মধু, হুল আর ম্যাথিউর প্রত্যাবর্তন

যা জানা জরুরি
- প্রায় সাড়ে ছয় বছরের বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে।
- তাঁর প্রত্যাবর্তনের ছবি দ্য রাইভালস অব অ্যামজায়া কিং।
- মধু উৎপাদনকে ঘিরে তৈরি এই অপরাধ-নাট্যে রয়েছে পারিবারিক টানাপড়েন, হাস্যরস, লোকসঙ্গীত এবং আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিজস্ব জীবনযাত্রার উষ্ণতা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রায় সাড়ে ছয় বছরের বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে। তাঁর প্রত্যাবর্তনের ছবি দ্য রাইভালস অব অ্যামজায়া কিং। মধু উৎপাদনকে ঘিরে তৈরি এই অপরাধ-নাট্যে রয়েছে পারিবারিক টানাপড়েন, হাস্যরস, লোকসঙ্গীত এবং আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিজস্ব জীবনযাত্রার উষ্ণতা। ১৪ আগস্ট আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি।
কিন্তু এত বছর পর ফেরার জন্য এই ছবিটিই কেন? ম্যাককনাহের উত্তর, গল্পটির প্রাণ, রসবোধ, সঙ্গীত, কবিতা এবং নিজস্ব আবহ তাঁকে শুরু থেকেই টেনেছিল। তাঁর মনে হয়েছিল, ছবির সময়, পরিবেশ এবং চরিত্রগুলি অন্যরকম। সেই মানুষগুলির ভালবাসা, ঝগড়া, একে অপরের প্রতি টান এবং কঠিন সময়েও গান ও হাসিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার ক্ষমতা তাঁকে বিশেষ ভাবে ছুঁয়ে যায়।
অ্যান্ড্রু প্যাটারসনের লেখা ও পরিচালিত ছবিতে ম্যাককনাহে অভিনয় করেছেন অ্যামজায়া কিংয়ের চরিত্রে। তিনি একদিকে স্থানীয় মধু উৎপাদক ও মৌমাছি পালনকারী, অন্য দিকে প্রতিবেশীদের নিয়ে গড়া লোকসঙ্গীতের দলের ব্যাঞ্জোবাদক। তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষকে একসঙ্গে বেঁধে রাখার ক্ষমতা। ম্যাককনাহের মতে, এই মুহূর্তে পৃথিবীর কাছে এমন বার্তার মূল্য আরও বেড়েছে।
কিংয়ের জীবন আচমকাই অন্য দিকে মোড় নেয়, যখন তাঁর সঙ্গে ফের যোগাযোগ হয় কাতেরির। আদিবাসী আমেরিকান এই তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ২২ বছরের অ্যাঞ্জেলিনা লুকিংগ্লাস। বহু বছর আগে প্রয়াত স্ত্রীর সঙ্গে কাতেরিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন কিং। এবার তিনি চান, কাতেরি নিজের সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হোক এবং একই সঙ্গে মধুর ব্যবসা ও নেতৃত্বের দায়িত্বও গ্রহণ করুক।
কিন্তু খুব দ্রুত কাতেরি বুঝতে পারে, মধুর দুনিয়া বাইরে থেকে যতটা মিষ্টি, ভিতরে ততটাই কঠিন। ব্যবসার আড়ালে রয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা, ষড়যন্ত্র এবং বিপদের সম্ভাবনা।
লুকিংগ্লাসের মতে, কাতেরিকে দেখে প্রথমে অনেকেরই দুর্বল মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সে বুদ্ধিমান, দৃঢ়চেতা এবং নিজের পথ নিজেই তৈরি করতে জানে। পরিচালক প্যাটারসনও জানিয়েছেন, এমন এক তরুণীকে গল্পের কেন্দ্রে রাখার ভাবনা থেকেই ছবিটির মূল ধারণা তৈরি হয়েছিল।
ছয় বছরের বিরতি কেন?
২০১৯ সালের দ্য জেন্টলমেন-এর পর চলচ্চিত্র থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিলেন ম্যাককনাহে। সেই সময় নিজের স্মৃতিকথা গ্রিনলাইটস লেখায় মন দেন তিনি। পরে দ্য লস্ট বাস-এ তাঁকে দেখা গেলেও সেটির শুটিং হয়েছিল দ্য রাইভালস অব অ্যামজায়া কিং-এর পর। ফলে প্যাটারসনের ছবিটিই বাস্তবে তাঁর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তনের প্রথম কাজ।
আর সেই প্রত্যাবর্তন মোটেই ঝুঁকিহীন ছিল না। ছবির জন্য জীবন্ত মৌমাছির সঙ্গে শুটিং করতে গিয়ে ম্যাককনাহে জানতে পারেন, মৌমাছির হুলে তাঁর গুরুতর অ্যালার্জি রয়েছে। তবু কয়েক হাজার জীবন্ত মৌমাছিকে ঘিরে দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তিনি।
সেখানেই যেন ছবিটির সবচেয়ে বড় রূপকটি লুকিয়ে আছে—মধু পেতে হলে হুলের ভয়ও সামলাতে হয়। জীবনের মতোই ম্যাককনাহের প্রত্যাবর্তনও তাই শুধু মিষ্টি নয়; তার সঙ্গে রয়েছে ঝুঁকি, অস্বস্তি এবং নতুন করে শুরু করার সাহস।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



