হাইলাইটস:
- আলিয়া ভাটকে সমালোচনা বা বিদ্বেষের মোকাবিলা নিয়ে কখনও পরামর্শ দেন না মহেশ ভাট।
- তাঁর মতে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই শেখার সুযোগ দেওয়া উচিত।
- খ্যাতির সঙ্গে প্রশংসা যেমন আসে, তেমনই আসে তীব্র সমালোচনা—এটাই বাস্তব বলে মনে করেন তিনি।
- সন্তানদের জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করে ‘ছেড়ে দিতে শেখাই’ একজন অভিভাবকের বড় শিক্ষা বলে মন্তব্য তাঁর।
খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মহেশ ভাট প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে সাফল্যের পাশাপাশি তীব্র সমালোচনারও মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর একাধিক ছবি যেমন কালজয়ী বলে স্বীকৃতি পেয়েছে, তেমনই অনেক কাজ কঠোর সমালোচনার শিকারও হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন ও নানা মন্তব্য নিয়েও তাঁকে বহুবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দেখা গেছে। তাই আজ যখন তাঁর মেয়ে আলিয়া ভাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা, কটাক্ষ কিংবা বিদ্বেষের মুখে পড়েন, তখনও তিনি সচেতনভাবেই দূরত্ব বজায় রাখেন। এক সাক্ষাৎকারে মহেশ ভাট জানান, আলিয়াকে কখনও বলেন না কীভাবে সমালোচনা বা ট্রোলের মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রত্যেক মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হয়। একজন অভিভাবকের কাজ সন্তানের হয়ে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করে দেওয়া নয়; বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে।
মহেশ ভাটের মতে, জনপ্রিয়তার মূল্য চুকাতেই হয়। মানুষ যখন আলোচনার কেন্দ্রে থাকে, তখন প্রশংসা যেমন আসে, তেমনি নিন্দা, কটাক্ষ ও বিদ্বেষও আসে। এই বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই সমালোচনাকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সন্তান বড় হয়ে গেলে অভিভাবকদের একটি কঠিন শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়—‘ছেড়ে দিতে শেখা’। সন্তানকে নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলতে দেওয়া, ভুল করার স্বাধীনতা দেওয়া এবং সেই ভুল থেকে শেখার সুযোগ করে দেওয়াই প্রকৃত অভিভাবকত্বের পরিচয়। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।
মহেশ ভাটের এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষের জীবন আলাদা, তাই প্রত্যেকের লড়াইও আলাদা। একজন বাবা হিসেবে তিনি পাশে থাকবেন, কিন্তু সন্তানের হয়ে যুদ্ধ করবেন না। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মানুষকেই নিজের পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে তারকাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার বা ব্যক্তিগত আক্রমণ অনেক বেড়েছে। তবু মহেশ ভাট মনে করেন, এসবের জবাব সবসময় কথায় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সময়, কাজ এবং ব্যক্তিগত পরিপক্বতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হয়ে ওঠে।
আলিয়া ভাটের মতো নতুন প্রজন্মের তারকারা যে প্রবল জনসমালোচনার মধ্যে কাজ করছেন, তা স্বীকার করেও মহেশ ভাট তাঁদের মানসিক দৃঢ়তার ওপর আস্থা রাখেন। তাঁর মতে, অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ সবচেয়ে বড় শিক্ষা পায়, আর সেই শিক্ষাই তাকে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী করে তোলে।