হাইলাইটস:
- কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন স্বীকার করেছেন, তাঁর সামুদ্রিক নীতি-ভাবনার অন্যতম উৎস অমিতাভ ঘোষের বই The Nutmeg’s Curse।
- ‘মিশন সমুদ্র’-এর অধীনে ৫০ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাদুঘর গড়ার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
- এই মন্তব্যে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেখক অমিতাভ ঘোষ।
- প্রকল্পে কেরলের ৬০০ কিলোমিটার উপকূল, বন্দর ও সামুদ্রিক সম্পদকে একত্রিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- সতীশন নীতি নির্ধারণে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের সুপারিশ করেছেন।
বাংলাস্ফিয়ার: কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন-এর একটি মন্তব্যে বিশেষভাবে আনন্দিত হয়েছেন বিশিষ্ট লেখক অমিতাভ ঘোষ।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেরলকে আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া ‘মিশন সমুদ্র’ কর্মসূচির অন্তর্গত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাদুঘর গড়ার ধারণা আংশিকভাবে এসেছে ঘোষের ২০২১ সালের বই The Nutmeg’s Curse থেকে।
‘রিড উইথ ভিডি’ নামে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সতীশন বলেন, তিনি যে সব নীতিগত সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমূলক ভাবনা গ্রহণ করেন, তার অনেকগুলির পেছনেই রয়েছে বিভিন্ন বই থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা। এই প্রসঙ্গে তিনি The Nutmeg’s Curse-এর উল্লেখ করেন। পরে এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অমিতাভ ঘোষ প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, “শুধু কেরলেই এমন হতে পারে, যেখানে একজন মুখ্যমন্ত্রী দ্য নাটমেগ’স কার্স-এর মতো একটি বই থেকে নীতি নির্ধারণের অনুপ্রেরণা নেন।”
প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাদুঘরের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। সতীশনের মতে, পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশ নাবিকেরা কীভাবে কেরল উপকূলে আকৃষ্ট হয়েছিল এবং কেরলের সমুদ্রভিত্তিক ঐতিহ্য কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সেই ইতিহাসও এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
‘মিশন সমুদ্র’-এর জন্য রাজ্য বাজেটে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেরলের ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা, দুটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর, একটি কনটেনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, ১৭টি অ-প্রধান বন্দর এবং অন্যান্য জলসম্পদকে সমন্বিত উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে ভিঝিনজাম বন্দর-কে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিভিত্তিক ‘গ্রিন বাঙ্কারিং’ পরিষেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সতীশন জানান, তাঁর নীতি-ভাবনায় আরও প্রভাব ফেলেছে জাপানের ‘সিলভার ইকোনমি’ মডেল এবং ইয়ানিস ভারুফাকিস-এর অর্থনীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থা বিষয়ক লেখাগুলি। একই অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি বইয়েরও সুপারিশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে নেক্সাস, হোমো ডিউস এবং দ্য সিঙ্গুলারিটি ইজ নিয়ার।
অমিতাভ ঘোষের The Nutmeg’s Curse মূলত ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকতার শোষণমূলক অর্থনৈতিক দর্শনের সমালোচনা করে। বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে মশলার বাণিজ্য, বিশেষত জায়ফলকে কেন্দ্র করে ডাচ উপনিবেশবাদ বিস্তার লাভ করেছিল এবং সেই মানসিকতারই দীর্ঘ ছায়া আজকের পরিবেশ ও জলবায়ু সংকটের ওপর পড়েছে। ঘোষের মতে, প্রকৃতি ও আদিবাসী সমাজকে শুধুমাত্র সম্পদ হিসেবে দেখার প্রবণতাই বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের অন্যতম কারণ।
বইটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক প্রশংসা পায়। লেখক নাওমি ক্লেইন, ইতিহাসবিদ সুনীল অমৃত, লেখক রয় স্ক্র্যান্টন এবং বিজ্ঞান-ইতিহাসবিদ নাওমি ওরেসকেস-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বইটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, পরিবেশ সংকট বোঝার ক্ষেত্রে এই বই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।