হাইলাইটস:
- সুপার টাইফুন ‘বাভি’-তে ঘণ্টায় প্রায় ২৮০ কিলোমিটার বেগে বইছে স্থায়ী ঝড়ো হাওয়া।
- শক্তির বিচারে এটি ‘ক্যাটাগরি–৫’ সমতুল্য ঘূর্ণিঝড়।
- আমেরিকার অধীনস্থ গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে জারি হয়েছে ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা।
- ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া দপ্তর।
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া সুপার টাইফুন ‘বাভি’ দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ২৮০ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী ঝড়ো হাওয়া এবং আরও প্রবল দমকা বাতাস নিয়ে এটি আমেরিকার অধীনস্থ গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, শক্তির বিচারে ‘বাভি’ ‘ক্যাটাগরি–৫’ ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য—যা ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে বিধ্বংসী স্তর।
আমেরিকার জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) ঝড়টিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করেছে। বিশেষ করে রোটা দ্বীপের ওপর বা তার খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দুর্বল নির্মাণের বাড়িঘর ভেঙে পড়তে পারে, অসংখ্য গাছ উপড়ে যেতে পারে এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।
প্রবল বাতাসের পাশাপাশি ঝড়ের সঙ্গে রয়েছে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং জীবনহানিকর জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা। নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যাও দেখা দিতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণ জল এবং অনুকূল আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ‘বাভি’ একটি সাধারণ টাইফুন থেকে সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এমন দ্রুত শক্তি সঞ্চয়কারী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
ঝড়ের প্রভাবে গুয়াম, সাইপান, টিনিয়ান এবং রোটা-সহ একাধিক দ্বীপে জরুরি সতর্কতা জারি হয়েছে। বিমান চলাচল, সমুদ্রপথ এবং দৈনন্দিন পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রেখেছে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পশ্চিমমুখী অগ্রসর হওয়ার সময় ‘বাভি’ ধীরে ধীরে কিছুটা শক্তি হারাতে পারে। তবে স্থলভাগে আঘাত হানার আগে পর্যন্ত এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থাতেই থাকবে। তাই আগামী কয়েক দিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলি।