শাড়িতে ‘জীবনবৃক্ষ’

যা জানা জরুরি
- দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের আবহে মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ অম্বানী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মহামঞ্চে ফের মঞ্চস্থ হল ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান মিউজিক্যাল: সিভিলাইজেশন টু নেশন’।
- সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যের মেলবন্ধনে ভারতের দীর্ঘ ইতিহাস ও সভ্যতার যাত্রাকে তুলে ধরার এই আয়োজনেই নজর কাড়লেন কেন্দ্রটির কর্ণধার নীতা অম্বানী।
- তবে মঞ্চের পরিবেশনার পাশাপাশি তাঁর পোশাকেও ধরা পড়ল ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য ছাপ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের আবহে মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ অম্বানী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মহামঞ্চে ফের মঞ্চস্থ হল ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান মিউজিক্যাল: সিভিলাইজেশন টু নেশন’। সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যের মেলবন্ধনে ভারতের দীর্ঘ ইতিহাস ও সভ্যতার যাত্রাকে তুলে ধরার এই আয়োজনেই নজর কাড়লেন কেন্দ্রটির কর্ণধার নীতা অম্বানী। তবে মঞ্চের পরিবেশনার পাশাপাশি তাঁর পোশাকেও ধরা পড়ল ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য ছাপ।
অনুষ্ঠানের জন্য নীতা পরেছিলেন ‘স্বদেশ’-এর বিশেষ ভাবে তৈরি একটি শাড়ি। ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী পটচিত্রশিল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি এই শাড়ি যেন নিজেই একটি চলমান শিল্পকর্ম।
‘স্বদেশ’-এর তরফে জানানো হয়েছে, ওড়িশার রঘুরাজপুরের দক্ষ তাঁতিদের বোনা উজ্জ্বল তসর রেশমের উপর পটচিত্রশিল্পী প্রশান্ত মোহরানা হাতে এঁকেছেন শাড়িটির নকশা। তার কেন্দ্রে রয়েছে বৈদিক অশ্বত্থ থেকে অনুপ্রাণিত ‘জীবনবৃক্ষ’।
এই জীবনবৃক্ষের প্রতিটি শাখা, পাতা ও পাখিতে ফুটে উঠেছে পটচিত্রের নিজস্ব রীতির সূক্ষ্ম অলংকরণ। সৃষ্টি, ধারাবাহিকতা এবং সমস্ত প্রাণের পারস্পরিক সংযোগের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত এই গাছ শাড়িটিকে নিছক পোশাকের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক সাংস্কৃতিক ক্যানভাসে পরিণত করেছে।
পটচিত্রে ইতিহাসের গল্প
ওড়িশার মন্দির-সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িত পটচিত্র একটি প্রাচীন শিল্পধারা। এর ইতিহাস বহু শতাব্দী পুরনো। দেবদেবী, পুরাণ এবং ধর্মীয় আখ্যানের পাশাপাশি সূক্ষ্ম অলংকরণ ও প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহারে এই শিল্পে ফুটে ওঠে ভক্তি, ঐতিহ্য ও চিরন্তনতার আবহ।
তবে পটচিত্র শুধু ধর্মীয় কাহিনিতেই আটকে থাকেনি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিল্পীরা সামাজিক বিষয়, লোকজ জীবন এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। ছবি ও মৌখিক কাহিনি বলার এই যুগলবন্দিই পটচিত্রকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়।
বাংলার পটেও গল্পের জাদু
পটচিত্রের ঐতিহ্য শুধু ওড়িশায় সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাতেও রয়েছে এর নিজস্ব সমৃদ্ধ ধারা। বাংলার পটুয়াদের আঁকা দীর্ঘ জড়ানো পটে একের পর এক দৃশ্যের মাধ্যমে গোটা কাহিনি তুলে ধরা হয়।
আর শুধু ছবি আঁকাই নয়—পট খুলতে খুলতে সেই কাহিনি গান করে শোনান পটুয়ারা। এই গানই পরিচিত ‘পটের গান’ নামে। ফলে বাংলার পটচিত্রে দৃশ্যশিল্প, লোককথা এবং সংগীত একসঙ্গে মিশে যায়।
‘পট’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘পট্ট’ থেকে, যার অর্থ কাপড়। আর ‘চিত্র’ অর্থ ছবি। অর্থাৎ কাপড়ের উপর ধারাবাহিক দৃশ্যে গল্প বলার এই শিল্পে ছবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মৌখিক ঐতিহ্য।
স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানেও অবশ্য অন্য সাজে দেখা গিয়েছে নীতা অম্বানীকে। মুম্বইয়ে স্বামী মুকেশ অম্বানী এবং কন্যা ঈশার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সে সময় তাঁর পরনে ছিল কমলা রঙের শালোয়ার-কামিজ, যার বুকের অংশে ছিল আয়নার কারুকাজ। সঙ্গে ছিল হিরের দুল।
তবে মঞ্চের সন্ধ্যায় তাঁর পটচিত্রের শাড়িটিই যেন আলাদা করে বলে দিল—ভারতীয় ঐতিহ্যকে ফ্যাশনের ভাষাতেও কতটা জীবন্ত করে তোলা যায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



