- খুঁটিতে বেঁধে এক মহিলাকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য।
- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতী হওয়ার অভিযোগ তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার।
- ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
- পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে, অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।
- শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপে সরব।
খুঁটিতে বেঁধে এক মহিলাকে প্রকাশ্যে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ। নির্যাতিতার অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। শুধু তাই নয়, চুল ধরে টানাটানি, অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক মহিলাকে ঘিরে কয়েকজন চিৎকার-চেঁচামেচি করছে। তাঁকে মারধর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
নির্যাতিতার দাবি, তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে শিক্ষা দিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলছে এবং সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এখন প্রকাশ্য সন্ত্রাসে পরিণত হয়েছে। একজন মহিলাকে প্রকাশ্যে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ গণতান্ত্রিক সমাজে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তারা দাবি করেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের বক্তব্য, ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তেই সামনে আসবে এবং আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার ভিডিওও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল, রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত। বিশেষ করে কোনও মহিলাকে প্রকাশ্যে হেনস্তার অভিযোগ সামনে এলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের ব্যবস্থাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। তদন্তের ফল কী দাঁড়ায় এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর।