তাঁরাও গ্রাম পঞ্চায়েতে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। বকেয়া পরিচয় যাচাইয়ের অজুহাতে তাঁদের কাজের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাবে না।

গত ১ জুলাই থেকে পুরনো মনরেগার জায়গায় ভিবি-জি রাম জি আইন কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে একটি গ্রামীণ পরিবারের জন্য বছরে নিশ্চিত কাজের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। কাজ চাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থান দিতে না পারলে বেকার ভাতা দেওয়ার বিধানও রয়েছে। মজুরি সরাসরি শ্রমিকের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের হিসাবে পাঠানোর কথা। মজুরি তালিকা বন্ধ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই টাকা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles