International

সীমান্তে ফের ‘লাইন’ মিলছে?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি ও বেজিং: সীমান্ত বিরোধ মেটানোর পথে আরও এক ধাপ এগোল ভারত ও চিন।
  • সীমান্ত নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
  • একই সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভুল বোঝাবুঝি বা হঠাৎ উত্তেজনা এড়াতে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তাদের বৈঠকের জন্য আরও দু’টি স্থান এবং পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে দু’টি…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি ও বেজিং: সীমান্ত বিরোধ মেটানোর পথে আরও এক ধাপ এগোল ভারত ও চিন। সীমান্ত নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভুল বোঝাবুঝি বা হঠাৎ উত্তেজনা এড়াতে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তাদের বৈঠকের জন্য আরও দু’টি স্থান এবং পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে দু’টি নতুন সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকের পরই এই সমঝোতার কথা সামনে এসেছে।

২৫ অগস্ট বেজিংয়ে ভারত–চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক হয়। পরদিন দুই দেশ আট দফা সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্য প্রকাশ করে। সেখানে সীমান্ত সমস্যার ‘ন্যায্য, যুক্তিসংগত এবং পারস্পরিক ভাবে গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি বজায় রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিবেশ তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

‘আর্লি হারভেস্ট’-এ নজর

এ বারের বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলির একটি হল সীমান্ত নির্ধারণের আলোচনায় দ্রুত বাস্তব ফল পাওয়ার চেষ্টা। কূটনৈতিক ভাষায় যার নাম ‘আর্লি অ্যান্ড সাবস্ট্যানশিয়াল হারভেস্ট’

সহজ কথায়, যেসব জায়গায় মতপার্থক্য তুলনায় কম, সেগুলিতে আগে সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা। কঠিন ও বিতর্কিত বিষয়গুলির আলোচনা চলবে, কিন্তু অপেক্ষাকৃত সহজ জায়গায় দ্রুত অগ্রগতি হলে গোটা প্রক্রিয়াতেই গতি আসতে পারে।

তবে কোন কোন এলাকা বা বিষয়ে এই উদ্যোগ কার্যকর হবে, তা প্রকাশিত আট দফা সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট করা হয়নি। তাই এটিকে সীমান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সূচনা বলে ধরে নেওয়ার মতো পর্যায়ে এখনও পৌঁছনো যায়নি।

এই প্রক্রিয়ায় কাজ করবে সীমান্ত নির্ধারণের বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কার্যকরী গোষ্ঠী। দুই গোষ্ঠীকেই নিজেদের কাজের পরিধি ও শর্ত নিয়ে আগে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। গত বছরের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে এই দুই গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ বারের সমঝোতা সেই উদ্যোগকেই আরও এগিয়ে নিল।

পুরনো কাঠামোতেই নতুন গতি

সীমান্ত সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আলোচনায় ২০০৫ সালের রাজনৈতিক মানদণ্ড ও পথনির্দেশক নীতিসংক্রান্ত চুক্তিকেই ভিত্তি হিসেবে রাখছে দুই দেশ। পরবর্তী বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠকগুলিতে তৈরি হওয়া ঐকমত্যও বিবেচনায় থাকবে।

অর্থাৎ, নতুন করে কোনও কাঠামো তৈরির বদলে পুরনো কূটনৈতিক কাঠামোকেই সচল করে তার মধ্যে বাস্তব অগ্রগতি আনার চেষ্টা চলছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনাও ফের সামনে আনা হয়েছে।

সীমান্তে ‘হটলাইন’-এর ছোঁয়া

মাঠপর্যায়ে কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তা সামলাতে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সেনা কমান্ডারদের বৈঠক, সীমান্তসংক্রান্ত যৌথ পরামর্শব্যবস্থা এবং অন্যান্য সম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দ্রুত মেটানোর চেষ্টা হবে।

এর পাশাপাশি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তাদের বৈঠকের জন্য আরও দু’টি স্থান নির্ধারণে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে দু’টি নতুন সরাসরি সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

তবে নতুন বৈঠকস্থলগুলি কোথায় হবে বা যোগাযোগব্যবস্থা কবে চালু হবে, তা এখনও জানানো হয়নি। ফলে এর কার্যকারিতা কতটা হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবে এগুলি কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর ভাবে চালু করা যায় তার উপর।

নদী থেকে কৈলাস—আলোচনার পরিধি বাড়ছে

সীমান্তের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত নদীর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে নদীসংক্রান্ত ভারত–চিন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক হবে। নদীর জলস্তর ও প্রবাহসংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সমঝোতাপত্র পুনর্নবীকরণ নিয়েও যোগাযোগ বজায় রাখবে দুই দেশ।

কৈলাস–মানস সরোবর যাত্রায় ভারতীয় সরকারি তীর্থযাত্রী দলের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য চিনের উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি নির্ধারিত তিনটি সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ।

অর্থাৎ, সীমান্তে সেনা মোতায়েন ও উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি তীর্থযাত্রা, বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগকেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২০-র ছায়া এখনও আছে

এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের গভীর অবনতি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে সমঝোতার পর ধীরে ধীরে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও বেড়েছে।

তবে সেনা সরানো আর সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এক বিষয় নয়। আস্থা পুনর্গঠন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার চূড়ান্ত সমাধান—সবই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক বৈঠক সেই দীর্ঘ পথেরই আর একটি ধাপ।

বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৬তম বৈঠক ২০২৭ সালে ভারতে হওয়ার কথা। তার আগে বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠীগুলির কাজের পরিধি নির্ধারণ, নতুন সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু এবং নদীসংক্রান্ত বৈঠকের অগ্রগতির দিকে নজর থাকবে।

আট দফা সমঝোতা তাই আপাতত আশাব্যঞ্জক কূটনৈতিক পদক্ষেপ, চূড়ান্ত সমাধান নয়। শেষ পর্যন্ত এর গুরুত্ব নির্ধারিত হবে ঘোষণার কতটা বাস্তবে কার্যকর হয় এবং সীমান্তের মাটিতে তা কতটা স্থায়ী শান্তি আনতে পারে, তার উপর।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles