FIFA 2026

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মালভিনাস ব্যানার হাতে উদ্‌যাপন, বিতর্কে আর্জেন্টিনা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর মাঠেই ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করে বিতর্কের জন্ম দিল আর্জেন্টিনার…
  • ব্যানারটি ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত) যুদ্ধের প্রসঙ্গকে সামনে নিয়ে আসে।
  • আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর মাঠেই ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করে বিতর্কের জন্ম দিল আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ব্যানারটি ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত) যুদ্ধের প্রসঙ্গকে সামনে নিয়ে আসে।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। পরে টানা দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে তারা। রবিবার নিউ জার্সিতে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।

ব্রিটেনে যেটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, আর্জেন্টিনায় সেটিই ইসলাস মালভিনাস নামে পরিচিত। এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ১৯৮২ সালে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সংঘাতে ৯০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ছিলেন ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ।

সেমিফাইনাল জয়ের পর লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি হাতে তুলে সমর্থকদের দিকে নাড়াতে দেখা যায়। ব্যানারটি কোথা থেকে এল, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

এটি এই বিশ্বকাপে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার নিয়ে প্রথম বিতর্ক নয়। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের একটি ম্যাচে তেহরান সরকারের বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে প্রাক-বিপ্লবী ইরানি পতাকা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ইরানি-আমেরিকান সমর্থকরা। যদিও সেই ম্যাচে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারকে বলতে শোনা যায়, “মালভিনাসের জন্য, দিয়েগোর (মারাদোনা) জন্য এবং লিও (মেসি)-র শেষ বিশ্বকাপের জন্য।”

এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল বলেন,
“আমরা জানি, এই ম্যাচ শুধু ফুটবল নয়, এর সঙ্গে দিয়েগোর স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। আমরা মালভিনাসের বীরদের স্মরণে গান গাই। তবে এটাও বুঝতে হবে, এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। মালভিনাস নিয়ে আলোচনা অন্য জায়গায় হওয়া উচিত। যা ঘটেছিল, তা ছিল এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। নিহতদের আমরা সবসময় স্মরণ করি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল এই ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠা।”

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভিতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক বার্তাবাহী ব্যানার, পতাকা, পোস্টার বা অন্যান্য সামগ্রী প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে ফিফার কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা জানান, ফাইনাল উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রায় ১,৬০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবে। আমরা চাই উদ্‌যাপন শান্তিপূর্ণ হোক। রাজনৈতিক বা জাতিগত উসকানিমূলক বার্তা বহনকারী কোনও সামগ্রী স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles