সংস্কৃতি ও বিনোদন

‘টক্সিক’-এ যশের পাশে কারা?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মুক্তির পর থেকেই যশ অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে তুমুল মতভেদ।
  • কারও চোখে ছবির ভিজ্যুয়াল, নির্মাণের ব্যাপ্তি এবং যশের অভিনয় দারুণ, আবার কারও মতে কাহিনি ও পরিচালনার ধরন সেই জৌলুসের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
  • এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে উঠেছিল আর এক প্রশ্ন—যশের এত বড় বাজির পাশে কন্নড় চলচ্চিত্রজগতের প্রথম সারির তারকারা কোথায়?

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মুক্তির পর থেকেই যশ অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে তুমুল মতভেদ। কারও চোখে ছবির ভিজ্যুয়াল, নির্মাণের ব্যাপ্তি এবং যশের অভিনয় দারুণ, আবার কারও মতে কাহিনি ও পরিচালনার ধরন সেই জৌলুসের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।

এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে উঠেছিল আর এক প্রশ্ন—যশের এত বড় বাজির পাশে কন্নড় চলচ্চিত্রজগতের প্রথম সারির তারকারা কোথায়? যাঁদের কাছ থেকে প্রকাশ্য সমর্থন আশা করা হয়েছিল, তাঁরা কি মুখ ফিরিয়ে রয়েছেন?

এ বার সেই প্রশ্নেরই জবাব মিলল কিচ্চা সুদীপ, উপেন্দ্র এবং ঋষভ শেট্টির কথায়।

‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু’-র প্রায় চার বছর পর বড় পর্দায় ফিরেছেন যশ। গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’ মুক্তি পেয়েছে ২৬ আগস্ট। স্বাধীনতার কাছাকাছি সময়কে পটভূমি করে তৈরি এই অপরাধকাহিনিতে আবেগ, হিংসা এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েনকে একসঙ্গে মেশানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যশকে দেখা গিয়েছে দ্বৈত চরিত্রে। সঙ্গে রয়েছেন নয়নতারা, কিয়ারা আডবাণী, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত।

ছবিকে ঘিরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকতেই প্রকাশ্যে যশের পাশে দাঁড়ান সুদীপ। তাঁর যুক্তি, ‘কেজিএফ’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর যশ চাইলে খুব সহজেই নিরাপদ ফর্মুলার পথে হাঁটতে পারতেন। কিন্তু তার বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন নতুন ধরনের গল্প, আলাদা নির্মাণভাষা এবং বড় ঝুঁকি।

সুদীপের মতে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুধু তারকা হওয়ার আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন সাহস, ভিন্ন ভাবে ভাবার ক্ষমতা এবং নিজের সৃষ্টিশীল সিদ্ধান্তের উপর বিশ্বাস। ছবির প্রতিটি সিদ্ধান্ত দর্শকের পছন্দ নাও হতে পারে, কিন্তু সেই ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতাকে সম্মান করা উচিত।

উপেন্দ্রর প্রতিক্রিয়া ছিল আরও উচ্ছ্বসিত। ছবি দেখার পর তাঁর মন্তব্য, “কী ছবি! এক নতুন পৃথিবী, সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা।” অভিনেতা ও কলাকুশলীদের পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং সিনেমার প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করে যশ-সহ গোটা দলকে অভিনন্দন জানান তিনি।

তবে সেই প্রশংসাও বিতর্ক থামাতে পারেনি। কেউ উপেন্দ্রর সঙ্গে একমত হলেও সমালোচকদের একাংশের যুক্তি, চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল আর দুরন্ত অ্যাকশন দিয়ে দুর্বল কাহিনিকে ঢেকে রাখা যায় না।

‘কান্তারা’-খ্যাত ঋষভ শেট্টিও ‘টক্সিক’-কে দেখেছেন সাহসী পরীক্ষা হিসেবে। তাঁর মতে, কন্নড় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যশ যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাচ্ছেন, সেটি প্রশংসার যোগ্য। বর্ষীয়ান পরিচালক এস ভি রাজেন্দ্র সিং বাবুও যশের প্রশংসায় তাঁকে তুলনা করেছেন ‘কোহিনুর হীরে’র সঙ্গে।

তাহলে কন্নড় চলচ্চিত্রজগৎ কি সত্যিই যশকে একা ছেড়ে দিয়েছে?

সমাজমাধ্যমের সেই অভিযোগ অন্তত পুরোপুরি সত্যি বলে মনে হচ্ছে না। সুদীপ, উপেন্দ্র কিংবা ঋষভ কেউই ছবিটির প্রতিটি দিককে অন্ধ ভাবে সমর্থন করেননি। বরং তাঁদের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে অন্য একটি বিষয়—ঝুঁকি নেওয়ার সাহস।

‘টক্সিক’ বক্স অফিসে শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা বলবে দর্শক ও সময়। কিন্তু একটি বিষয়ে যশ ইতিমধ্যেই সফল—‘টক্সিক’ নিয়ে আলোচনার ঝড় তুলতে তিনি পেরেছেন।

আর কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির কয়েক জন বড় তারকা সেই ঝড়ের মাঝেই অন্তত একটা কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যশের পরীক্ষা তাঁরা দেখছেন, এবং তাঁকে একা ছেড়ে দেননি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles