হাইলাইটস:
- রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।
- এপ্রিলে শপথ নেওয়ার পর একদিনও রাজ্যসভার অধিবেশনে যোগ দেননি তিনি।
- ইস্তফার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যাওয়ায় বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা।
- বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর এটি চতুর্থ রাজ্যসভা সাংসদের ইস্তফা।
- কোয়েলের পদত্যাগে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্যসংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯।
বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য আরও একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা এল বৃহস্পতিবার। জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিক (রুক্মিণী মল্লিক) রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। মাত্র তিন মাস আগে, ৬ এপ্রিল তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে একদিনের জন্যও উচ্চকক্ষের কোনও অধিবেশনে উপস্থিত হননি তিনি।
দিল্লিতে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই কোয়েল সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান। এই ঘটনাই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের ধারণা, খুব শীঘ্রই তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে কোয়েল বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছিল। একের পর এক নেতা, বিধায়ক ও সাংসদ দল ছাড়ায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজ্যসভায় তৃণমূলের মোট ১৩ জন সদস্যের মধ্যে কোয়েল হলেন চতুর্থ সাংসদ, যিনি পদত্যাগ করলেন। এর ফলে উচ্চকক্ষে দলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯। সংসদে বিরোধী রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রভাবও এর ফলে কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোয়েল মল্লিক বাংলার চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি বহু বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেই জনপ্রিয়তাকেই রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর কার্যত কোনও সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি। শপথ নেওয়ার পর তিনি একবারও সংসদের অধিবেশনে অংশ নেননি, কোনও বিতর্কে বক্তব্য রাখেননি বা কোনও সংসদীয় কমিটির কাজেও সক্রিয় ছিলেন না।
তাঁর পদত্যাগের সময়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের পর্বে তৃণমূলের অন্দরে একাধিক অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে কোয়েলের মতো পরিচিত মুখ যদি বিজেপিতে যোগ দেন, তবে তা রাজনৈতিকভাবে বড় বার্তা বহন করবে।
তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনা করছে। একই সঙ্গে কোয়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তারা নজর রাখছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ শুধুমাত্র একজন সাংসদের ইস্তফা নয়; এটি তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক সংকটের আরও একটি প্রতীক। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখের বিদায়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, কোয়েলের সিদ্ধান্ত সেই সংকটকে আরও প্রকট করল।
এখন নজর থাকবে, তিনি কবে এবং কোন রাজনৈতিক মঞ্চে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। যদি সত্যিই বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তা নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় ভাঙন রোধ করা এবং সংসদ ও সংগঠন—উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন করা।