হাইলাইটস:
- নাবালিকাকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে আত্মীয় গ্রেফতার
- পকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ
- আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তকে হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ
- ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ
বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতায় এক নাবালিকাকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে তারই এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং নাবালিকার বয়ান রেকর্ড করার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে পেশ করা হলে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনীয় ফরেনসিক ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
পুলিশের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। মামলার তদন্ত চলছে।
বাড়ির লোকই যখন শিকারি
কলকাতার সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবার মনে করিয়ে দিল এক অস্বস্তিকর সত্য। শিশুদের যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ অনেক সময় রাস্তার অচেনা মানুষ নয়, বাড়ির ভেতরের মানুষই। যে আত্মীয়কে বিশ্বাস করতে শেখানো হয়, যে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে শিশুকে নিশ্চিন্তে রেখে দেওয়া হয়, বহু ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাসই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
শিশু সুরক্ষা নিয়ে আমাদের সামাজিক ধারণার সবচেয়ে বড় ভুল হল, আমরা বিপদকে বাড়ির বাইরে খুঁজি। অথচ বিভিন্ন গবেষণা, আদালতের মামলা এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থার তথ্য বারবার দেখিয়েছে, অধিকাংশ শিশুই যৌন নিগ্রহের শিকার হয় পরিচিত মানুষের হাতে। বাবা, সৎবাবা, কাকা, মামা, দাদা, আত্মীয় কিংবা পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিচিত—অপরাধীর তালিকায় এঁরাই বেশি। কারণ শিশুর বিশ্বাস, নির্ভরতা এবং নীরবতাকে কাজে লাগানো সবচেয়ে সহজ।
ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অধিকাংশ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুর পরিচিত—এ তথ্য বহু সরকারি ও স্বাধীন সমীক্ষায় উঠে এসেছে। তাই “অচেনা লোকের সঙ্গে কথা বলবে না”—এই শিক্ষা যথেষ্ট নয়। বরং শেখাতে হবে, পরিচিত কেউ হলেও তার কোনও আচরণ যদি অস্বস্তিকর লাগে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য প্রাপ্তবয়স্ককে জানাতে হবে।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়, বাড়ির ভেতরে ঘটে যাওয়া নির্যাতন দীর্ঘদিন গোপন থাকে। সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক চাপ, আর্থিক নির্ভরতা বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিযোগই দায়ের হয় না। ফলে অপরাধী আরও সাহসী হয়ে ওঠে, আর শিশুটি সারাজীবনের মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়ায়।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হলে একটি কঠিন সত্য মেনে নিতেই হবে—বাড়ি নিরাপদ হতে পারে, কিন্তু বাড়ির সবাই নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই অন্ধ বিশ্বাস নয়, সচেতনতা, খোলামেলা যোগাযোগ এবং অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়াই শিশু সুরক্ষার প্রথম শর্ত। যখন পরিবারের মানুষই অভিযুক্ত হন, তখন নীরবতা কোনও সমাধান নয়; সেটাই অপরাধীর সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।