Table of Contents
ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার ভিডিওতে তাঁর জনপ্রিয় গান ‘Firework’ ব্যবহার করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন কেটি পেরি। মার্কিন পপ তারকার অভিযোগ, তাঁর অনুমতি ছাড়াই হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে গানটি ব্যবহার করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের একটি নৌযানে আঘাত হানছে। সেই দৃশ্যের পটভূমিতে বাজছে কেটি পেরির জনপ্রিয় গান ‘Firework’। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “Iran has been warned” বা ‘ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে’। ইতিমধ্যেই ভিডিওটি ৬০ লক্ষেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।
শনিবার এক্স-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে কেটি পেরি বলেন, সামরিক হামলার ভিডিওর সঙ্গে তাঁর গান ব্যবহার করা দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। তাঁর দাবি, গানটি ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং তাঁকে কিছু জানানোও হয়নি।
‘আমার গান যুদ্ধ উদ্যাপনের জন্য নয়’
কেটি পেরির বক্তব্য, ‘Firework’ গানটি তিনি লিখেছিলেন মানুষের কঠিন সময়ে আশা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক শক্তির প্রতীক হিসেবে।
তাঁর মতে, আত্মমর্যাদা ও অনুপ্রেরণার বার্তাবাহী একটি গানকে ধ্বংস এবং হিংসার দৃশ্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া গানের মূল ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর সঙ্গীত মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য, যুদ্ধ উদ্যাপনের জন্য নয়—সাফ জানিয়েছেন গায়িকা।
শিল্পীদের গান নিয়ে বারবার বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন
কেটি পেরি একা নন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন প্রচারমূলক ভিডিওতে শিল্পীদের অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে এর আগেও একাধিক তারকা প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন।
অলিভিয়া রডরিগো তাঁর গান অভিবাসী বহিষ্কারের প্রচারমূলক ভিডিওতে ব্যবহার হওয়ায় সমালোচনা করেছিলেন। বেয়ন্সে তাঁর ‘Freedom’ গান ট্রাম্পের প্রচার ভিডিওতে ব্যবহার বন্ধ করতে বাধ্য করেন। গানটি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের প্রচারের অন্যতম প্রধান সঙ্গীত ছিল।
কেশাও সামরিক প্রচারমূলক টিকটক ভিডিওতে তাঁর ‘Blow’ গান ব্যবহারের প্রতিবাদ করেছিলেন। সাবরিনা কার্পেন্টারের ‘Juno’ গান আইসিই-এর অভিবাসী গ্রেপ্তারের ভিডিওতে ব্যবহার হওয়ার পর তিনিও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জুন মাসে অ্যারিয়ানা গ্রান্ডে তাঁর ‘Bye’ গান অভিবাসী ধরপাকড়ের প্রচারে ব্যবহারের সমালোচনা করেন। ব্রিটিশ গায়িকা জেস গ্লিনও তাঁর ‘Hold My Hand’ গান আইসিই-এর বহিষ্কার অভিযান প্রচারে ব্যবহার করা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও ট্রাম্পের সঙ্গে পরোক্ষ যোগসূত্র
কেটি পেরির ব্যক্তিগত জীবনও এই বিতর্কে আলাদা করে আলোচনায় এসেছে। গত ডিসেম্বরে প্রকাশ্যে আসে, তিনি কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন।
ট্রুডোও দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষের লক্ষ্য। কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে শুরু করে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইঙ্গিত—বিভিন্ন মন্তব্যে ট্রাম্প তাঁকে আক্রমণ করেছেন।
ইরান সংঘাতে হতাহতের হিসাব নিয়েও বিতর্ক
এদিকে ইরান-আমেরিকা সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের হিসাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৪ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪২০ জন আহত হয়েছেন।
তবে কয়েক দিন আগের সরকারি হিসাবের সঙ্গে এই সংখ্যার বড় পার্থক্য থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৮ এবং আহত ৪৮২ জন।
৬ জুলাই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে প্রায় প্রতিদিন হামলা শুরু হওয়ায় হতাহতদের কীভাবে গণনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির আগে এবং পরে চলা হামলাকে আলাদা সামরিক অভিযান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। সেই কারণেই হতাহতের পৃথক হিসাব রাখা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসিও এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, পেন্টাগন এমনভাবে পরিস্থিতি দেখাতে চাইছে যেন যুদ্ধবিরতির আগে ও পরে দুটি আলাদা ইরান যুদ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৯০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইন ভঙ্গ করছেন এবং তাঁর জবাবদিহি হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, ইরানে সামরিক হামলার ভিডিওতে ‘Firework’ ব্যবহারের ঘটনাটি ফের সামনে এনে দিল শিল্পীদের সঙ্গীত ব্যবহারের অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রচারে জনপ্রিয় গান ব্যবহারের বিতর্ক। কেটি পেরির স্পষ্ট বার্তা—আশা ও আত্মবিশ্বাসের গানকে যুদ্ধের প্রচারে ব্যবহার করা তিনি মেনে নেবেন না।