Home খবর মৃত্যুর পর মনমোহনের বড় জয়!

মৃত্যুর পর মনমোহনের বড় জয়!

কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ক্লিন চিট, বাতিল ২০১৫-র সমন

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
11 views 2 minutes read
A+A-
Reset

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রয়াত হন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। জীবদ্দশায় তাঁকে দেশের অন্যতম সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিবিদ হিসেবেই তুলে ধরেছিল কংগ্রেস। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্বে একটি অভিযোগ বারবার ফিরে এসেছিল—কয়লা ব্লক বরাদ্দ বা ‘কোল ব্লক অ্যালোকেশন’ মামলা।

আর মৃত্যুর প্রায় দেড় বছর পর, সেই মামলায় তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট ড. মনমোহন সিংয়ের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দেয়। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া সমনের নির্দেশও বাতিল করে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সিবিআইয়ের দাখিল করা ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করে। সেই রিপোর্টে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী-সহ একাধিক অভিযুক্তকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়।

রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া ক্লোজার রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আদালত সন্তুষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি, ২০১৫ সালের ১১ মার্চের সেই বিতর্কিত আদেশ—যেখানে মনমোহন সিং-সহ অভিযুক্তদের তলব করা হয়েছিল—তাও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, এই মামলার সূত্রপাত কোথা থেকে?

ঘটনার শুরু ২০০৫ সালে। সে সময় ইউপিএ সরকারের আমলে ওড়িশার তালবিরা-টু কয়লাখনি শিল্পপতি কুমারমঙ্গলম বিড়লার সংস্থা হিন্ডালকোকে বরাদ্দ করা হয়। সেই সময় কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং।

পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, স্ক্রিনিং কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রায় সাত বছর পরে সিবিআই হিন্ডালকোর কর্ণধার কুমারমঙ্গলম বিড়লা এবং তৎকালীন কয়লা সচিব পি.সি. পরেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

তদন্ত চলাকালীন পি.সি. পরেখ দাবি করেন, কয়লা মন্ত্রক যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই ছিল, তাই কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তার রাজনৈতিক দায় এড়ানো যায় না। সেই মন্তব্যের পরই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন মনমোহন সিং।

যদিও সিবিআই প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একাধিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল, প্রথমদিকে মনমোহন সিংকে জেরা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আদালতও প্রশ্ন তোলে। ২০১৪ সালের নভেম্বরে বিশেষ আদালত জানতে চায়, কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকেই কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না। এরপর পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তারই ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ড. মনমোহন সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই এবং সেই তথ্য আদালতে জমা দেয়। পরবর্তীতে বিশেষ আদালত তাঁকে সমনও জারি করে, যা সেই সময়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

তবে এরপর মামলায় হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। ড. মনমোহন সিং শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, কয়লা ব্লক বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাঁর কোনও অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল না এবং তিনি আইন মেনেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

অবশেষে, তাঁর মৃত্যুর পর সেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, এই মামলায় ড. মনমোহন সিংয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারের আর কোনও ভিত্তি নেই।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বিতর্কের পর, দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles