অর্থ ও বাণিজ্য

বিমা বিক্রি নিয়ে নতুন নির্দেশিকা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: বিমা নিয়ন্ত্রক আইআরডিএআই ২৩ সেপ্টেম্বর ‘রেক্যালিব্রেটিং ইকনমিক্স অব ইনশিওরেন্স ডিস্ট্রিবিউশন’ নামে দুই-পর্বের পরামর্শপত্র প্রকাশ করেছে।
  • লক্ষ্য কমিশনকে পণ্য বিক্রির প্রকৃত পরিশ্রম, মেয়াদ ও গ্রাহকসেবার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্য করা এবং অনুপযুক্ত বিক্রি কমানো।
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মতামত চাওয়া হয়েছে; প্রস্তাবিত হার আজ থেকেই পলিসিতে প্রযোজ্য নয় এবং আলোচনার পরে বদলাতে পারে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: বিমা নিয়ন্ত্রক আইআরডিএআই ২৩ সেপ্টেম্বর ‘রেক্যালিব্রেটিং ইকনমিক্স অব ইনশিওরেন্স ডিস্ট্রিবিউশন’ নামে দুই-পর্বের পরামর্শপত্র প্রকাশ করেছে। লক্ষ্য কমিশনকে পণ্য বিক্রির প্রকৃত পরিশ্রম, মেয়াদ ও গ্রাহকসেবার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্য করা এবং অনুপযুক্ত বিক্রি কমানো। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হল—এটি খসড়া। ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মতামত চাওয়া হয়েছে; প্রস্তাবিত হার আজ থেকেই পলিসিতে প্রযোজ্য নয় এবং আলোচনার পরে বদলাতে পারে।

প্রস্তাবে জীবনবিমার মেয়াদ ও বিক্রয়পথ অনুযায়ী প্রথম বছরের কমিশন আলাদা করা হয়েছে। দশ বছর বা তার বেশি মেয়াদের পলিসিতে ব্যক্তিগত এজেন্টের প্রথম বছরের সর্বোচ্চ কমিশন ২৫ শতাংশ এবং পরবর্তী বছরে ৫ শতাংশ; বিতরণ-প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ ও ৩ শতাংশের প্রস্তাব রয়েছে। খুব ছোট মেয়াদের পণ্যে এজেন্টের প্রথম বছরের সীমা ৬.২৫ শতাংশ এবং প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাংশ। দীর্ঘসময় পলিসি চালু থাকলে নবায়ন-কমিশন ধাপে বাড়িয়ে গ্রাহক ধরে রাখার প্রণোদনাও রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিমায় প্রথম বছরে ব্যক্তিগত এজেন্ট বা সহযোগীর জন্য ২০ শতাংশ, বিতরণ-প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৫ শতাংশ এবং হাসপাতালভিত্তিক পথের জন্য ৫ শতাংশের সীমা প্রস্তাবিত। নবায়নে হার যথাক্রমে ১০ ও ৫ শতাংশের মতো কম হবে। এই সংখ্যা গ্রাহকের প্রিমিয়াম থেকে সরাসরি একই শতাংশ ফেরত বা ছাড়ের ঘোষণা নয়। কমিশন বিমাকারীর সামগ্রিক ব্যয়ের একটি অংশ; দাবি-খরচ, পুনর্বিমা, পরিচালনা ও করও প্রিমিয়ামে ভূমিকা রাখে।

পরামর্শপত্রে কোম্পানির মোট ব্যবস্থাপনা-ব্যয় ধাপে কমানোর পথও আছে। জীবনবিমায় দুই বছরে ১৫ শতাংশ এবং পাঁচ বছরে ১২.৫ শতাংশের দিকে যাওয়ার লক্ষ্য; সাধারণ বিমায় পাঁচ বছরে দেশীয় মোট প্রিমিয়ামের ৩০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব। কোম্পানির আকার ও ব্যবসার মিশ্রণ ভিন্ন হওয়ায় এই অনুপাতকে কোনও একটি পলিসির ‘খরচ’ বলে পড়া যাবে না।

কমিশনের বাইরে গ্রাহক-অভিজ্ঞতার বড় প্রস্তাব হল উপযুক্ততা যাচাইয়ের লিখিত পথ। বিক্রেতাকে প্রয়োজন, আয়, বয়স ও ঝুঁকির সঙ্গে পণ্য মেলার ভিত্তি ধরে রাখতে হতে পারে। দাম বা পণ্য-তথ্য দেখার আগেই ফোন নম্বর ও ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বাধ্য করা, বিভ্রান্তিকর বোতাম বা অন্য ‘ডার্ক প্যাটার্ন’-এর বিরুদ্ধেও কড়াকড়ি চাওয়া হয়েছে। বাস্তব প্রয়োগে কোন নকশা নিষিদ্ধ হবে, তার চূড়ান্ত ভাষা এখনও হয়নি।

পরামর্শপত্রের পটভূমিতে বিতরণ-পথের ঘনত্বও রয়েছে। বেসরকারি জীবনবিমায় ব্যাঙ্ক-নির্ভর বিক্রি প্রিমিয়ামের বড় অংশ আনে; ফলে ব্যাঙ্ককর্মীর লক্ষ্য, বিমাকারীর কমিশন এবং গ্রাহকের আমানত-সম্পর্ক এক জায়গায় মিলতে পারে। ঋণ বা লকার পেতে বিমা নেওয়া বাধ্যতামূলক বলা হলে লিখিত নিয়ম চাওয়া দরকার। ঋণের সম্পদ-সুরক্ষা প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু পছন্দের বিমাকারী বা অপ্রাসঙ্গিক সঞ্চয়-পলিসি চাপিয়ে দেওয়া আলাদা বিষয়।

খসড়ায় বিক্রয়ের পর পরিষেবার মান মাপা, অভিযোগ ও পলিসি টিকে থাকার তথ্য কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করার ভাবনাও রয়েছে। এতে একবার বিক্রি করে সম্পর্ক শেষ করার প্রণোদনা কমতে পারে। তবে তথ্য কীভাবে যাচাই হবে এবং ভুল বিক্রির দায় এজেন্ট, ব্যাঙ্ক না বিমাকারীর—চূড়ান্ত বিধিতে সেই ভাগ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

মতামত জমার শেষ দিন পেরোলেই খসড়া কার্যকর হবে না; আলাদা চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রয়োজন।

বিশ্লেষণ: কমিশন কমলেই প্রিমিয়াম কমবে বা রিটার্ন বাড়বে—এ নিশ্চয়তা নেই। তবে পণ্যের প্রথম বছরে অতিরিক্ত বিক্রয়-প্রণোদনা কমে এবং নবায়নে সেবা-প্রণোদনা বাড়লে ভুল বিক্রির অর্থনীতি বদলাতে পারে। বিপরীতে কমিশন খুব কম হলে ছোট শহর বা জটিল পণ্যে পরামর্শের সরবরাহ কমার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই নিয়ন্ত্রকের সামনে খরচ ও প্রবেশাধিকারের ভারসাম্য।

বর্তমান গ্রাহকের করণীয় খসড়া দেখে পলিসি ভাঙা নয়। আত্মসমর্পণমূল্য, অপেক্ষাকাল, নতুন স্বাস্থ্য-পরীক্ষা এবং কর-প্রভাব ক্ষতি করতে পারে। নতুন পলিসিতে সুবিধার চিত্র, বাদ, কমিশন-প্রকাশ, বিনামূল্যে পর্যালোচনার সময় এবং অভিযোগের পথ লিখিতভাবে নেওয়া বেশি জরুরি। চূড়ান্ত বিধি প্রকাশের তারিখ ও পরিবর্তন না-দেখে খসড়ার শতাংশকে নিশ্চিত খরচ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles