সংস্কৃতি ও বিনোদন

‘হুইস্পার ম্যান’-এর ফিসফিসে ঘুম

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নামেই রহস্য, গল্পে শিশু অপহরণকারী সিরিয়াল কিলার, আর পর্দায় রবার্ট ডি নিরো ও মাইকেল কিটনের মতো দুই মহাতারকা—‘দ্য হুইস্পার ম্যান’-এর সাফল্যের উপকরণ যেন হাতের…
  • অথচ পরিচালক জেমস অ্যাশক্রফট সেই সম্ভাবনাকে এমন এক নিষ্প্রাণ মনস্তাত্ত্বিক রহস্যছবিতে পরিণত করেছেন, যা দর্শককে আতঙ্কিত করার চেয়ে ঘুম পাড়াতেই বেশি আগ্রহী।
  • অ্যালেক্স নর্থের ২০১৯ সালের বেস্টসেলিং উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ছবির কেন্দ্রে টম কেনেডি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নামেই রহস্য, গল্পে শিশু অপহরণকারী সিরিয়াল কিলার, আর পর্দায় রবার্ট ডি নিরো ও মাইকেল কিটনের মতো দুই মহাতারকা—‘দ্য হুইস্পার ম্যান’-এর সাফল্যের উপকরণ যেন হাতের কাছেই ছিল। অথচ পরিচালক জেমস অ্যাশক্রফট সেই সম্ভাবনাকে এমন এক নিষ্প্রাণ মনস্তাত্ত্বিক রহস্যছবিতে পরিণত করেছেন, যা দর্শককে আতঙ্কিত করার চেয়ে ঘুম পাড়াতেই বেশি আগ্রহী।

অ্যালেক্স নর্থের ২০১৯ সালের বেস্টসেলিং উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ছবির কেন্দ্রে টম কেনেডি। স্ত্রীকে হারানোর পর আট বছরের ছেলে জেককে নিয়ে নিজের শহর ফেদারব্যাঙ্কে ফিরে আসে এই ক্রাইম-ফিকশন লেখক। বাবা-ছেলের সম্পর্ক এমনিতেই দূরত্বে ভরা। তার উপর জেকের আচরণ ক্রমশ অস্বাভাবিক হতে থাকে। সে এক অদৃশ্য বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে, রহস্যময় ছড়া আওড়ায় এবং জানায়, রাতে কেউ তাকে ফিসফিস করে কথা শোনায়।

তার পরেই ঘটে অপহরণ।

জেককে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বহু বছর আগের একটি শিশু-হত্যা মামলার সঙ্গে আশ্চর্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সেই মামলার খুনি ফ্রাঙ্ক কার্টার অবশ্য বহু বছর ধরে জেলে বন্দি। ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে টমকে তাই সাহায্য নিতে হয় নিজের বিচ্ছিন্ন বাবা পিট উইলিসের। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা পিটই একসময় কার্টারকে গ্রেফতার করেছিলেন। অতীতের সেই মামলা আর বর্তমানের অপহরণের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত।

শুনতে যথেষ্ট জমজমাট।

সমস্যা হল, ছবিটি যা শোনায়, তার অর্ধেকও পর্দায় করে উঠতে পারে না।

ভাঙা পরিবার, অপরাধবোধে ভোগা বাবা, রহস্যময় শিশু, অদৃশ্য বন্ধু এবং কারাগারে বসে তদন্তকারীদের সঙ্গে মানসিক খেলা চালানো খুনি—সবই আছে। কিন্তু বেন জ্যাকবি ও চেজ পামারের চিত্রনাট্য এই উপাদানগুলিকে নতুন কোনও মাত্রা দিতে পারেনি। কাল্পনিক বন্ধু, ভয়ংকর ছড়া, অন্ধকার বাড়ি, অতীতের চাপা ক্ষত—রহস্য-ছবির পরিচিত অস্ত্রাগার থেকে একের পর এক জিনিস বেরিয়ে আসে। তবু ভয় আসে না।

বরং বেশির ভাগ মোড় এতটাই অনুমানযোগ্য যে রহস্য ফাঁস হওয়ার আগেই দর্শকের সন্দেহ মিটে যায়।

তার থেকেও বড় সমস্যা চরিত্রদের আচরণে। প্রয়োজনের মুহূর্তে তাঁরা এমন সব সিদ্ধান্ত নেন, যার যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফলে টানটান উত্তেজনার বদলে গল্প ক্রমশ কৃত্রিম বলে মনে হয়।

অ্যাডাম স্কট টমের ভূমিকায় ছবির আবেগের কেন্দ্র হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আতঙ্ক, অপরাধবোধ কিংবা ছেলেকে হারানোর অসহায়তা—কোনওটাই দর্শকের ভিতর গভীরভাবে পৌঁছয় না। মিশেল মোনাহ্যানের পুলিশকর্তা আমান্ডা বেকও খুব একটা একমাত্রিকতার বাইরে বেরোতে পারেননি। মাইকেল কিটন অন্তত তাঁর সীমিত উপস্থিতিতে খানিকটা অস্বস্তিকর আবহ তৈরি করেন। কিন্তু তাঁকেও যথেষ্ট কাজে লাগানো হয়নি।

আর তার পর রয়েছেন রবার্ট ডি নিরো।

পিট চরিত্রটির মধ্যে অভিনয়ের প্রচুর সম্ভাবনা ছিল—পুরনো অপরাধের ভার, ছেলের সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছেদ, নাতিকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা এবং অতীতের সিদ্ধান্তের দায়। কিন্তু ডি নিরোকে অধিকাংশ দৃশ্যে এমন নিরুৎসাহিত লাগে, যেন তিনি চরিত্রের মধ্যে ঢোকার বদলে শুধু সংলাপগুলি শেষ করার অপেক্ষায় আছেন।

বিশেষ করে মাইকেল কিটনের সঙ্গে মুখোমুখি দৃশ্য থেকে যে তীব্রতা আশা করা যায়, তার ছিটেফোঁটাও মেলে না। দুই অভিজ্ঞ অভিনেতার সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব সেখানে পরিণত হয়েছে একেবারেই নিষ্প্রভ কথোপকথনে।

পরিচালক জেমস অ্যাশক্রফট অবশ্য পরিবেশ তৈরিতে কমতি রাখেননি। ধূসর রং, ম্লান আলো, অন্ধকার ঘর এবং বিষণ্ণ আবহ—সব মিলিয়ে ছবিকে ভারী করে তোলার চেষ্টা স্পষ্ট। কিন্তু রহস্যের পরিবেশ আর একঘেয়ে দৃশ্যসজ্জা এক জিনিস নয়। এখানে দ্বিতীয়টিই বেশি চোখে পড়ে।

ফলে ‘দ্য হুইস্পার ম্যান’ শেষ পর্যন্ত একটি অপচয় হওয়া সম্ভাবনার গল্প। চমৎকার উপন্যাস, ভয়ংকর বিষয়বস্তু এবং একাধিক প্রথম সারির অভিনেতা থাকা সত্ত্বেও ছবিটি সেই উপকরণগুলিকে প্রাণ দিতে পারেনি।

নামের মানুষটি ফিসফিস করে ঠিকই।

কিন্তু ভয় দেখানোর বদলে সেই ফিসফিসানি যেন কানে কানে বলে—“একটু ঘুমিয়ে নিন।”

ছবিটি নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles