International

ই২০-র চাপে ই১০-র ফেরার পালা?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি, ২৭ অগস্ট: ই২০ পেট্রল নিয়ে পুরনো গাড়ির মালিকদের উদ্বেগের মধ্যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ফের ই১০ আনার কথা ভাবছে কেন্দ্র।
  • তবে তার জন্য নতুন করে আলাদা পরিকাঠামো তৈরি করার বদলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির দামি পেট্রল বিক্রির জন্য থাকা পরিকাঠামোকেই কাজে লাগানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা…
  • ‘লাইভমিন্ট’-এর বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েলের এক্সপি৯৫, ভারত পেট্রোলিয়ামের স্পিড এবং হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়ামের পাওয়ার৯৫-এর মতো প্রিমিয়াম পেট্রলকে ই১০ হিসেবে বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি, ২৭ অগস্ট: ই২০ পেট্রল নিয়ে পুরনো গাড়ির মালিকদের উদ্বেগের মধ্যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ফের ই১০ আনার কথা ভাবছে কেন্দ্র। তবে তার জন্য নতুন করে আলাদা পরিকাঠামো তৈরি করার বদলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির দামি পেট্রল বিক্রির জন্য থাকা পরিকাঠামোকেই কাজে লাগানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘লাইভমিন্ট’-এর বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েলের এক্সপি৯৫, ভারত পেট্রোলিয়ামের স্পিড এবং হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়ামের পাওয়ার৯৫-এর মতো প্রিমিয়াম পেট্রলকে ই১০ হিসেবে বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আলোচনার মূল প্রশ্ন, পুরনো গাড়ির জন্য কম ইথানলযুক্ত পেট্রল ফিরলে সেটি কি সাধারণ ই১০ হিসেবে সস্তায় বিক্রি হবে, নাকি বর্তমান প্রিমিয়াম পেট্রলের পরিকাঠামো ব্যবহার করার কারণে ক্রেতাকে বেশি দামই দিতে হবে।

ই২০-তেই আপত্তি কোথায়?

দেশে বর্তমানে অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে ই২০ জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো। নতুন প্রজন্মের গাড়ির ক্ষেত্রে এই জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়ে বড় আপত্তি নেই। কিন্তু বহু পুরনো গাড়ি মূলত ই১০ বা তার কম ইথানলযুক্ত জ্বালানির কথা মাথায় রেখেই তৈরি।

এই গাড়িগুলিতে ই২০ ব্যবহারে যন্ত্রাংশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ক্ষমতা কমার আশঙ্কা নিয়ে মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রতি লিটারে কম দূরত্ব অতিক্রম করার বিষয়টি অনেকের কাছে বড় সমস্যা।

কেন্দ্র অবশ্য বারবার জানিয়েছে, ই২০ ব্যবহারে ব্যাপক হারে ইঞ্জিন বিকল বা গাড়ি নষ্ট হওয়ার কোনও প্রমাণ নেই। জুলাইয়ে সরকারের বক্তব্য ছিল, ই১০-এর জন্য তৈরি গাড়িতে ই২০ ব্যবহার করলে জ্বালানি সাশ্রয়ক্ষমতা প্রায় ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমতে পারে। কারণ, ইথানলের শক্তিঘনত্ব পেট্রলের তুলনায় কম। তবে বাস্তবে প্রভাব কতটা হবে, তা গাড়ির মডেল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালানোর পরিস্থিতির উপরও নির্ভর করে।

নতুন ট্যাঙ্ক নয়, পুরনো পরিকাঠামোতেই ভরসা

ই১০ ফেরানোর পথে সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিকাঠামো। ই২০, ই১০ এবং ইথানলহীন পেট্রলের জন্য আলাদা সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করতে হলে নতুন ট্যাঙ্ক, মজুত ব্যবস্থা এবং পরিবহণ পরিকাঠামোয় বড় খরচ হতে পারে।

সেই কারণেই প্রিমিয়াম পেট্রলের জন্য ইতিমধ্যেই থাকা আলাদা ট্যাঙ্ক ও সরবরাহব্যবহারকে কাজে লাগানোর ভাবনা সামনে এসেছে।

পেট্রল ব্যবসায়ীদের সংগঠনের মুখপাত্র মন্টি সেহগল এবং পটনার পাম্পমালিক প্রশান্ত সিন্‌হার বক্তব্য উদ্ধৃত করে ‘মিন্ট’ জানিয়েছে, বর্তমান প্রিমিয়াম পেট্রল সরবরাহের ব্যবস্থার মাধ্যমেই ই১০ বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে। এতে নতুন করে গোটা দেশে আলাদা পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

তবে প্রিমিয়াম মানেই কম ইথানল নয়

এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভ্রান্তি। বেশি অকটেনের পেট্রল মানেই যে কম ইথানলযুক্ত পেট্রল, তা নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে আলোচনায় থাকা প্রিমিয়াম পেট্রলগুলিতেও ই২০ মিশ্রণ রয়েছে। এই জ্বালানিতে অতিরিক্ত উপাদান ব্যবহার করা হয় দহনপ্রক্রিয়া উন্নত করা, ইঞ্জিনের অংশ পরিষ্কার রাখা এবং ক্ষয় কমানোর মতো উদ্দেশ্যে।

অর্থাৎ, প্রিমিয়াম পেট্রল কিনলেই ইথানল কমে যাবে—এমন সমীকরণ নেই। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ওই একই পরিকাঠামোয় সত্যিই কম ইথানলযুক্ত ই১০ সরবরাহ করা হবে কি না, সেটিই হবে মূল বিষয়।

প্রিমিয়াম পেট্রলের চাহিদা বাড়ছে

ই২০ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কিছু ক্রেতা ইতিমধ্যেই প্রিমিয়াম পেট্রলের দিকে ঝুঁকছেন। ‘মিন্ট’-এর দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির মোট পেট্রল বিক্রিতে প্রিমিয়াম জ্বালানির অংশ মার্চের প্রায় ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ হয়েছে।

তবে এই বৃদ্ধি সরাসরি কম ইথানলযুক্ত জ্বালানির চাহিদা বোঝায় না। প্রিমিয়াম পেট্রলের উন্নত অ্যাডিটিভ, উচ্চ অকটেন বা অন্য বৈশিষ্ট্যের জন্যও ক্রেতারা সেটি বেছে নিতে পারেন। ফলে ই১০-এর প্রকৃত চাহিদা কতটা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ই১০ ফেরানোর সওয়াল অনন্ত নাগেশ্বরনেরও

এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন ই২০-এর পাশাপাশি কম ইথানলযুক্ত পেট্রল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। পুরনো গাড়ির মালিকদের উদ্বেগ কমাতে পাম্পে ই১০-এর মতো একটি বিকল্প থাকা উচিত বলে তিনি সওয়াল করেছেন।

কেন্দ্রের আগের অবস্থান ছিল, ইথানলহীন পেট্রল, ই১০ এবং ই২০—তিন ধরনের জ্বালানির জন্য দেশজুড়ে পৃথক সরবরাহব্যবস্থা চালু করলে পরিবহণ, মজুত এবং পরিচালনার খরচ বাড়বে। প্রিমিয়াম পেট্রলের পরিকাঠামো ব্যবহার করার প্রস্তাব সেই সমস্যারই একটি সম্ভাব্য বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।

শেষ কথা দামের

ক্রেতা-অধিকার সংগঠন কনজিউমার ভয়েসের আশিস সান্যালের মতে, গাড়ির উপযোগী জ্বালানি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু সেই সুযোগের সঙ্গে আর একটি প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে—পুরনো গাড়ির উপযুক্ত জ্বালানি পেতে ক্রেতাকেই কি বাড়তি দাম দিতে হবে?

ই১০ ফিরলেও সেটি যদি শুধু প্রিমিয়াম পেট্রলের দামে পাওয়া যায়, তা হলে পুরনো গাড়ির মালিকদের সমস্যা পুরোপুরি মিটবে না। আবার আলাদা পরিকাঠামো তৈরি করতে গেলে সরকারের ও তেল সংস্থাগুলির খরচ বাড়বে।

তাই ই১০ ফেরানোর ভাবনা যতটা জ্বালানি-প্রযুক্তির প্রশ্ন, ততটাই দাম, পরিকাঠামো এবং ক্রেতার পছন্দের প্রশ্ন। আপাতত আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কেন্দ্র কোন সমীকরণ বেছে নেয়, সেটাই এখন দেখার।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles