কর-বকেয়া আদায়ে গ্রেফতার আর নয়

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ আয়কর-বকেয়া আদায়ের বিধিবদ্ধ পথ থেকে গ্রেফতার ও আটক বাদ দিয়েছে।
- ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১২০/২০২৬, ‘আয়কর (চতুর্থ সংশোধন) বিধি, ২০২৬’, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
- এটি করদাতার বকেয়া মুছে দেওয়া বা আয়কর-সংক্রান্ত সব অপরাধে গ্রেফতার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা নয়; নির্দিষ্ট পুনরুদ্ধার-বিধির একটি পদ্ধতি সরানো হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ আয়কর-বকেয়া আদায়ের বিধিবদ্ধ পথ থেকে গ্রেফতার ও আটক বাদ দিয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১২০/২০২৬, ‘আয়কর (চতুর্থ সংশোধন) বিধি, ২০২৬’, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এটি করদাতার বকেয়া মুছে দেওয়া বা আয়কর-সংক্রান্ত সব অপরাধে গ্রেফতার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা নয়; নির্দিষ্ট পুনরুদ্ধার-বিধির একটি পদ্ধতি সরানো হয়েছে।
আগের নিয়মে বকেয়া আদায়ের বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে সম্পত্তি জব্দ ও বিক্রি, গ্রেফতার ও আটক এবং কিছু ক্ষেত্রে রিসিভার নিয়োগের উল্লেখ ছিল। সংশোধনে গ্রেফতার-আটকের অংশ বাদ পড়েছে। অস্থাবর বা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ, নিলাম, ব্যাঙ্ক-হিসাব বা পাওনা থেকে পুনরুদ্ধার এবং আইনে অনুমোদিত অন্য ব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে। ফলে নোটিস উপেক্ষা করলে এখন কোনও পরিণতি নেই—এমন ধারণা বিপজ্জনক।
সংশোধনটি আয়কর বিধির রুল ২২৫ ও সংশ্লিষ্ট তফসিল-পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত। আইনের ভাষায় ‘পুনরুদ্ধার’ এবং ‘বিচারাধীন অপরাধ’ আলাদা। ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকি, মিথ্যা বিবৃতি, তল্লাশি-সংক্রান্ত বাধা বা অন্য অভিযোগে মূল আইনের পৃথক দণ্ড ও প্রসিকিউশন বিধান থাকতে পারে। এই বিজ্ঞপ্তি সেগুলির প্রত্যেকটি বাতিল করেনি। তাই কোনও নির্দিষ্ট মামলা বা সমন পেয়েছেন এমন ব্যক্তি শুধু সংবাদশিরোনাম দেখে হাজিরা বন্ধ করতে পারেন না।
একই বিজ্ঞপ্তিতে নিবন্ধিত মূল্যনির্ধারক ও আয়কর-পেশাজীবীদের জন্য ফর্ম ১৬৯ ও ১৭১-সহ কিছু প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন এসেছে। নিবন্ধনের সময়সীমা ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত প্রসারিত করার কথাও রয়েছে। এগুলি পেশাগত নিবন্ধনের বিষয়; সাধারণ বেতনভোগীর রিটার্ন জমার সময়সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়েনি। এক বিজ্ঞপ্তির বিভিন্ন অংশকে একসঙ্গে ‘সব করের সময়সীমা বৃদ্ধি’ বলা ভুল।
বকেয়ার নোটিস পেলে প্রথমে অঙ্ক, মূল্যায়নবর্ষ, সুদ এবং ইতিমধ্যে দেওয়া টাকার সমন্বয় মিলিয়ে দেখা দরকার। আয়কর পোর্টালে অনেক বিরোধ পুরনো চালান, টিডিএস বা ভুল তথ্যের কারণে দেখা দেয়। দাবি সঠিক হলে অনুমোদিত কিস্তি বা স্থগিতাদেশের পথ থাকতে পারে; ভুল হলে নির্ধারিত সময়ে প্রতিক্রিয়া, সংশোধন বা আপিল দরকার। নোটিস সত্যি কি না যাচাই করতে সরকারি পোর্টালের পরিচিতি ব্যবহার করাই নিরাপদ।
নিয়মটি ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর বলে গণ্য হওয়ায় ওই তারিখের পর শুরু হওয়া বা চলমান পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় এর প্রয়োগ নিয়ে নথি পরীক্ষা প্রয়োজন। আগের আটক-আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে কি না, সেটি বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম থেকে বলা যায় না; মামলার তারিখ ও আদালতের আদেশ গুরুত্বপূর্ণ। যাঁর বিরুদ্ধে এমন পুরনো পদক্ষেপ রয়েছে, তাঁকে প্রত্যয়িত নকল নিয়ে আইনজীবীর সহায়তা নিতে হবে। সাধারণ করদাতার ক্ষেত্রে এই বিরল পথের পরিবর্তন দৈনন্দিন রিটার্ন বা অগ্রিম করের হিসাব বদলায় না।
কর-আদায়কারী কর্মকর্তা সম্পত্তি জব্দের আগেও বিধিবদ্ধ নোটিস ও সময়সীমা মানবেন। বসতবাড়ি, যৌথ হিসাব বা তৃতীয় পক্ষের সম্পত্তি নিয়ে পৃথক অধিকার উঠতে পারে। পরিবারের সদস্যের বকেয়া হলেই অন্যের আমানত নেওয়া যায়—এমন সাধারণ ক্ষমতা নেই; মালিকানা, গ্যারান্টি ও অর্থের উৎসের প্রমাণ প্রয়োজন। প্রতিটি দাবি তাই নথি ও নির্দিষ্ট আইনি ক্ষমতা দিয়ে যাচাইযোগ্য।
বিশ্লেষণ: নাগরিক স্বাধীনতার দৃষ্টিতে কর-আদায়ের জন্য ব্যক্তিকে আটক করার পথ বাদ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র এখনও অর্থ উদ্ধার করতে পারবে, কিন্তু ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বদলে সম্পত্তিভিত্তিক ব্যবস্থা প্রাধান্য পাবে। বাস্তব ফল নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে পুরনো মামলা কীভাবে সামলানো হয় এবং কর্তৃপক্ষ সময়মতো সংশোধিত নথি ব্যবহার করে কি না।
তবে ‘গ্রেফতার নেই’ কথাটি সবচেয়ে সহজে ভুল পথে যায়। পুনরুদ্ধার-সনদের আটক বাদ এবং কর-অপরাধের ফৌজদারি তদন্ত এক নয়। করদাতার সুরক্ষা হল লিখিত আদেশ চাওয়া, আপিলের সময়সীমা রাখা এবং সব জমা-প্রতিক্রিয়ার স্বীকৃতি সংরক্ষণ। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দিয়ে কোনও নোটিসের বৈধতা নির্ধারণ করা যাবে না; সরকারি বিজ্ঞপ্তির সুনির্দিষ্ট ধারা ও নিজের মামলার ভিত্তি মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



