হাইলাইটস
- ‘সতলুজ’-এর জন্য প্রতীকীভাবে মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ।
- পরিচালক হানি ত্রেহানের দাবি, দিলজিৎ না থাকলে ছবিটিই তৈরি হতো না।
- জসবন্ত সিং খালরার চরিত্রে একজন প্রকৃত শিখ অভিনেতাকেই চেয়েছিলেন পরিচালক।
- সেন্সর জটিলতার পর মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জি৫ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় ছবিটি।
মুক্তির আগেই সেন্সর বোর্ডের আপত্তিতে বিতর্কে জড়িয়েছিল ‘সতলুজ’। পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেলেও মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই বিতর্কের মাঝেই এবার ছবি নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে আনলেন পরিচালক হানি ত্রেহান।
সম্প্রতি দ্য প্রিন্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘সতলুজ’-এ অভিনয়ের জন্য দিলজিৎ দোসাঞ্জ নিয়েছিলেন মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক। পরিচালকের কথায়, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রতীকী নয়, ছবির প্রতি অভিনেতার গভীর অঙ্গীকারেরই প্রমাণ।
হানি ত্রেহান বলেন, “দিলজিৎ না থাকলে এই ছবিটাই তৈরি হতো না। আমি এমন একজন অভিনেতাকে খুঁজছিলাম, যিনি সেই সমাজ, সেই সংস্কৃতি এবং সেই বাস্তবতাকে ভেতর থেকে চেনেন।”
ছবিটি নির্মিত হয়েছে মানবাধিকার কর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবন অবলম্বনে। তাই শুরু থেকেই কোনও জনপ্রিয় বলিউড তারকার বদলে একজন প্রকৃত শিখ অভিনেতাকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পরিচালক।
তাঁর যুক্তি, অন্য কোনও তারকাকে নেওয়া হলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠত তাঁর মেকওভার বা চরিত্রে রূপান্তর, অথচ আড়ালে পড়ে যেত খালরার সংগ্রাম এবং ছবির মূল বার্তা।
পরিচালকের ভাষায়, “যদি কোনও বলিউড অভিনেতা শিখ চরিত্রে অভিনয় করতেন, তাহলে সবাই তাঁর রূপান্তর নিয়েই কথা বলত। এতে খালরা সাহেবের জীবনসংগ্রাম এবং যাঁদের যন্ত্রণা এই ছবি তুলে ধরে, তাঁদের প্রতি অবিচার হতো।”
উল্লেখ্য, ‘সতলুজ’ মুক্তির আগে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ড (সিবিএফসি)-র সঙ্গে ছাড়পত্র নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত ওটিটিতে মুক্তি পেলেও মাত্র দু’দিনের মধ্যেই ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
হানি ত্রেহানের বক্তব্যে স্পষ্ট, ‘সতলুজ’ শুধু একটি সিনেমা ছিল না; এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক কাহিনি তুলে ধরার চেষ্টা। আর সেই কারণেই বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে বিষয়টির গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতীকীভাবে মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ—যা আজও ছবিটিকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।