Table of Contents
হাইলাইটস:
- মাত্র তিনটি উপকরণে তৈরি হবে সুস্বাদু আমের জ্যাম।
- কোনও কৃত্রিম সংরক্ষণকারী ব্যবহার করতে হবে না।
- সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে প্রায় এক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
- সকালের নাশতা থেকে ডেজ়ার্ট—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে।
বাজারে নানা ধরনের ফলের জ্যাম সহজেই মিললেও সেগুলির অধিকাংশেই থাকে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম রং, ঘন করার উপাদান এবং সংরক্ষণকারী রাসায়নিক। তাই স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই এখন বাড়িতে তৈরি খাবারের দিকেই ঝুঁকছেন। বিশেষ করে গরমের মরশুমে যখন পাকা আম সহজলভ্য, তখন সেই আম দিয়েই বাড়িতে তৈরি করা যায় সুস্বাদু, টাটকা এবং তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর জ্যাম।
জনপ্রিয় শেফ ও ‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’-র বিচারক কুণাল কাপুর সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর সহজ একটি আমের জ্যামের রেসিপি ভাগ করে নিয়েছেন। মাত্র তিনটি উপকরণ ব্যবহার করেই এই জ্যাম তৈরি করা যায়। এতে কোনও কৃত্রিম সংরক্ষণকারী ব্যবহার করতে হয় না। তাঁর মতে, পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত কাচের বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখলে এই জ্যাম সহজেই এক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। সঠিকভাবে ক্যানিং করে মুখবন্ধ অবস্থায় সংরক্ষণ করলে আরও দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব।
কী কী লাগবে
- পাকা আমের শাঁস – ৫০০ গ্রাম
- চিনি – ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম (আমের মিষ্টতা অনুযায়ী কমবেশি করা যাবে)
- একটি পাতিলেবুর রস
কীভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে পাকা আমের খোসা ছাড়িয়ে শাঁস ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে দিয়ে একেবারে মসৃণ পিউরি তৈরি করুন। একটি ভারী তলার কড়াই বা পাত্রে আমের পিউরি ঢেলে তার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে রান্না শুরু করুন। মাঝেমধ্যে নাড়তে থাকুন যাতে তলায় লেগে না যায়। মিশ্রণটি ধীরে ধীরে ঘন হতে শুরু করলে পাতিলেবুর রস যোগ করুন। পাতিলেবুর রস শুধু স্বাদই বাড়ায় না, জ্যামের রং উজ্জ্বল রাখতেও সাহায্য করে এবং প্রাকৃতিক সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। এরপর আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। মিশ্রণটি এমন ঘন হয়ে এলে যে চামচে তুলে ফেললে ধীরে ধীরে পড়ে, তখন বুঝতে হবে জ্যাম প্রায় তৈরি।
জ্যাম তৈরি হয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে?
একটি ঠান্ডা প্লেটে সামান্য জ্যাম ফেলে এক মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর আঙুল দিয়ে আলতো করে ঠেলে দেখুন। যদি উপরের অংশে হালকা ভাঁজ পড়ে এবং সহজে না ছড়ায়, তা হলে জ্যাম ঠিকমতো তৈরি হয়েছে।
সংরক্ষণের নিয়ম
জ্যাম সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পর জীবাণুমুক্ত ও শুকনো কাচের বোতলে ভরে মুখ শক্ত করে বন্ধ করুন। সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো চামচ ব্যবহার করুন। এতে জ্যাম দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। ফ্রিজে রাখলে প্রায় এক মাস পর্যন্ত স্বাদ ও গুণমান বজায় থাকে।
কীভাবে খাবেন?
এই আমের জ্যাম শুধু পাউরুটির সঙ্গে নয়, রুটি, পরোটা, প্যানকেক, ওটস, দই, কেকের স্তর, কুকিজ বা আইসক্রিমের টপিং হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এমনকি দুধ বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়েও এটি একটি সুস্বাদু ফলের স্প্রেড হিসেবে পরিবেশন করা যায়। গ্রীষ্মের শেষ দিকে যখন বাজারে ভালো মানের পাকা আম সহজলভ্য, তখন এই সহজ রেসিপি অনুসরণ করে বাড়িতেই তৈরি করে রাখতে পারেন টাটকা আমের জ্যাম। এতে যেমন বাজারের অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত পণ্যের উপর নির্ভরতা কমবে, তেমনই পরিবারের সদস্যদের জন্য তৈরি হবে খাঁটি ফলের স্বাদে ভরপুর একটি ঘরোয়া উপাদেয় খাবার।