হাইলাইটস
- ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলিকে ক্ষতিপূরণ দিতে তেহরানের সম্পদ ব্যবহারের কথা ভাবছে আমেরিকা।
- মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নাকি ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
- কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলির দিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
- অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও অবকাঠামোগত ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে।
- একই সময়ে পাকিস্তান কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এবার সামনে এসেছে একটি নতুন এবং তাৎপর্যপূর্ণ সম্ভাবনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ইরানের বিদেশে থাকা সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলির মেরামতে কত অর্থ লাগতে পারে তার একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুত করতে। যদিও ওয়াশিংটন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি, তবু এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা হবে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির এক নতুন অধ্যায়।
গত শনিবার পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইরানের দাবি ছিল, এটি তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া। তবে মার্কিন ও উপসাগরীয় দেশগুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস হয়ে যায়।
তা সত্ত্বেও কয়েকটি স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। সামরিক ঘাঁটির কিছু অংশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামোর ওপর আঘাতের প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এখন সেই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ইরানের জব্দ বা স্থগিত থাকা বিদেশি সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের জটিল বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কারণ রাষ্ট্রের সার্বভৌম সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তৃতীয় পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নজির খুবই সীমিত। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহার নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলির যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা এখন নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে আসতে পারে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত আকার নেওয়ার আগে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ইরান সফরে গিয়েছেন। তাঁর এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হল সংঘাত নিরসনের জন্য নতুন করে আলোচনার পথ খুলে দেওয়া। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। ফলে পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়া চলছে। একদিকে সামরিক উত্তেজনা এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশ আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু যদি আমেরিকা সত্যিই ইরানের সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণের পথ বেছে নেয়, তবে তা তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।
ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয়ই আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে চলেছে।