হাইলাইটস
- গ্লোবাল পাসপোর্ট ইনডেক্সে ১৯৭ দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১২৫তম।
- গত বছরের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়েছে ভারত, তবে ২০২১ সালের তুলনায় অবস্থানের উন্নতি হয়েছে।
- শুধু ভিসামুক্ত ভ্রমণ নয়, জীবনযাত্রার মান, বিনিয়োগের সুযোগ ও বৈশ্বিক গতিশীলতার মতো সূচকেও মূল্যায়ন করা হয়।
- শীর্ষ ১০-এ ইউরোপের ৯টি দেশ, এশিয়া থেকে প্রথম ২০-এ জায়গা পেয়েছে শুধু সিঙ্গাপুর।
ভারতের পাসপোর্টের বৈশ্বিক অবস্থান আবারও আলোচনায়। আবাসন ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা গ্লোবাল সিটিজেন সলিউশন্স-এর প্রকাশিত পঞ্চম গ্লোবাল পাসপোর্ট ইনডেক্স (জিপিআই)-এ ১৯৭টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান হয়েছে ১২৫তম। গত বছরের তুলনায় ভারত এক ধাপ পিছিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে কিছুটা অগ্রগতিও রয়েছে। ২০২১ সালে সূচক চালু হওয়ার সময় ভারতের অবস্থান ছিল ১২৭তম।
এবারের তালিকায় ভারতের ঠিক উপরে রয়েছে নামিবিয়া (১২৪তম) এবং নিচে আজারবাইজান (১২৬তম)। অবস্থান সামান্য নেমে গেলেও ভারতের যৌথ স্কোর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫.১, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এই সূচকের বিশেষত্ব হল, এটি শুধু ভিসামুক্ত বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধার ভিত্তিতে পাসপোর্টের মূল্যায়ন করে না। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের স্বাধীনতার পাশাপাশি বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, জীবনযাত্রার মান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক সংযোগ—সব মিলিয়েই একটি দেশের পাসপোর্টের সামগ্রিক শক্তি নির্ধারণ করা হয়।
এই কারণেই গ্লোবাল পাসপোর্ট ইনডেক্স অন্যান্য জনপ্রিয় পাসপোর্ট র্যাঙ্কিং থেকে আলাদা। যেখানে অনেক সূচক মূলত ভিসামুক্ত ভ্রমণকেই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরে, সেখানে জিপিআই একজন নাগরিকের বৈশ্বিক সুযোগ-সুবিধার বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করে।
এবারের তালিকায় ইউরোপের প্রাধান্য স্পষ্ট। শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ৯টিই ইউরোপের। এশিয়া থেকে প্রথম ২০-এ জায়গা করে নিতে পেরেছে একমাত্র সিঙ্গাপুর। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও একটি পাসপোর্টের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভারতের ক্ষেত্রে সামগ্রিক স্কোর বাড়লেও অবস্থানের অবনতি হয়েছে, কারণ একই সময়ে অন্যান্য দেশও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে এগিয়ে চললেও ভারতের পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আরও বেশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, ভিসা সহজীকরণ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, জীবনযাত্রার মান এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংযোগের উন্নতিও ভবিষ্যতের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সব মিলিয়ে, এবারের সূচকে ভারত এক ধাপ পিছিয়ে গেলেও দীর্ঘমেয়াদে উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টধারী দেশগুলির কাতারে পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি।