বাংলাস্ফিয়ার: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া গণহিংসা, ভাঙচুর ও এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সিপিআই(এম)-এর স্থানীয় নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। রবিবার রাতে তাঁকে আটক করার পর সোমবার বারুইপুর আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
পুলিশের অভিযোগ, গত ৫ জুলাই নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় যে বিক্ষোভ শুরু হয়, সেই সময় লাহেক আলি উত্তেজনামূলক বক্তব্য দিয়ে জনতাকে উস্কে দেন। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর উসকানির জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে, পাশাপাশি পুলিশ ও সরকারি সম্পত্তিতে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর, টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধের ঘটনাও ঘটে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়, লাহেক আলির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে এমন প্রমাণ রয়েছে যা ইঙ্গিত করে যে তিনি জনতাকে প্ররোচিত করেছিলেন। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে চাওয়া হলেও আদালত আট দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেয় এবং জামিনের আবেদন খারিজ করে।
অন্যদিকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় লাহেক আলি অভিযোগ করেন, তাঁর গ্রেফতার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, তিনি কোনও হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত ছিলেন না এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে।
সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও গ্রেফতারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের বদলে প্রতিবাদকারীদের নিশানা করা হচ্ছে। একই সুরে দলের প্রবীণ নেতা সুজন চক্রবর্তীও এই গ্রেফতারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যারা গণহিংসা, ভাঙচুর ও জনরোষ উসকে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।