মন্নতে ফেরার পালা

যা জানা জরুরি
- ফের শাহরুখ খানের পরিবারের কোলাহলে মুখর হতে পারে বান্দ্রার বিখ্যাত ‘মন্নত’।
- শাহরুখ-ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, বাংলোটির চলতি সংস্কার ও মেরামতির কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে বছরের শেষেই স্ত্রী গৌরী খান ও সন্তান আরিয়ান, সুহানা এবং আব্রামকে নিয়ে পুরনো ঠিকানায় ফিরতে পারেন শাহরুখ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আর বেশি দিন নয়। ফের শাহরুখ খানের পরিবারের কোলাহলে মুখর হতে পারে বান্দ্রার বিখ্যাত ‘মন্নত’। শাহরুখ-ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, বাংলোটির চলতি সংস্কার ও মেরামতির কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে বছরের শেষেই স্ত্রী গৌরী খান ও সন্তান আরিয়ান, সুহানা এবং আব্রামকে নিয়ে পুরনো ঠিকানায় ফিরতে পারেন শাহরুখ।
২০২৫ সালে ‘মন্নত’-এ বড়সড় সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর খান পরিবার সাময়িক ভাবে বাংলো ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে তাঁরা খারের পালি হিলের ‘পূজা কাসা’ আবাসনের দু’টি দোতলা ফ্ল্যাটে থাকছেন।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ৩৬ মাসের চুক্তিতে ফ্ল্যাট দু’টি ভাড়া নেন শাহরুখ। দু’টি মিলিয়ে আয়তন প্রায় ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুট। একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬ হাজার বর্গফুটের, অন্যটি সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুটের কাছাকাছি। ভগনানি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে এই বাসস্থান ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ‘মন্নত’ থেকে এর দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার।
এখনও অবশ্য ‘মন্নত’-এর চেনা মুখ মাচায় ঢাকা। চারপাশে চলছে নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ। তবে কাজের বর্তমান গতি এবং নির্ধারিত সময়সীমা ঠিক থাকলে বছরের শেষেই ফের আলো জ্বলতে পারে সমুদ্রের ধারে শাহরুখের ঐতিহ্যবাহী বাংলোয়।
অ্যানেক্সে বাড়ছে আরও দুই তলা
সংস্কারের অন্যতম বড় অংশ ‘মন্নত অ্যানেক্স’-এর সম্প্রসারণ। আগে ছ’তলা ছিল এই ভবনটি। সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও দু’টি তলা যোগ করা হয়েছে। নতুন দুই তলার সম্মিলিত আয়তন প্রায় ৭ হাজার বর্গফুট।
ফলে অ্যানেক্সের মোট আয়তন বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার বর্গফুটেরও বেশি। পুরনো ছ’টি তলাতেও সংস্কার ও মেরামতির কাজ হয়েছে।
তবে মূল ‘মন্নত’-এর ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা। ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় মূল বাংলোর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তাই সেখানে নতুন কোনও তলা যোগ করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে শাহরুখের ম্যানেজার পূজা গুরনানির প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাঁর তরফে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
‘ভিলা ভিয়েনা’ থেকে ‘মন্নত’
আজ যে বাড়ি শাহরুখ খানের পরিচয়ের সঙ্গে প্রায় অবিচ্ছেদ্য, তার পুরনো নাম ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’।
২০০১ সালে বাই খোরশেদ ভানু সাঞ্জানা ট্রাস্টের কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি টাকায় সম্পত্তিটি কিনেছিলেন শাহরুখ। ২০০৫ সালে তার নাম বদলে রাখেন ‘মন্নত’।
প্রথমে অবশ্য বাংলোটির নাম ‘জন্নত’ রাখার কথা ভেবেছিলেন অভিনেতা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সম্পত্তিটি তাঁর জীবনে সৌভাগ্য নিয়ে এসেছে মনে হওয়ায় নাম বদলে ‘মন্নত’ রাখা হয়। শব্দটির অর্থ—প্রার্থনা বা মানত।
শতাব্দী পেরোনো বাড়ি
‘মন্নত’-এর ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়। ১৯১৪ সালে নারিমান এ ডুবাশ বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে এটি তৃতীয় শ্রেণির ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
সেই কারণেই মূল ভবনে বড় পরিবর্তনের উপর রয়েছে বিধিনিষেধ। তবে বাংলোর পিছনে শাহরুখের তৈরি ছ’তলা ‘মন্নত অ্যানেক্স’ সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাড়িটির পরিসর বাড়ানোর সুযোগ দিয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরেই অ্যানেক্সে আরও দু’টি তলা যোগ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন গৌরী খান। মহারাষ্ট্র উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে করা সেই আবেদনের পর অনুমোদন মেলে এবং সম্প্রসারণের কাজ এগোয়।
এখন অপেক্ষা শুধু কাজ শেষ হওয়ার। সব হিসাব মিলে গেলে ২০২৬-এর শেষেই ফের ‘মন্নত’-এর বারান্দা থেকে দেখা যাবে পরিচিত খান পরিবারের ব্যস্ততা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



