International

মানচিত্রে হ্রদ, নাম নিয়ে লড়াই

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • গুগল মানচিত্রে আমেরিকা থেকে দেখলে অন্টারিও হ্রদের নাম বদলে গিয়েছে।
  • কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে কানাডায় গেলেই সেই একই জলাশয়ের নাম ‘লেক অন্টারিও’।
  • আর বিশ্বের বাকি দেশগুলিতে গুগল ম্যাপ খুললে দু’টি নামই পাশাপাশি—‘লেক অন্টারিও’ এবং ‘লেক আমেরিকা’।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

গুগল মানচিত্রে আমেরিকা থেকে দেখলে অন্টারিও হ্রদের নাম বদলে গিয়েছে। সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে ‘লেক আমেরিকা’। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে কানাডায় গেলেই সেই একই জলাশয়ের নাম ‘লেক অন্টারিও’। আর বিশ্বের বাকি দেশগুলিতে গুগল ম্যাপ খুললে দু’টি নামই পাশাপাশি—‘লেক অন্টারিও’ এবং ‘লেক আমেরিকা’।

একই হ্রদ, তিন রকম নাম!

এই নামবদলের নেপথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ। গত ২৭ আগস্ট তিনি সরকারি নথিতে লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশে সই করেন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভৌগোলিক নামের তথ্যভান্ডার ‘জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম’ বা জিএনআইএস-এ নতুন নামটি নথিভুক্ত হয়।

তার পর গুগলও বদলে দেয় মানচিত্রের নাম।

তবে কানাডায় নয়।

গুগলের যুক্তি, কোনও ভৌগোলিক স্থানের নাম নিয়ে দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি সূত্রে ব্যবহৃত নামই মানচিত্রে দেখানো হয়। সেই নীতিতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে উঠবে ‘লেক আমেরিকা’, কানাডার ব্যবহারকারীরা দেখবেন ‘লেক অন্টারিও’। আর দুই দেশের বাইরে থেকে গুগল ম্যাপ খুললে দেখা যাবে দু’টি নামই। গুগল তার নিজস্ব ঘোষণায় এই নীতির কথা স্পষ্ট করেছে।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, গ্রেট লেকস অঞ্চলের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক নৌচলাচল এবং রক্ষণাবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হ্রদগুলিতে ব্যবহৃত ১১টি বরফভাঙা জাহাজের মধ্যে ন’টিই মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনীর। এমনকি অন্টারিও হ্রদের গভীরতম অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে পড়ে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু হ্রদটির নাম বদলালেই তার ভৌগোলিক মালিকানা বদলে যায় না।

অন্টারিও হ্রদ কোনওভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের একার নয়। হ্রদের উত্তর, পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রয়েছে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের বিস্তীর্ণ তীরভূমি। দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। ফলে ওয়াশিংটনের একতরফা সিদ্ধান্ত কানাডার জন্য কোনও আন্তর্জাতিক নামবদল ঘটায়নি।

আর সেই জায়গাতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

কানাডায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা হয়েছে। অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডাগ ফোর্ড জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাছে নামটি ‘লেক অন্টারিও’ই থাকবে। কানাডার পক্ষের যুক্তি, ‘অন্টারিও’ নামটির সঙ্গে শুধু ভূগোল নয়, অঞ্চলটির ইতিহাস এবং আদিবাসী ঐতিহ্যও জড়িয়ে আছে। অন্য কোনও দেশের নির্বাহী আদেশ দিয়ে সেই পরিচয় মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

এ অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের এমন প্রথম নামবদল নয়।

এর আগে ‘গালফ অব মেক্সিকো’-র নাম যুক্তরাষ্ট্রে বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করা হয়েছিল। তখনও গুগল একই নীতি নিয়েছিল—আমেরিকায় নতুন নাম, মেক্সিকোয় পুরনো নাম, আর বিশ্বের বাকি জায়গায় দু’টি নাম পাশাপাশি।

লেক অন্টারিওর ক্ষেত্রেও সেই একই কৌশল।

ফলে গুগল ম্যাপের স্ক্রিনে এখন এক অদ্ভুত বাস্তবতা। আপনি কোন দেশে দাঁড়িয়ে আছেন, তার উপর নির্ভর করছে আপনি হ্রদটিকে কী নামে চিনবেন।

জল একই। সীমান্ত একই। হ্রদও একই।

শুধু নামটাই বদলে যাচ্ছে—আপনার অবস্থান বদলালেই।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles