হাইলাইটস:
- পাঁচ বছরের দূরত্বের পর রাজা চার্লস, রানি ক্যামিলা, প্রিন্স হ্যারি, মেগান ও তাঁদের দুই সন্তানের বিরল পারিবারিক পুনর্মিলন
- ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর এই প্রথম একসঙ্গে মুখোমুখি পুরো পরিবার
- হাইগ্রোভ হাউসে ব্যক্তিগত বৈঠক, কোনও ছবি প্রকাশ করবে না বাকিংহাম প্যালেস
- নিরাপত্তা বিতর্কের মধ্যেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দেখছেন রাজপরিবার-পর্যবেক্ষকরা
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বহু বছরের তিক্ত সম্পর্ক কি অবশেষে স্বাভাবিক হওয়ার পথে? সেই জল্পনাই আরও জোরালো হল শুক্রবার, যখন প্রিন্স হ্যারি, মেগান মার্কেল এবং তাঁদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেট-এর সঙ্গে বহু বছর পর মুখোমুখি বৈঠক করলেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।
বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের গ্রামীণ রাজকীয় বাসভবন হাইগ্রোভ হাউস-এ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিবেশে এই সাক্ষাৎ হয়। পরিবারের গোপনীয়তার স্বার্থে বৈঠকের কোনও ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হবে না।
গত কয়েক দিন ধরেই বাবা–ছেলের সম্ভাব্য পুনর্মিলন নিয়ে জল্পনা চলছিল। শুক্রবারের বৈঠক সেই জল্পনাতেই কার্যত সিলমোহর দিল। ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর এই প্রথম হ্যারি, মেগান এবং তাঁদের সন্তানরা একসঙ্গে রাজা চার্লসের সঙ্গে দেখা করলেন।
২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলির পর এবারই প্রথম হ্যারি পরিবার-সহ ব্রিটেনে এলেন। যদিও গত বছর বাবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর তিনি একাই চার্লসের সঙ্গে দেখা করতে দেশে ফিরেছিলেন।
এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল আহত ও প্রাক্তন সেনাসদস্যদের জন্য হ্যারির প্রতিষ্ঠিত ইনভিক্টাস গেমস-এর প্রচার। তবে সফরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাজপরিবারের সঙ্গে সম্ভাব্য পুনর্মিলন। এর মধ্যেই নিরাপত্তা ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধও আবার সামনে আসে।
রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর ব্রিটিশ সরকার হ্যারি ও মেগানের সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হ্যারি। সফরের আগে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে মেগান ও সন্তানরা লন্ডনে আসবেন না। পরে অবশ্য তাঁরা হাইগ্রোভ হাউসে যোগ দেন।
এই বৈঠকের আরেকটি বিশেষ তাৎপর্যও রয়েছে। রাজা চার্লসের সঙ্গে নাতি-নাতনি আর্চি ও লিলিবেটেরও এটি কয়েক বছর পর প্রথম সামনাসামনি সাক্ষাৎ। শৈশবে হ্যারি ও তাঁর বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম যে হাইগ্রোভ হাউসে বড় হয়েছেন, সেই পরিচিত পরিবেশই পুনর্মিলনের জন্য বেছে নেওয়া হয়।
সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা আগেই বার্মিংহ্যামে ২০২৭ সালের ইনভিক্টাস গেমস-এর কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানে অংশ নেন হ্যারি। সেখানে তিনি পিকলবল খেলেন, হুইলচেয়ার রাগবিতে অংশ নেন এবং এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে উষ্ণ মন্তব্য করেন।
তবে পারিবারিক এই ইতিবাচক মুহূর্তের মধ্যেই আইনি ধাক্কাও খেয়েছেন হ্যারি। শুক্রবারই ব্রিটেনের এক আদালত ডেইলি মেল-এর প্রকাশনা সংস্থার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁর দাবি খারিজ করে দেয়।
গত কয়েক বছরে অপরা উইনফ্রে-কে দেওয়া বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার, হ্যারির আত্মজীবনী Spare এবং তাঁদের তথ্যচিত্র রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে হাইগ্রোভ হাউসের এই নীরব পারিবারিক বৈঠককে অনেকেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। যদিও সম্পর্কের বরফ সত্যিই গলতে শুরু করেছে কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনেই।