হাইলাইটস:
- কাতারের মধ্যস্থতায় আবারও কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ
- ট্রাম্পের দাবি, ইরানই নতুন করে আলোচনার আবেদন করেছে
- একই সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা—আমেরিকার দৃষ্টিতে যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নয়
- হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচলকে ঘিরে টানাপোড়েন অব্যাহত
- সংঘাত ও আলোচনার দ্বিমুখী পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে
বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও যুদ্ধের আশঙ্কা এখনও কাটেনি। কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতাকারী দল তেহরানে পৌঁছেছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে স্থগিত হয়ে পড়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং পারমাণবিক ইস্যুসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকেই আবার আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ এসেছে এবং আমেরিকা সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। তবে তিনি একইসঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল, সেটিকে ওয়াশিংটন আর বলবৎ বলে মনে করছে না। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে, যদিও কূটনৈতিক যোগাযোগের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না।
ট্রাম্পের এই অবস্থান পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি শেষ ঘোষণার ফলে ভবিষ্যতে আবারও সামরিক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক জাহাজে হামলা, মার্কিন পাল্টা অভিযান এবং নিরাপত্তা সংকটের কারণে উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের অবস্থানের কিছু পার্থক্যও রয়েছে। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে নতুন বৈঠকের ঘোষণা দেয়নি। বরং কাতারের মধ্যস্থতাকেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ, আপাতত দুই দেশের মধ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনার বদলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পথই খোলা রয়েছে।
কাতার দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও দোহা উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। কাতারের প্রতিনিধিরা এবার তেহরানে গিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করছেন।
বর্তমানে আমেরিকার অন্যতম প্রধান দাবি হলো, ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা করুক যে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আর হামলা হবে না। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই একদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে সম্পূর্ণ যুদ্ধ এড়ানোর জন্য কূটনৈতিক পথও খোলা রাখছে। তাই আলোচনার প্রক্রিয়া আবার শুরু হলেও তা সহজ হবে না। আস্থার সংকট, পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি প্রশ্নই আগামী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় এখন এক বিরল দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে আমেরিকা ঘোষণা করেছে, কিন্তু একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনার পথও খোলা রয়েছে। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে উত্তেজনা কমতে পারে। আর ব্যর্থ হলে অঞ্চলটি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।