খবর

মেঘালয় চিড়িয়াখানায় স্টাম্প-টেইলড মাকাকের জন্ম, সংরক্ষণে নতুন মাইলফলক

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের চিড়িয়াখানায় প্রথমবারের মতো একটি স্টাম্প-টেইলড মাকাক বা ‘ভালুক-মুখো বানর’-এর জন্ম হয়েছে।
  • চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে শুধু একটি প্রাণীর জন্ম নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিপন্ন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে।
  • চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্যোজাত শাবকটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং মায়ের সঙ্গেই অবস্থান করছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের চিড়িয়াখানায় প্রথমবারের মতো একটি স্টাম্প-টেইলড মাকাক বা ‘ভালুক-মুখো বানর’-এর জন্ম হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে শুধু একটি প্রাণীর জন্ম নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিপন্ন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্যোজাত শাবকটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং মায়ের সঙ্গেই অবস্থান করছে। পশুচিকিৎসক ও প্রাণী পরিচর্যাকারীরা নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন। এই প্রজনন সাফল্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা এবং উপযুক্ত আবাসস্থল তৈরির ফল বলে মনে করা হচ্ছে। স্টাম্প-টেইলড মাকাক (বৈজ্ঞানিক নাম Macaca arctoides) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বিরল প্রজাতির বানর। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) এই প্রজাতিকে ‘ভালনারেবল’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং অবৈধ শিকারের কারণে তাদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে।  এই প্রজাতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল ছোট লেজ, ঘন বাদামি বা কালচে লোম এবং মুখের বিশেষ গঠন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মুখের রং পরিবর্তিত হয়। এরা সাধারণত ফল, বীজ, পাতা, শিকড়, পোকামাকড় ও ছোট প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।  জানা গিয়েছে, শাবকটির বাবা-মাকে মিজোরামের Aizawl Zoological Park থেকে প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির আওতায় মেঘালয়ে আনা হয়েছিল। উপযুক্ত পরিবেশে তাদের রাখা হয় এবং পরে সফলভাবে প্রজনন ঘটে। এই ঘটনা দেখিয়ে দিল যে বন্দিদশাতেও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিপন্ন প্রজাতির সংরক্ষণ সম্ভব।  বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারত এই প্রজাতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসভূমি। মেঘালয়ের বনাঞ্চল, বিশেষ করে Nokrek National Park এবং Balpakram National Park এলাকায় এখনও স্টাম্প-টেইলড মাকাকের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে মানুষের অনুপ্রবেশ এবং বনভূমির সংকোচনের ফলে তাদের অস্তিত্ব ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।  এই পরিস্থিতিতে চিড়িয়াখানাভিত্তিক প্রজনন কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এর মাধ্যমে শুধু প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে পুনরায় প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। বিশ্বের বহু দেশে বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণে এই ধরনের ‘এক্স-সিটু কনজারভেশন’ বা প্রাকৃতিক আবাসভূমির বাইরে সংরক্ষণ কর্মসূচি সফল হয়েছে।  মেঘালয় স্টেট জুর এই সাফল্য রাজ্যের বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় উৎসাহ। উত্তর-পূর্ব ভারতের জীববৈচিত্র্য ভারতের মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ। কিন্তু সেই বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জনসচেতনতা এবং সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।সদ্যোজাত স্টাম্প-টেইলড মাকাকটির জন্ম তাই শুধুমাত্র একটি সুখবর নয়; এটি একটি বার্তাও বহন করছে—বিপন্ন প্রজাতিকে বাঁচাতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা করলে সাফল্য আসতে পারে। মেঘালয়ের এই ছোট্ট শাবক ভবিষ্যতে হয়তো তার প্রজাতির সংরক্ষণের এক বড় প্রতীক হয়ে উঠবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles