‘আমার সমস্যা নেই, আপনাদের কেন?’

যা জানা জরুরি
- রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্কের মাঝেই দিদির পাশে দাঁড়ালেন বোন নূপুর শ্যানন।
- সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর সাফ প্রশ্ন—কৃতি যাঁকে রাখি পরিয়েছেন, তাঁরই যদি কোনও আপত্তি না থাকে, তা হলে অন্যদের এত সমস্যা কেন?
- নিজের সমাজমাধ্যমে কৃতির বক্তব্য শেয়ার করে নূপুর লেখেন, অন্য এক জন নারী কী পোশাক পরবেন, তা নিয়ে এতটা বিচলিত হওয়া অবাক করার মতো।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্কের মাঝেই দিদির পাশে দাঁড়ালেন বোন নূপুর শ্যানন। সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর সাফ প্রশ্ন—কৃতি যাঁকে রাখি পরিয়েছেন, তাঁরই যদি কোনও আপত্তি না থাকে, তা হলে অন্যদের এত সমস্যা কেন?
নিজের সমাজমাধ্যমে কৃতির বক্তব্য শেয়ার করে নূপুর লেখেন, অন্য এক জন নারী কী পোশাক পরবেন, তা নিয়ে এতটা বিচলিত হওয়া অবাক করার মতো। তাঁর পরামর্শ, “সসম্মানে বলছি, একটু আধুনিক হোন।” এর পরেই কৃতিকে ট্যাগ করে তাঁর প্রশ্ন, “কৃতি আমাকেই রাখি পরিয়েছে। আমার যখন কোনও সমস্যা নেই, আপনাদের কেন?”
রাখিবন্ধনের ওই বিজ্ঞাপনে কৃতিকে সাদাটে রঙের খাটো অন্তর্বাস-ধাঁচের ঊর্ধ্বাঙ্গের পোশাক, লম্বা আবরণী এবং কুঁচি দেওয়া স্কার্টে দেখা যায়। বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমের একাংশের দাবি, রাখিবন্ধনের মতো পারিবারিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে এই পোশাক মানানসই নয়। কৃতির পোষ্য কুকুরকে রাখি পরানোর দৃশ্য নিয়েও আপত্তি ওঠে।
তবে পাল্টা মতও কম নয়। কৃতির সমর্থকদের বক্তব্য, কোনও নারীর পোশাক দিয়ে তাঁর সংস্কৃতি, মূল্যবোধ বা পারিবারিক সম্পর্কের বিচার করা যায় না। তাঁদের মতে, উৎসবের আবেগ এবং বিশ্বাসই আসল, পোশাক নয়।
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয় অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করায়। বিজ্ঞাপনটিকে ‘ইচ্ছাকৃত ভাবে অস্বস্তিকর’ বলে মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ কেন বিকিনি বা অন্তর্বাসের মতো পোশাক পরে ভাইকে রাখি পরাবেন? উৎসব পালনের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম শালীনতা থাকা উচিত বলে মত কঙ্গনার।
সমালোচনার জবাব অবশ্য আগেই দিয়েছিলেন কৃতি। তাঁর বক্তব্য, রাখিবন্ধনের আসল অর্থ পোশাকের মধ্যে নয়, বরং সম্পর্ক, অনুভূতি এবং পারস্পরিক সুরক্ষার অঙ্গীকারে। কৃতি ও নূপুর একে অপরকে রাখি পরান। তাঁদের বিশ্বাস, ভাই যেমন বোনের পাশে দাঁড়ান, দুই বোনও তেমনই পরস্পরের রক্ষাকবচ হতে পারেন।
পোষ্য কুকুরদের রাখি পরানো নিয়েও কৃতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, দুই বোন যেমন পরস্পরের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন, তেমনই তাঁদের পোষ্যরাও পরিবারের সদস্য। তাই তাঁদের জন্যও একই ভালবাসা ও সুরক্ষার প্রার্থনা স্বাভাবিক।
কৃতির প্রশ্ন আরও বড়—এক জন নারী কী পরবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সমাজ কবে তাঁর হাতেই ছেড়ে দেবে? সময়ের সঙ্গে উৎসবের পোশাকের ধরন বদলেছে, বদলেছে সামাজিক রীতিও। তা হলে এখনও কেন কোনও নারীর পোশাকের মাপজোকেই তাঁর সংস্কৃতিবোধের মাপকাঠি করা হবে?
কৃতির বক্তব্যের সারকথা স্পষ্ট—সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পোশাকে নয়, মানুষের মন ও আচরণে।
আর নূপুরের পাল্টা প্রশ্ন সেই বিতর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল—কৃতির নিজের পরিবারের মানুষই যেখানে আপত্তি দেখছেন না, সেখানে তাঁর পোশাক নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার অন্যদের কোথায়?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



