ছ’বার খেলেই ফিট?

যা জানা জরুরি
- অভিনেতাদের সুঠাম চেহারার রহস্য জানতে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।
- সম্প্রতি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, তাঁকে প্রায় প্রতিদিনই একই ধরনের ‘একঘেয়ে খাবার’ খেতে হয়।
- ডিমের সাদা অংশ, মুরগির মাংস, ফল, শাকসবজি, মিউজলি এবং অ্যাভোকাডো থাকে তাঁর খাদ্যতালিকায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অভিনেতাদের সুঠাম চেহারার রহস্য জানতে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, তাঁকে প্রায় প্রতিদিনই একই ধরনের ‘একঘেয়ে খাবার’ খেতে হয়। দিনে ছ’বার অল্প অল্প করে খাবার খান তিনি। ডিমের সাদা অংশ, মুরগির মাংস, ফল, শাকসবজি, মিউজলি এবং অ্যাভোকাডো থাকে তাঁর খাদ্যতালিকায়। তবে মাঝেমধ্যে বিরিয়ানি বা কাবাবের স্বাদ থেকেও নিজেকে বঞ্চিত করেন না অভিনেতা।
কিন্তু প্রশ্ন হল, সুস্থ ও ফিট থাকতে কি সত্যিই দিনে ছ’বার খাওয়া জরুরি?
কেআইএমএস হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আমরিন শেখের মতে, সবার জন্য দিনে ছ’বার খাবার খাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। যাঁদের শারীরিক পরিশ্রম বেশি, নিয়মিত কঠোর শরীরচর্চা করেন অথবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে অতিরিক্ত ক্ষুধা সামলানো কঠিন হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া কার্যকর হতে পারে।
তবে খাবারের সংখ্যা বাড়ালেই যে বিপাকক্রিয়া দ্রুত হবে বা ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।
ছ’বার খেলেই কি বিপাক বাড়ে?
আসলে দিনে কত বার খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সারাদিনে মোট কতটা খাবার খাওয়া হচ্ছে এবং সেই খাবারের পুষ্টিমান কেমন।
খাবারে পর্যাপ্ত আমিষ, আঁশ, ভিটামিন, খনিজ এবং প্রয়োজনীয় চর্বি ও শর্করা রয়েছে কি না—সেটিই বড় বিষয়। দিনে ছ’বার খেলেও যদি মোট ক্যালরি শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়, তা হলে ওজন বাড়তেই পারে। আবার তিন বেলা সুষম ও পরিমিত খাবার খেয়েও দিব্যি সুস্থ থাকা সম্ভব।
অর্থাৎ, খাবারের সংখ্যা নয়, খাবারের গুণমান ও পরিমাণই আসল।
সঞ্জয়ের প্লেটে কী আছে?
সঞ্জয় দত্তের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সমন্বয় দেখা যায়।
ডিমের সাদা অংশ এবং মুরগির মাংস থেকে মেলে তুলনামূলক কম চর্বিযুক্ত আমিষ। পেশি গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমিষ গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাভোকাডো শরীরকে প্রয়োজনীয় উপকারী চর্বি দেয়। অন্যদিকে ফল, শাকসবজি ও মিউজলি থেকে পাওয়া যায় আঁশ, শর্করা, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজ।
অর্থাৎ, তাঁর খাদ্যাভ্যাস থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা কোনও একটি ‘সুপারফুড’ নয়, বরং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য।
তারকার ডায়েট কি নকল করা উচিত?
এখানেই সাবধান হওয়া জরুরি। সঞ্জয় দত্তের মতো শরীর পাওয়ার আশায় তাঁর খাদ্যতালিকা হুবহু অনুসরণ করা ঠিক হবে না।
একজন মানুষের খাবারের প্রয়োজন নির্ভর করে তাঁর বয়স, ওজন, শরীরের গঠন, দৈহিক সক্রিয়তা, জীবনযাপন, শারীরিক অবস্থা এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যের উপর। নিয়মিত কঠোর শরীরচর্চা করা কারও আমিষ বা ক্যালরির প্রয়োজন দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা ব্যক্তির তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
তাই কোনও তারকার ডায়েট দেখে নিজের খাবারের তালিকা বদলে ফেলার আগে নিজের প্রয়োজন বুঝে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিরিয়ানি-কাবাবও কি চলবে?
অবশ্যই—তবে পরিমিতিতে।
সুষম খাদ্যাভ্যাস মানেই পছন্দের সব খাবার জীবন থেকে বাদ দেওয়া নয়। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ঠিক থাকলে মাঝেমধ্যে বিরিয়ানি, কাবাব বা অন্য কোনও পছন্দের খাবার খাওয়া সমস্যা নয়। আসল প্রশ্ন হল কতটা এবং কত ঘন ঘন খাওয়া হচ্ছে।
সঞ্জয় দত্তের ‘একঘেয়ে’ ডায়েট তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেয়—ফিট থাকার জন্য ছ’বার খেতেই হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। কারও জন্য তিন বেলা যথেষ্ট, কারও ক্ষেত্রে ছোট ছোট মিল বেশি সুবিধাজনক।
শেষ পর্যন্ত সুস্থ থাকার ফর্মুলা বেশ সাদামাটা—পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।



