খবর

মহারাষ্ট্রে ‘খরা’ ঘোষণার আগে অঙ্কের কঠিন পরীক্ষা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: মহারাষ্ট্রের ৩৬ জেলার মধ্যে ৩১টি বৃষ্টিঘাটতিতে, এবং ২০ জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ থেকে ৫৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
  • ২৪ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের এই চিত্রের সঙ্গে মাঠের দীর্ঘ শুকনো বিরতির তথ্য মিলেছে।
  • রাজ্যের ৩৫৫টি খরাপ্রভাবিত তালুকের শতাধিক এলাকায় একটানা ৪০ থেকে ৬০ দিন কার্যকর বৃষ্টি হয়নি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: মহারাষ্ট্রের ৩৬ জেলার মধ্যে ৩১টি বৃষ্টিঘাটতিতে, এবং ২০ জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ থেকে ৫৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের এই চিত্রের সঙ্গে মাঠের দীর্ঘ শুকনো বিরতির তথ্য মিলেছে। রাজ্যের ৩৫৫টি খরাপ্রভাবিত তালুকের শতাধিক এলাকায় একটানা ৪০ থেকে ৬০ দিন কার্যকর বৃষ্টি হয়নি। প্রায় ১৪৭ লক্ষ হেক্টরে বোনা প্রধান খরিফ ফসলের বড় অংশ শুকিয়েছে। তবু ‘কম বৃষ্টি’ এবং সরকারি ‘খরা ঘোষণা’ আইনত একই নয়।

মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ করা হবে; পরে আরও এলাকা যোগ হতে পারে। রাজস্বমন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলের নেতৃত্বে কমিটি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। মাঠসমীক্ষা বা পঞ্চনামার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সাহায্যের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এসেছে, কিন্তু কোন গ্রাম বা তালুক কোন শ্রেণিতে পড়বে এবং ক্ষতিপূরণের হার কত হবে—চূড়ান্ত নথি ছাড়া নিশ্চিত নয়।

ভারতের খরা-নির্দেশিকায় শুধু মৌসুমি বৃষ্টির শতকরা ঘাটতি দেখা হয় না। বৃষ্টিহীন দিনের দৈর্ঘ্য, ফসলের বপন ও ক্ষতি, মাটির আর্দ্রতা, জলাধার, ভূগর্ভস্থ জল এবং দূরসংবেদনভিত্তিক উদ্ভিদসূচক মিলিয়ে অবস্থা নির্ধারণ করা হয়। কোনও জেলার মোট বৃষ্টি সামান্য কম হলেও গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির সময়ে দীর্ঘ বিরতি ফসল নষ্ট করতে পারে। আবার এক দিনে প্রবল বৃষ্টি মৌসুমি মোট বাড়ালেও শুকিয়ে যাওয়া সয়াবিন বা তুলো ফিরিয়ে আনে না। এই কারণেই জেলা-গড়ের পাশাপাশি তালুক ও ফসলভিত্তিক পরীক্ষা জরুরি।

মারাঠওয়াড়া ও মধ্য মহারাষ্ট্রে পশুখাদ্যের আশঙ্কা বাড়ছে। মাঠের ঘাস ও খড় কমলে ডিসেম্বরের পর মজুত ফুরোতে পারে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে সতর্কতা এসেছে। তখন শুধু কৃষিঋণ বা ফসল-ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়; পশুখাদ্য শিবির, পানীয় জলের ট্যাঙ্কার এবং গবাদি পশুর স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন হতে পারে। আগেভাগে সংগ্রহ শুরু না-করলে সংকটের সময়ে দূর থেকে খাদ্য আনতে খরচ বাড়ে। কিন্তু সম্ভাব্য ঘাটতিকে বর্তমান সর্বত্র দুর্ভিক্ষ বলে দেখানোও ভুল।

ফসলবিমার দাবি এবং সরকারি দুর্যোগ সহায়তা পৃথক পথ। বিমায় কোন ফসল, এলাকা ও ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত, কাট-অফ পরীক্ষা কী এবং দাবি কখন—চাষিকে লিখিত তথ্য দরকার। সরকারি খরা ঘোষণা হলে ঋণ পুনর্গঠন, জল ও কাজের সহায়তার সুযোগ খুলতে পারে, কিন্তু সব টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে আসে না। জমির নথি, বপনের প্রমাণ ও ক্ষতির তালিকা সময়মতো না-হলে প্রান্তিক ও ভাগচাষি বাদ পড়তে পারেন।

শহরের জল পরিকল্পনাও কৃষি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। জলাধার কমলে প্রথমে গ্রামীণ সরবরাহ ও সেচ কাটার প্রবণতা থাকে, অথচ শহরের অপচয় ও পাইপের ক্ষতি অদৃশ্য থেকে যায়। শিল্পে পুনর্ব্যবহৃত জল, শহরে ফুটো মেরামত এবং কৃষিতে সময়মতো ক্ষুদ্র সেচ—সব ক্ষেত্রেই চাহিদা কমানোর সুযোগ আছে। জরুরি ট্যাঙ্কার ব্যবস্থায় দরপত্র, জলমান ও সরবরাহের পথ প্রকাশ না-হলে দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ে। খরা ঘোষণার সঙ্গে পানীয় জলের অগ্রাধিকার, পশুর জল ও হাসপাতাল–স্কুলের ন্যূনতম বরাদ্দের জেলা পরিকল্পনা প্রকাশ করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষণ: ঘোষণার অঙ্কে রাজনৈতিক দরকষাকষি থাকলেও মাঠের তথ্য জনসমক্ষে রাখা সম্ভব। প্রতি তালুকের বৃষ্টি, শুকনো দিন, ফসলের অবস্থা ও জলাধার এক ড্যাশবোর্ডে দিলে অন্তর্ভুক্তি–বর্জনের কারণ বোঝা যাবে। দ্রুত ঘোষণা জরুরি, কিন্তু তাড়াহুড়োয় অসম্পূর্ণ তালিকাও ক্ষতিকর। দীর্ঘমেয়াদে কম জলচাহিদার ফসল, স্থানীয় জলধারণ ও সেচের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আপাত কাজ আরও নির্দিষ্ট: ক্ষতি নথিভুক্ত করা, পশুখাদ্য আগে জোগাড় করা এবং সাহায্য পৌঁছনোর সময়সীমা প্রকাশ করা।

কাজের বিনিময়ে মজুরি কর্মসূচিকে জলধারণ, মাটি সংরক্ষণ ও পশুখাদ্য তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাৎক্ষণিক আয় ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি একসঙ্গে এগোতে পারে। তবে কাজের অনুমোদন দিলেই সহায়তা পৌঁছয় না; মজুরি দেরি হলে ঋণ বাড়ে। তাই প্রকল্পের সংখ্যা নয়, কাজ শুরু ও টাকা পাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ও অবশ্যই নিয়মিত প্রকাশ করা জরুরি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles