বাজারের মূল সার্ভার থামলে চার ঘণ্টার বাস্তব মহড়া চায় সেবি

যা জানা জরুরি
- শেয়ারবাজার, ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন বা ডিপোজিটরির প্রধান তথ্যকেন্দ্র বিকল হলে বিকল্প কেন্দ্র কত দ্রুত পূর্ণ কাজ নিতে পারে, তা যাচাইয়ের নিয়ম বদলাতে চায় সেবি।
- ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পরামর্শপত্রে দুর্যোগ-পুনরুদ্ধার মহড়াকে পূর্ণ লেনদেন-দিনের বদলে অন্তত চার ঘণ্টার বাস্তব চাপপরীক্ষায় রূপ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
- বাজার-পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ অর্ডার নেয়, ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন টাকা ও শেয়ারের দায় মেলায় এবং ডিপোজিটরি মালিকানার নথি রাখে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
শেয়ারবাজার, ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন বা ডিপোজিটরির প্রধান তথ্যকেন্দ্র বিকল হলে বিকল্প কেন্দ্র কত দ্রুত পূর্ণ কাজ নিতে পারে, তা যাচাইয়ের নিয়ম বদলাতে চায় সেবি। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পরামর্শপত্রে দুর্যোগ-পুনরুদ্ধার মহড়াকে পূর্ণ লেনদেন-দিনের বদলে অন্তত চার ঘণ্টার বাস্তব চাপপরীক্ষায় রূপ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। জনমত দেওয়ার সময় ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
বাজার-পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ অর্ডার নেয়, ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন টাকা ও শেয়ারের দায় মেলায় এবং ডিপোজিটরি মালিকানার নথি রাখে। এদের কোনও স্তরে দীর্ঘ বিভ্রাট হলে বিনিয়োগকারী লেনদেন করতে, মার্জিন দিতে কিংবা সম্পন্ন বেচাকেনার শেয়ার পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন। খোলা ডেরিভেটিভ অবস্থান থাকলে কয়েক মিনিটের অচলাবস্থাও আর্থিক ঝুঁকি বাড়ায়।
বর্তমানে দুর্যোগ-পুনরুদ্ধার কেন্দ্র থেকে পূর্ণ দিনের লেনদেন চালিয়ে সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। সেবির প্রস্তাব অনুযায়ী মহড়া ছুটির দিনে হতে পারবে এবং অন্তত চার ঘণ্টা চলবে। এর মধ্যে প্রধান কেন্দ্র থেকে বিকল্প কেন্দ্রে কাজ সরানো, স্বাভাবিক বাজারের সমান চাপ তৈরি করা এবং ব্যর্থতার একাধিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে। সময় কমলেও পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর উদ্দেশ্য জানানো হয়েছে।
পরীক্ষার পরিস্থিতি নির্ধারণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি-বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ভূমিকা থাকবে। শুধু প্রতি সেকেন্ডে কত অর্ডার প্রক্রিয়াকরণ করা যায়, সেই পরিমাপ যথেষ্ট হবে না। বড় তথ্যসারণি, লেনদেনবহির্ভূত ব্যবস্থা, সংযোগ, লগ, সীমা অতিক্রমের আচরণ এবং প্রধান ও বিকল্প কেন্দ্রের বিন্যাসে অঘোষিত পার্থক্যও পরীক্ষা করতে হবে।
সেবি ‘কনফিগারেশন ড্রিফট’ বা সময়ের সঙ্গে দুই কেন্দ্রের সফ্টওয়্যার ও সেটিংস আলাদা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধান কেন্দ্রে হালনাগাদ করা হলেও বিকল্প কেন্দ্রে তা না পৌঁছলে জরুরি মুহূর্তে একই কাজ নাও হতে পারে। নিয়মিত তুলনা, পরিবর্তনের নথি এবং ব্যর্থ উপাদান আলাদা করেও ব্যবস্থা চালু রাখার ক্ষমতা যাচাইয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লেনদেনের তথ্য হারানো। এক্সচেঞ্জ থেকে ক্লিয়ারিং কর্পোরেশনে তথ্যের প্রতিলিপি পাঠানোর সময় সংযোগ ছিন্ন হলে কিছু বেচাকেনার নথি অনুপস্থিত থাকতে পারে। প্রস্তাবে ক্লিয়ারিং কর্পোরেশনের সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহার করে স্টক এক্সচেঞ্জকে হারানো তথ্য পুনর্গঠনের কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। ফলে একই লেনদেন দু’বার ধরা বা একেবারে বাদ পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
বিনিয়োগকারীর পক্ষে ডিম্যাট শেয়ারের মালিকানা এবং ব্রোকারের পর্দায় দেখা হিসাব এক জিনিস নয়। ডিপোজিটরির নথিই শেষ পর্যন্ত মালিকানা দেখায়। বাজারে প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে অর্ডারের সময়, বিনিময় নম্বর, চুক্তিপত্র এবং ব্যাঙ্ক লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা জরুরি। বিভ্রাটের সময়ে একই অর্ডার বারবার পাঠালে সংযোগ ফেরার পরে একাধিক লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
বিশ্লেষণ: চার ঘণ্টার মহড়া পূর্ণ দিনের পরীক্ষার তুলনায় ছোট শোনালেও প্রস্তাবটির মূল্য বিচার হবে বাস্তব চাপ ও ব্যর্থতার বৈচিত্র্য দিয়ে। আগাম সাজানো সহজ পরিস্থিতিতে সফল হওয়া প্রকৃত দুর্যোগ সামলানোর প্রমাণ নয়। সেবির চূড়ান্ত নিয়মে মহড়ার ফল, পাওয়া ত্রুটি, সংশোধনের সময় এবং পুনঃপরীক্ষার সারাংশ প্রকাশ করা হলে বিনিয়োগকারীরা বাজার-পরিকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা বাস্তব তথ্য দিয়ে বিচার করতে পারবেন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



