আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ৯২ রানের জয় নিশ্চিত করে দিল, টানা তৃতীয় বার একদিনের বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে জায়গা পেতে ফের যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলতে হবে ক্যারিবীয়দের। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে সেই যোগ্যতা অর্জন পর্বের বাধাই টপকাতে পারেনি দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফলে ভারতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে খেলাই হয়নি তাদের।
এই মুহূর্তে আইসিসি-র একদিনের ক্রিকেটের ক্রমতালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দশম স্থানে রয়েছে। আয়োজক দেশগুলি বাদ দিয়ে ক্রমতালিকার প্রথম আটটি পূর্ণ সদস্য দেশ সরাসরি বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পাবে। আয়োজকদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম আটে রয়েছে। অন্য আয়োজক জিম্বাবোয়ে রয়েছে ১১ নম্বরে। ফলে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশও সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু দশম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল।
সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে আয়ারল্যান্ড ৫-০ অথবা ৪-১ ব্যবধানে জিতুক। তার পরে ভারতে আসন্ন একদিনের সিরিজে ভারতকে ২-০ ব্যবধানে হারাতে হত ক্যারিবীয়দের।
কিন্তু আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পরে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। ফলে বাকি সব ম্যাচ জিতলেও আয়ারল্যান্ড সর্বোচ্চ ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে জিতলেও আইসিসি ক্রমতালিকার প্রথম নয়ে উঠে আসা সম্ভব হবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
ভারতের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অতীতও ক্যারিবীয়দের পক্ষে খুব আশাব্যঞ্জক নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ বার ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক একদিনের সিরিজ জিতেছিল ২০০৬ সালে। আর ভারতের মাটিতে তাদের শেষ দ্বিপাক্ষিক একদিনের সিরিজ জয় এসেছিল ২০০২ সালে।
বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতনের ছবিটা গত কয়েকটি প্রতিযোগিতা ধরেই স্পষ্ট। ২০১৯ বিশ্বকাপে তারা সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে সে বার যোগ্যতা অর্জন পর্বে দাপট দেখিয়ে মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছিল। ২০২৩ বিশ্বকাপেও সরাসরি যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় ক্যারিবীয় দল। কিন্তু সে বার যোগ্যতা অর্জন পর্বের বাধাও পেরোতে পারেনি তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বার বিশ্বকাপের মূল পর্বে দেখা যায়নি দলটিকে।
অথচ একদিনের বিশ্বকাপের ইতিহাসের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নাম অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে। ১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপ এবং ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ—দু’টিই জিতেছিল ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৮৩ সালেও তারাই ছিল খেতাবের প্রধান দাবিদার। কিন্তু ফাইনালে অপ্রত্যাশিত ভাবে কপিল দেবের ভারতীয় দলের কাছে হেরে যায় প্রবল পরাক্রমশালী ক্যারিবীয়রা।
বিশ্বকাপ একাধিক বার জেতা মাত্র তিনটি দেশের অন্যতম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়রা দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ভারতও দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছে, আর অস্ট্রেলিয়া ছ’বার। সেই গৌরবময় অতীতের উত্তরসূরিদেরই এখন টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে মূল প্রতিযোগিতায় পৌঁছতে যোগ্যতা অর্জন পর্বের কঠিন রাস্তা পেরোতে হবে।