‘থ্রি ইডিয়টস’ বিতর্কে আমিরকে খোঁচা ওয়াংচুকের

যা জানা জরুরি
- ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ফুনসুখ ওয়াংডু চরিত্রটি তাঁকে অনুসরণ করে তৈরি হয়নি—আমির খানের এই দাবি মেনে নিলেন না সোনম ওয়াংচুক।
- বরং নিট-বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনশনে থাকা ওয়াংচুক আমিরের মন্তব্যের জবাব দিলেন বেশ কটাক্ষের সুরেই।
- তাঁর রসিক মন্তব্য, ‘সম্ভবত স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিভ্রংশ হয়েছে।’ রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ২০০৯ সালের ব্লকবাস্টার ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ আমির খান অভিনয় করেছিলেন ফুনসুখ ওয়াংডুর চরিত্রে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ফুনসুখ ওয়াংডু চরিত্রটি তাঁকে অনুসরণ করে তৈরি হয়নি—আমির খানের এই দাবি মেনে নিলেন না সোনম ওয়াংচুক। বরং নিট-বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনশনে থাকা ওয়াংচুক আমিরের মন্তব্যের জবাব দিলেন বেশ কটাক্ষের সুরেই। তাঁর রসিক মন্তব্য, ‘সম্ভবত স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিভ্রংশ হয়েছে।’
রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ২০০৯ সালের ব্লকবাস্টার ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ আমির খান অভিনয় করেছিলেন ফুনসুখ ওয়াংডুর চরিত্রে। লাদাখের শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সেই চরিত্রের মিল বহু দিন ধরেই আলোচনায়। সম্প্রতি ছবিতে ‘চতুর’ চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্যও সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, ওয়াংডু চরিত্রটি ওয়াংচুককে মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু সেই দাবির কয়েক দিনের মধ্যেই আমির জানিয়ে দেন, বিষয়টি ঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, ছবিটি তৈরির সময় তিনি, পরিচালক রাজকুমার হিরানি কিংবা সহ-চিত্রনাট্যকার অভিজাত জোশি—কেউই সোনম ওয়াংচুকের কথা জানতেন না।
আমিরের মন্তব্যের পরেই অবশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি পুরনো ভিডিও। সেখানে ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির অনেক আগেই ওয়াংচুকের সঙ্গে আমিরকে দেখা যায়।
আর সেই সাক্ষাতের কথাই তুলে ধরে এবার জবাব দিলেন ওয়াংচুক।
তাঁর দাবি, আমিরের সঙ্গে শুধু দেখা হয়নি, হয়েছিল দীর্ঘ এবং বিস্তারিত আলোচনা। সেখান থেকেই আমিরকে উদ্দেশ করে তাঁর কটাক্ষ, “শোনা যায়, উনি নিজের অভিনীত চরিত্রের মধ্যে খুব বেশি ডুবে যান। যে পুরস্কার অনুষ্ঠানে আমি সম্মান পেয়েছিলাম, সেখানে উনিও ছিলেন। সম্ভবত তখনও ‘গজনি’র চরিত্রের মধ্যেই ডুবে ছিলেন। তাই হয়তো স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিভ্রংশ হয়েছে।”
তবে ওয়াংচুকের বক্তব্যে শুধু বিদ্রুপই নেই। ফুনসুখ ওয়াংডু চরিত্রটি সম্পূর্ণ ভাবে তাঁর জীবন অনুসরণ করে তৈরি—এমন দাবিও তিনি করছেন না।
তাঁর কথায়, “এটাকেই তো আমরা প্রভাব বা অনুপ্রেরণা বলি। হয়তো আমার সঙ্গে আলোচনার পর আমির সেই ভাবনাগুলি চিত্রনাট্যকারদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে চিত্রনাট্যে কিছু পরিবর্তন এসেছিল। আগে থেকেই একটি চিত্রনাট্য ছিল। হয়তো তিনি অবচেতন ভাবেই কিছু করেছেন এবং লেখকেরাও জানতেন না, সেই ভাবনাগুলি কোথা থেকে এসেছে। যা-ই হোক, এ নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই।”
অর্থাৎ ওয়াংচুকের অবস্থান বেশ স্পষ্ট—তিনি সরাসরি বলছেন না যে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর চরিত্রটি তাঁর জীবনের হুবহু প্রতিরূপ। তবে তাঁর সঙ্গে আমিরের আলোচনা যে কোনও না কোনও ভাবে চরিত্রটির ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এর আগে লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ‘লগান’ প্রদর্শনের সময় আমির বলেছিলেন, ‘থ্রি ইডিয়টস’ সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত নয়। একই সঙ্গে অনশনরত ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আশা করেছিলেন, দ্রুত অনশন প্রত্যাহার করবেন ওয়াংচুক।
‘থ্রি ইডিয়টস’-এ আমিরের অভিনীত ফুনসুখ ওয়াংডু ছিলেন লাদাখের লেহ্-তে বসবাসকারী এক খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক এবং পরিবেশসচেতন মানুষ। ছবির শেষ পর্যন্ত তাঁর আসল পরিচয় আড়ালেই রাখা হয়েছিল। দর্শক তাঁকে চিনেছিলেন ‘র্যাঞ্চো’ নামে—যে এক ধনী পরিবারের ছেলের পরিচয় ব্যবহার করে দেশের অন্যতম নামী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করে।
রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ছবিটির প্রযোজক ও সহ-চিত্রনাট্যকার ছিলেন বিধু বিনোদ চোপড়া। আমির ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন করিনা কাপুর, আর মাধবন, শরমন জোশি, বোমান ইরানি, মোনা সিং, আলি ফজল এবং জাভেদ জাফরি।
বিশ্বজুড়ে ৪৬০ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেছিল ছবিটি। আর এখন সেই ছবির জনপ্রিয়তা ফের পর্দায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। মূল অভিনেতাদের নিয়েই ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর দ্বিতীয় পর্ব তৈরির পরিকল্পনা চলছে বলে খবর।
তবে তার আগেই বাস্তবের ‘র্যাঞ্চো’ আর পর্দার ‘র্যাঞ্চো’র মধ্যে শুরু হয়ে গেল স্মৃতির লড়াই—কে কাকে মনে রেখেছেন, আর কে ভুলে গিয়েছেন?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



