বাদল অধিবেশনের নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার ১৭ দিন পরেও সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে মুলতুবি ঘোষণা করা হয়নি। এই অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। বিরোধী দলের আশঙ্কা, এপ্রিলের বাজেট অধিবেশনে পরাজিত সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি ফের পাশ করানোর জন্য সরকার একই অধিবেশনের বিশেষ বৈঠক ডাকার পথ খোলা রাখতে চাইছে।

লোকসভা ও রাজ্যসভা ১৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়। কিন্তু ৩০ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির তরফে অধিবেশন মুলতুবির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। সাধারণত কোনও অধিবেশনের বৈঠক শেষ হওয়ার দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার সুপারিশে রাষ্ট্রপতি সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুলতুবি ঘোষণা করেন। গত বাজেট অধিবেশন ১৮ এপ্রিল শেষ হওয়ার পরে ২০ এপ্রিলই মুলতুবির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারের ১৭ দিনের ব্যবধানকেই অস্বাভাবিক বলে দাবি করছে কংগ্রেস। তবে ২০১৫ সালে ২৮ দিন এবং ২০২১ সালে ২০ দিন পরে অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার নজিরও রয়েছে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কি সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলটি পাশ করানোর জন্য এখনও প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সন্ধান করছেন? তাঁর অভিযোগ, অতীতের দীর্ঘ ব্যবধানগুলির সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির তুলনা চলে না, কারণ বর্তমানে সরকারের কোনও ‘অশুভ পরিকল্পনা’ রয়েছে কি না, তা নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, অধিবেশন মুলতুবি না করা হলে নতুন করে রাষ্ট্রপতির সমন ছাড়াই সেই একই অধিবেশনের বৈঠক আবার ডাকা সম্ভব। ফলে সরকার চাইলে অল্প সময়ের বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ বৈঠক ডেকে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করতে পারে। যদিও কেন্দ্র এখনও এ ধরনের কোনও পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেনি।

এপ্রিলের বাজেট অধিবেশনে আনা সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলের লক্ষ্য ছিল ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং তার সঙ্গে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস করা। বিলের পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছিল। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় বিলটি পরাজিত হয়।

সীমানা পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় সবচেয়ে সরব দক্ষিণের রাজ্যগুলি। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলির তুলনামূলক রাজনৈতিক ক্ষমতা কমে যাবে এবং উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলির প্রভাব বহুগুণ বাড়বে। আপত্তি প্রশমিত করতে কেন্দ্র সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লোকসভা আসন সমান হারে—সম্ভবত ৫০ শতাংশ—বাড়ানোর সূত্র বিবেচনা করছে বলে খবর।

সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসায়, অধিবেশন মুলতুবির বিলম্ব এখন নিছক সংসদীয় প্রক্রিয়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; তা কেন্দ্রের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়ন কৌশলকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।