Home খবরদেশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান: লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ

ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান: লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ

৩০ জুন দায়িত্ব গ্রহণ, অবসর নিচ্ছেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী

Authored By Diptyajit Roy Chowdhury
31 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

• ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত হতে চলেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ।
• আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের এই শীর্ষ সামরিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
• বর্তমানে তিনি ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ (VCOAS) পদে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কর্মরত রয়েছেন।
• প্রায় চার দশকের (৪০ বছর) সুদীর্ঘ ও গৌরবময় মাঠপর্যায়ের সামরিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
• আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে নতুন গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আসতে চলেছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠকে দেশের পরবর্তী সেনাপ্রধান (Chief of the Army Staff – COAS) হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি আগামী ৩০ জুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই দিনে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (General Upendra Dwivedi) তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবন শেষে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করবেন।

বর্তমানে ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘আর্মার্ড কোর’ (Armoured Corps) বা সাঁজোয়া বাহিনীর একজন চৌকস অফিসার। ১৯৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি ‘২ ল্যান্সার্স’ (2 Lancers)-এ কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল এবং কৌশলগত অঞ্চলে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ব্রিগেড, ডিভিশন, কোর এবং কমান্ড স্তরে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বর্তমান পদের আগে তিনি সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ (GOC-in-C, Southern Command) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের ভৌগোলিক দিক থেকে এটি অন্যতম বৃহত্তম কমান্ড, যা দেশের এক বিস্তীর্ণ অংশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। এছাড়া, তিনি জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ অঞ্চলের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্তে অপারেশনের গভীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি সেনাবাহিনীর বিখ্যাত ‘২১ কোর’ (21 Corps/Sudarshan Chakra Corps)-এর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান একটি স্ট্রাইক কোর (Strike Corps)। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও কাজ করার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘের অংশ হিসেবে তিনি আঙ্গোলায় (UNAVEM-III) মিলিটারি পর্যবেক্ষক (Military Observer) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক সামরিক কূটনীতিতে তাঁর দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি ভারতের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমি (NDA)-র একজন প্রাক্তনী। সামরিক শিক্ষার বিভিন্ন উচ্চতর ও আধুনিক প্রশিক্ষণও তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। দেশ-বিদেশের একাধিক খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, যা তাঁর কৌশলগত ও পেশাগত দক্ষতাকে বিশ্বমানের করে তুলেছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেঠ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আধুনিকীকরণ, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সরাসরি যুদ্ধ প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। যান্ত্রিক যুদ্ধাভিযান (Mechanised Warfare)-এ তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ, সীমান্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলিতে তাঁর অভিজ্ঞতা প্রতিরক্ষা মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত।

তাঁর এই নিয়োগ এমন এক জটিল সময়ে হচ্ছে যখন ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একদিকে যেমন প্রথাগত সীমান্ত নিরাপত্তার নিখুঁত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার যুদ্ধ (Cyber Warfare) এবং তথ্যভিত্তিক সামরিক অভিযানের (Information Warfare) মতো নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। ফলে নতুন সেনাপ্রধানের সামনে প্রধান দায়িত্ব থাকবে ভারতীয় বাহিনীর সামগ্রিক রূপান্তর এবং আধুনিকীকরণকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা।

বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর আমলে সীমান্তে কার্যকর সেনা মোতায়েন, তিন বাহিনীর মধ্যে যৌথতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামরিক সংস্কারের নানা দূরদর্শী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা ও গতি বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের হাইব্রিড যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য ভারতীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করার গুরুদায়িত্ব এখন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠের কাঁধে এসে পড়ল।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রতি তাঁর অসামান্য, নিষ্ঠাপূর্ণ এবং অনুকরণীয় সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক সর্বোচ্চ সামরিক পদকে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘অতি বিশিষ্ট সেবা পদক’ (AVSM) এবং ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ (VSM)।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও সক্ষম, চটপটে এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে পরিণত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগামী কয়েক বছর ভারতের জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি বাস্তবায়নে তাঁর নেতৃত্ব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles