বিমানে মশা, প্রাণ গেল ২ জনের

যা জানা জরুরি
- জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই কর্মীর।
- স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, কোনও বিমানে করে বাইরে থেকে আসা সংক্রমিত মশার কামড়েই তাঁদের শরীরে ম্যালেরিয়ার পরজীবী পৌঁছেছে।
- তবে মশাটি কোথা থেকে এসেছিল, কিংবা একটির বেশি মশা এই সংক্রমণের জন্য দায়ী কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই কর্মীর। আক্রান্ত হয়েছেন মোট ছয়জন। বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, কোনও বিমানে করে বাইরে থেকে আসা সংক্রমিত মশার কামড়েই তাঁদের শরীরে ম্যালেরিয়ার পরজীবী পৌঁছেছে। তবে মশাটি কোথা থেকে এসেছিল, কিংবা একটির বেশি মশা এই সংক্রমণের জন্য দায়ী কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
প্রথমে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। পরে বুধবার, ২৬ অগস্ট, ফ্রাঙ্কফুর্টের স্বাস্থ্য দফতর দ্বিতীয় মৃত্যুর কথাও নিশ্চিত করে। তবে দু’জনের মৃত্যু একই দিনে হয়নি। দফতরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম জন মারা যান জুলাইয়ের গোড়ায় এবং দ্বিতীয় জন অগস্টে।
জার্মানির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের ধারণা, বিমানে করে আসা অ্যানোফিলিস মশাই এই সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস। এমন ঘটনাকে বলা হয় ‘বিমানবন্দর ম্যালেরিয়া’। অর্থাৎ, ম্যালেরিয়াপ্রবণ কোনও দেশে না গিয়েও বাইরে থেকে বিমানে আসা সংক্রমিত মশার কামড়ে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সঙ্গে যুক্ত এই ধরনের সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল, কিন্তু একেবারে নজিরবিহীন নয়।
মশা এল কোথা থেকে?
সংক্রমণের উৎস খুঁজতে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর চত্বরে মশা ধরার ফাঁদ বসানো হয়েছে। ধরা পড়া মশাগুলি পাঠানো হচ্ছে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পের ক্রান্তীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে। জিনগত পরীক্ষা করে সেগুলির উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা হবে।
পরীক্ষার ফল হাতে না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও দেশ বা বিমানকে সংক্রমণের উৎস বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। একাধিক মশা এই ঘটনায় যুক্ত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ফ্রাপোর্ট জানিয়েছে, কর্মীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। কারও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসককে জানাতে বলা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে কাজ করেন এবং সেখানে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কর্মস্থলের এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিদেশে না গেলেও ম্যালেরিয়া?
জার্মানিতে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তদের অধিকাংশই এমন কোনও দেশ থেকে ফেরেন, যেখানে এই রোগের সংক্রমণ রয়েছে। ফলে বিদেশভ্রমণের ইতিহাস নেই এমন কারও জ্বর হলে ম্যালেরিয়ার কথা চিকিৎসকের মনে প্রথমেই নাও আসতে পারে। তাতে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফ্রাঙ্কফুর্টে এর আগেও বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট ম্যালেরিয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালেও এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছিল।
কী ভাবে ছড়ায় ম্যালেরিয়া?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ম্যালেরিয়া পরজীবীঘটিত একটি রোগ। সংক্রমিত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ হল—
- জ্বর
- মাথাব্যথা
- কাঁপুনি
সংক্রমিত মশার কামড়ের প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন পর সাধারণত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অনেক সময় লক্ষণ মৃদু হওয়ায় তা অন্য সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে গুলিয়ে যেতে পারে।
দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর অবস্থায় চেতনা বিঘ্নিত হওয়া, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস কিংবা অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য হলেও চিকিৎসায় দেরি প্রাণঘাতী হতে পারে। শিশু, অন্তঃসত্ত্বা এবং রোগটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
ফ্রাঙ্কফুর্টের ঘটনায় এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য—সংক্রমণের প্রকৃত উৎস এবং কী ভাবে বিমানবন্দরকর্মীরা আক্রান্ত হলেন, তা নিশ্চিত করা। বিমানে করে সংক্রমিত মশার আগমন আপাতত সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলেও সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
ঘটনাটি অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দিচ্ছে—ম্যালেরিয়া বিরল এমন দেশেও জ্বরের কারণ খোঁজার সময় শুধু বিদেশভ্রমণের ইতিহাস নয়, রোগীর কর্মস্থল ও সম্ভাব্য সংস্পর্শের তথ্যও বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিদেশে না যাওয়ার অর্থ যে ম্যালেরিয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই, ফ্রাঙ্কফুর্টের এই ঘটনা সেই ধারণার সীমাবদ্ধতাই সামনে আনল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।



