হাইলাইটস
- সাইবেরিয়ার ওমস্ক তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার দাবি ইউক্রেনের।
- প্রায় ২,৭০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হানার দাবি কিয়েভের।
- কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত; ন্যাটোর কাছে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চাইলেন জেলেনস্কি।
- ন্যাটো শীর্ষ বৈঠকের আগে দুই পক্ষের হামলা পাল্টা হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
- ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান “মানুষের ধারণার চেয়েও কাছাকাছি”।
ন্যাটো শীর্ষ বৈঠকের আগে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের দাবি, তাদের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারগুলির একটি—সাইবেরিয়ার ওমস্ক রিফাইনারিতে আগুন লেগেছে। কিয়েভের মতে, ইউক্রেন-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে প্রায় ২,৭০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এটি যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম দীর্ঘ-পাল্লার সফল হামলা।
ওমস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভিতালি খোৎসেঙ্কো হামলার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবুও শোধনাগারের একটি অংশে আগুন লাগে। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানকে বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, “এখন সাইবেরিয়াও ইউক্রেনের নির্ভুল আঘাতের আওতায়।” ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা ফায়ার পয়েন্ট-এর দাবি, তাদের উন্নত সংস্করণের এফপি-১ ড্রোন ব্যবহার করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এত দীর্ঘ দূরত্বে ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন মাইলফলক বলেও দাবি সংস্থার।
শুধু ওমস্ক নয়, ইউক্রেনের দাবি, একই সময়ে রাশিয়ার বাল্টিক উপকূলের উস্ত-লুগা ও ভিসোৎস্ক বন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে। এই বন্দরগুলির মাধ্যমে রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল রফতানি হয়। পাশাপাশি কালুগা ও ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলেও হামলার খবর দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
অন্যদিকে, সোমবার ফের কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। আবাসিক বহুতলে আঘাত হানায় অন্তত ২১ জন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই রাজধানীতে আরেকটি বড় হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ২৭ জন।
এই পরিস্থিতিতে ন্যাটোর কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছেন জেলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, আধুনিক বিশ্বে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য আরও কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত। আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ বৈঠক থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটেও বলেছেন, ইউক্রেনের প্রতি মিত্র দেশগুলির সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান “মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি কাছাকাছি।”
ইউক্রেনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই অন্তত সাতটি ন্যাটো দেশের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি করার লক্ষ্য নিয়েছে কিয়েভ। ইতিমধ্যে ছয়টি দেশের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তি সংক্রান্ত সমঝোতা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামরিক সহায়তার গ্রহীতা থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অংশীদার হিসেবেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে ইউক্রেন।
এদিকে ইউক্রেনে আজারবাইজানের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা সোকার-এর একটি স্থাপনায় রুশ ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বাকু। আজারবাইজানের দাবি, তাদের জ্বালানি অবকাঠামো বারবার হামলার মুখে পড়ছে। যদিও এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, পোল্যান্ড জানিয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তারা ইউক্রেনকে মোট ৩৮০ কোটি ইউরো মূল্যের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ওয়ারশের দাবি, ইউক্রেনকে সমর্থন জানাতে তারা ভবিষ্যতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।