এনসিপিআই (ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি অব ইন্ডিয়া)-র সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে শহরের একাধিক জায়গায় পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। পোস্টারগুলিতে সাংসদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হলেও, কোথাও কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই প্রচারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। তবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি—দুই দলের নেতারাই এই পোস্টার-কাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। উভয় পক্ষেরই দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এই ধরনের পোস্টার লাগানো হয়েছে।
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, এ ধরনের পোস্টার রাজনীতির সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী। কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে জানানো উচিত। পোস্টারের মাধ্যমে কুৎসা রটানোর রাজনীতিতে তৃণমূল বিশ্বাস করে না বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা তাপস রায়ও একই সুরে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে অনেক সময় অজ্ঞাত পরিচয়ে পোস্টার লাগিয়ে অন্য দলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা হয়। প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এনসিপিআই-র পক্ষ থেকেও ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দলের বক্তব্য, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এভাবে নিশানা করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে শুভ নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে যেখানে পোস্টার লাগানো হয়েছে, সেই সব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পোস্টারগুলি কখন লাগানো হয়েছে, কারা লাগিয়েছে এবং কোথা থেকে ছাপানো হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে পোস্টারের কাগজ, মুদ্রণ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে বা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সময়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে পোস্টার লাগিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার ঘটনা নতুন নয়। তবে এই ধরনের প্রচারের দায় সাধারণত কোনও রাজনৈতিক দলই স্বীকার করে না। ফলে প্রকৃত নেপথ্য শক্তিকে চিহ্নিত করাই তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ পুলিশ। এখন নজর, তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী তথ্য সামনে আসে এবং পোস্টার-কাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে।