সূর্যাস্তের পর ‘ভান’-এ নিষেধ

যা জানা জরুরি
- লোককথা, অতিপ্রাকৃত শক্তি আর নিষিদ্ধ এক অরণ্যের রহস্য—এই তিনের মিশেলে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়ার নতুন ছবি ‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’।
- মাত্র এক মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের এই ঝলকেই স্পষ্ট, নিছক ভয় দেখানো নয়, বরং মানুষ, প্রকৃতি এবং প্রাচীন বিশ্বাসের টানাপড়েনই ছবির গল্পের কেন্দ্রে।
- শুরুতেই সতর্কবার্তা—সূর্যাস্তের পর ‘ভান’-এ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
লোককথা, অতিপ্রাকৃত শক্তি আর নিষিদ্ধ এক অরণ্যের রহস্য—এই তিনের মিশেলে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়ার নতুন ছবি ‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’। প্রকাশ্যে এসেছে ছবির প্রথম ঝলক। মাত্র এক মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের এই ঝলকেই স্পষ্ট, নিছক ভয় দেখানো নয়, বরং মানুষ, প্রকৃতি এবং প্রাচীন বিশ্বাসের টানাপড়েনই ছবির গল্পের কেন্দ্রে।
শুরুতেই সতর্কবার্তা—সূর্যাস্তের পর ‘ভান’-এ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধ অমান্য করেই রহস্যময় অরণ্যে ঢুকে পড়ে সিদ্ধার্থের চরিত্র। আর তারপর থেকেই শুরু অস্বাভাবিক সব ঘটনা। অরণ্যের গভীরে গিয়ে সে এমন কিছু দৃশ্য দেখতে থাকে, যার কোনও ব্যাখ্যা তার কাছে নেই। সেগুলি কি তার অতীতের স্মৃতি, নাকি অরণ্যের কোনও অদৃশ্য শক্তির প্রভাব? ঝলক সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
তামান্নার চরিত্রকে দেখা যায় গ্রামের নানা আচার-অনুষ্ঠানে। তাঁর কাছ থেকেই ইঙ্গিত মেলে, অরণ্যের সঙ্গে সিদ্ধার্থের সম্পর্ক নিছক কাকতালীয় নয়। রহস্যময় ঘটনাগুলির সঙ্গে তাঁর অতীতেরও কোনও যোগ থাকতে পারে। দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের আবেগঘন আভাস থাকলেও, প্রেমের চেয়ে অরণ্যের গোপন ইতিহাস এবং সিদ্ধার্থের নিজের পরিচয় খোঁজার যাত্রাই এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
ঝলকের আরও এক চমক রহস্যময় এক ব্যক্তিকে ঘিরে। লম্বা চুল ও দাড়িতে পাহাড় বেয়ে উঠতে দেখা যায় তাকে। পিছনে এগিয়ে আসে একদল অতিলৌকিক সত্তা। কিন্তু ইচ্ছে করেই আড়ালে রাখা হয়েছে তার মুখ। ফলে সে অরণ্যের রক্ষক, নাকি অশুভ শক্তির দূত—প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।
দেবশক্তির সুরক্ষায় থাকা অরণ্যে অন্ধকার শক্তির আগমন, মানুষের শরীরে অশুভ শক্তির ভর করা এবং ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের ইঙ্গিতও রয়েছে ঝলকে। কুয়াশায় ঢাকা বন, আগুন, আচার-অনুষ্ঠান, গাঢ় আলোছায়া এবং হিংস্র প্রাণীর প্রতীকী উপস্থিতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ছবির অস্বস্তিকর আবহ। তার সঙ্গে রহস্যময় আবহসঙ্গীত বাড়িয়েছে বিপদের অনুভূতি।
তবে ‘দ্য ভান’ শুধু অতিপ্রাকৃত আতঙ্কে আটকে থাকছে না। নির্মাতাদের ইঙ্গিত, কল্পকাহিনি ও লোকবিশ্বাসের সঙ্গে থাকবে রোমাঞ্চ, অভিযান, সংঘর্ষ এমনকি হাস্যরসও। ফলে ছবিটি নিছক হরর নয়, বরং ফ্যান্টাসি-অ্যাডভেঞ্চারের আবহও তৈরি করতে পারে।
অরুণাভ কুমারের লেখা ছবিটি পরিচালনা করেছেন দীপক কুমার মিশ্র। সিদ্ধার্থ ও তামান্নার সঙ্গে রয়েছেন সুনীল গ্রোভার, মনীশ পল, শ্বেতা তিওয়ারি এবং অনুপ সোনি। প্রযোজনায় শোভা কাপুর, একতা আর কাপুর, অরুণাভ কুমার ও নীরজ কোঠারি।
মুক্তির তারিখ নিয়ে একাধিক পরিবর্তন ও অতিরিক্ত দৃশ্যগ্রহণের পর অবশেষে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা ‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’-এর। তবে ঝলকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আপাতত একটাই—সূর্য ডোবার পর যে অরণ্যে পা রাখা নিষেধ, সেখানে সিদ্ধার্থ আসলে কী খুঁজতে গিয়েছিল?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



