শি-র শুদ্ধি অভিযানে আরেক পলিটব্যুরো সদস্যের পতন

যা জানা জরুরি
- হাইলাইটস দুর্নীতির অভিযোগে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কৃত শিনজিয়াংয়ের সাবেক পার্টি প্রধান মা শিংরুই।
- অভিযোগ, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, পারিবারিক দুর্নীতি ও যৌন সুবিধা আদায়ে প্রভাব খাটিয়েছেন।
- শি জিনপিংয়ের আমলে শীর্ষ নেতৃত্বে শুদ্ধি অভিযান আরও তীব্র হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাইলাইটস
- দুর্নীতির অভিযোগে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কৃত শিনজিয়াংয়ের সাবেক পার্টি প্রধান মা শিংরুই।
- অভিযোগ, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, পারিবারিক দুর্নীতি ও যৌন সুবিধা আদায়ে প্রভাব খাটিয়েছেন।
- শি জিনপিংয়ের আমলে শীর্ষ নেতৃত্বে শুদ্ধি অভিযান আরও তীব্র হয়েছে।
- বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি এটি ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করার কৌশলও হতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এবার পতন হল আরেক শীর্ষ নেতার। দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে শিনজিয়াংয়ের সাবেক পার্টি প্রধান ও পলিটব্যুরোর সদস্য মা শিংরুইকে। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর জন্য বিষয়টি প্রসিকিউটরদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম।
এই বহিষ্কারের ফলে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা, সাধারণত ২৪ সদস্যের পলিটব্যুরো, আরও একটি সদস্য হারাল।
কী অভিযোগ মা শিংরুইয়ের বিরুদ্ধে?
পার্টির শৃঙ্খলা সংস্থার অভিযোগ, মা শিংরুই বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেছেন, পরিবারের সদস্যদের ঘিরে দুর্নীতির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন এবং নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে চাকরি, ব্যবসায়িক সুবিধা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ ও প্রভাবের বিনিময়ে যৌন সুবিধা আদায়েও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
যদিও অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে চীনের নিয়ম অনুযায়ী এমন বহিষ্কারের পর সাধারণত দীর্ঘ কারাদণ্ডের পথই খুলে যায়।
মহাকাশ প্রকৌশলী থেকে শীর্ষ নেতা, তারপর পতন
রাজনীতিতে আসার আগে মা শিংরুই ছিলেন চীনের একজন খ্যাতনামা মহাকাশ প্রকৌশলী। দেশের চন্দ্র অভিযান কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। পরে গুয়াংদংয়ের গভর্নর, শেনঝেনের পার্টি প্রধান এবং শেষ পর্যন্ত শিনজিয়াংয়ের পার্টি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পার্টি অনুষ্ঠানে আর দেখা যাচ্ছিল না। চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় শৃঙ্খলা কমিশন। জুনে তিনি জাতীয় গণকংগ্রেসের সদস্যপদও হারান। অবশেষে এবার পার্টি থেকেও বহিষ্কার করা হল তাঁকে।
শি জিনপিংয়ের শুদ্ধি অভিযান কতটা বিস্তৃত?
চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণত পাঁচ বছর অন্তর বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়। কিন্তু শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রচলিত ধারা বদলে গেছে। গত এক দশকে একের পর এক শীর্ষ নেতা, সামরিক কর্মকর্তা এবং মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২২ সালের পার্টি কংগ্রেসের পর এই অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী, এক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শতাধিক জেনারেল ও বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে বা তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে।
মাও সেতুং-পরবর্তী সময়ে শি জিনপিংয়ের আমলেই সবচেয়ে বেশি পলিটব্যুরো সদস্য বহিষ্কৃত হয়েছেন।
দুর্নীতি নাকি রাজনৈতিক বার্তা?
চীনে শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতির মামলাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রশাসনিক শুদ্ধির পাশাপাশি ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করার একটি কার্যকর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
তবে মা শিংরুইয়ের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কোনও প্রকাশ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধের তথ্য সামনে আসেনি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগই বহিষ্কারের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এবার কী হতে পারে?
সরকারি অভিযোগের ভাষা দেখে বিশ্লেষকদের ধারণা, মা শিংরুইয়ের দীর্ঘ কারাদণ্ড প্রায় নিশ্চিত। যদিও মাও-পরবর্তী সময়ে কোনও সাবেক পলিটব্যুরো সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, তবু শি জিনপিং প্রচলিত রাজনৈতিক রীতিনীতি ভাঙতে পিছপা হন না বলেই পরিচিত।
ফলে এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—চীনের শীর্ষ ক্ষমতার কেন্দ্রে শি জিনপিংয়ের শুদ্ধি অভিযান এখনও থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



