খবর

আইআইটি বম্বেতে ছাত্রমৃত্যু: অধিকর্তার গ্রেফতার চেয়ে অনশনে বাবা-মা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: আইআইটি বম্বের এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা ও ছাত্রকল্যাণ বিভাগের ডিনের গ্রেফতার চেয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসলেন তাঁর বাবা-মা।
  • বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে অনশন শুরু করেন তাঁরা।
  • তার আগে জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের সঙ্গে দেখা করেন মৃত ছাত্রের অভিভাবকেরা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: আইআইটি বম্বের এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা ও ছাত্রকল্যাণ বিভাগের ডিনের গ্রেফতার চেয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসলেন তাঁর বাবা-মা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে অনশন শুরু করেন তাঁরা। তার আগে জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের সঙ্গে দেখা করেন মৃত ছাত্রের অভিভাবকেরা। গত সপ্তাহে ওই ছাত্রের মৃত্যুর পর পরীক্ষাকক্ষে তাঁর সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠান।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই ছাত্রকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তার কয়েক ঘণ্টা আগে পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার জন্য তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়েছিল। পরীক্ষাকক্ষের সেই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে কী আচরণ করা হয়েছিল, তা নিয়েই পড়ুয়া ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ফারাক। মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া এই পর্বটি অভিযোগের কেন্দ্রে।

আইআইটি বম্বের পড়ুয়াদের অভিযোগ, মোবাইল ব্যবহারের ঘটনার পরে ওই ছাত্রকে পরীক্ষার হল ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। সম্ভাব্য ব্যবস্থার মধ্যে সাময়িক বরখাস্তের কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ। অর্থাৎ, পড়ুয়াদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষাকক্ষে ভর্ৎসনার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল না; ছাত্রটির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠান অবশ্য এই অভিযোগ খারিজ করেছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ওই ছাত্রকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে পরীক্ষাকক্ষের ঘটনার জন্য তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কোনও বিরূপ প্রভাব পড়বে না। পড়ুয়ারা যেখানে শাস্তির হুমকির অভিযোগ করছেন, কর্তৃপক্ষ সেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আশ্বাস দেওয়ার কথা বলছেন। ছাত্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঠিক কী কথোপকথন হয়েছিল, তা যাচাই করলেই এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সত্যতা বোঝা সম্ভব।

মৃত ছাত্রের বাবা-মা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা শিরীষ কেদারে এবং ছাত্রকল্যাণ বিভাগের ডিন সত্যনারায়ণ দুল্লার গ্রেফতার দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে তাঁরা আজাদ ময়দানে যান এবং সন্ধ্যায় অনশন শুরু করেন। অনশন কত দিন চলবে, তার কোনও সময়সীমা রাখেননি তাঁরা; কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথম তথ্যবিবরণী দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৮৯ সালের তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের বিধানও যুক্ত হয়েছে মামলায়। ফলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সঙ্গে ওই বিশেষ আইনের অধীনেও ঘটনাটি তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে মামলা দায়ের হওয়া এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া পৃথক বিষয়।

ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে আইআইটি বম্বের দশ সদস্যের একটি কমিটিও তদন্ত শুরু করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনুসন্ধান, অন্যদিকে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত অভিযোগ—এই পরিস্থিতিতে পরিবারের গ্রেফতারের দাবি সামনে এল। পরীক্ষাকক্ষের ঘটনা, শাস্তির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের বক্তব্য মিলিয়ে মৃত্যুর আগের ঘটনাক্রম স্পষ্ট হওয়া জরুরি। সেই তদন্ত চলার মধ্যেই ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যবস্থা চেয়ে অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন বাবা-মা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles