Home খবর ৩৩ ডিগ্রি গরমে হুডি! সিসিটিভির এক সূত্রেই ফাঁস লোহগড় কেলেঙ্কারি

৩৩ ডিগ্রি গরমে হুডি! সিসিটিভির এক সূত্রেই ফাঁস লোহগড় কেলেঙ্কারি

Authored By Diptyajit Roy Chowdhury
8 views 3 minutes read
A+A-
Reset
হাইলাইটস
  • পুনের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবালের মৃত্যু প্রথমে দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল।
  • বাগদত্তা সিয়া গোয়েল দাবি করেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত খাদে পড়ে যান কেতন।
  • পরিবারের অভিযোগের পর তদন্তে নামে পুলিশ এবং একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।
  • ৩৩ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে এক যুবকের হুডি পরে ঘোরাফেরার সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
  • পুলিশের দাবি, সেই যুবকই ছিলেন চেতন চৌধুরী, সিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
  • জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, যা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পুনের লোহগড় দুর্গে ২৫ বছরের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে যে রহস্য তৈরি হয়েছিল, তার জট খুলতে সাহায্য করল একটি সিসিটিভি ফুটেজ। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, তদন্ত যত এগিয়েছে ততই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর সেই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে প্রচণ্ড গরমের দিনে এক যুবকের অস্বাভাবিক পোশাক।

গত ১৮ জুন নিজের বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে লোহগড় দুর্গে গিয়েছিলেন কেতন। দিনটি ছিল সিয়ার জন্মদিন। সিয়ার দাবি ছিল, দুর্গের এক প্রান্তে ছবি তুলতে গিয়ে কেতন হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।

প্রথম দিকে পুলিশের কাছেও ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু কেতনের পরিবারের সদস্যরা সেই ব্যাখ্যা মানতে চাননি। তাঁদের যুক্তি ছিল, কেতন ছিলেন অভিজ্ঞ ট্রেকার। লোহগড় দুর্গ এলাকায় তিনি আগেও বহুবার গিয়েছেন। ফলে এত সহজে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত আরও গভীরে নিয়ে যায় পুলিশ। কেতনের মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, যাতায়াতের পথ এবং দুর্গের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। সেই সময়েই তদন্তকারীদের নজরে আসে এক অদ্ভুত দৃশ্য। ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে এক ব্যক্তি মাথা থেকে শরীর ঢেকে হুডি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সাধারণত এমন গরমে কেউ এ ধরনের পোশাক পরে না। ফলে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে উদ্যোগী হয় পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, তিনি চেতন চৌধুরী নামে এক যুবক। আরও খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, চেতন এবং সিয়া গোয়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এরপরই তদন্তের দিশা বদলে যায়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন চেতনও লোহগড় দুর্গ এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। অথচ প্রথমে সিয়া তাঁর উপস্থিতির কথা গোপন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, কেতনের মৃত্যুর পর সিয়ার একাধিক বক্তব্যেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেন, সিয়া বারবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলছিলেন এবং ঘটনার বিবরণও সময়ে সময়ে বদলাচ্ছিলেন।

এর পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে আসে পুলিশের। কেতনের পাসপোর্ট রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিল। মোবাইল ফোনের তথ্য এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, এর পিছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকলে সিয়া এবং চেতনকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার মুখে দু’জনেই ভেঙে পড়েন এবং ঘটনায় নিজেদের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। অভিযোগ, কেতনকে দুর্গের একটি বিপজ্জনক অংশে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কেতন এবং সিয়ার বিয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে সিয়ার সঙ্গে চেতনের সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত খুনের সম্ভাব্য মোটিভ হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনি দৃষ্টিতে প্রমাণিত নয়।

ঘটনাটি অনেকের কাছেই গত বছরের বহুল আলোচিত রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেখানেও নবদম্পতির সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র। পুনের এই ঘটনায়ও প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং লোভের জটিল সমীকরণ সামনে এসেছে।

তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ আরও ডিজিটাল প্রমাণ, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করছে। তবে আপাতত একটি বিষয় স্পষ্ট—৩৩ ডিগ্রি গরমে পরা একটি হুডিই এমন এক সূত্র হয়ে উঠেছে, যা কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর রহস্যের পর্দা সরাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। অনেক সময় অপরাধীরা যতই নিখুঁত পরিকল্পনা করুক, সামান্য একটি ভুলই শেষ পর্যন্ত গোটা ষড়যন্ত্রকে প্রকাশ্যে এনে দেয়।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles