হাইলাইটস
- জি–৭ বৈঠকের আগে নয়াদিল্লিকে স্পষ্ট বার্তা দিল ওয়াশিংটন।
- মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
- হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশ মেনে চলতে ভারতীয় জাহাজগুলিকে বলা হয়েছে।
- ইরান থেকে তেল পরিবহণ নিয়ে ভারত–আমেরিকা সম্পর্কে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আশঙ্কা।
- সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু সেই সম্পর্কের মাঝেই ইরানকে ঘিরে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ইরান থেকে বেআইনি তেল পরিবহণ বা মার্কিন অবরোধ ভাঙার কোনও প্রচেষ্টা তারা মেনে নেবে না।
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, ইরানের তেল পরিবহণে কেউ জড়িত থাকলে বা অবরোধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে চলা ইরান সংকট। ইরান–আমেরিকা সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ ভারত এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ ভারতের তেলের বড় অংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে এবং হরমুজ প্রণালী সেই সরবরাহের প্রধান পথ।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে। আমেরিকা দাবি করছে, তারা ইরানি তেল রফতানি ঠেকাতে সমুদ্রপথে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে একাধিক তেলবাহী জাহাজকে আটকানো বা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি ঘটনায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে ভারত সরকার অভিযোগ করেছে। এই ঘটনার পর নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানায়।
ভারতের জন্য সমস্যাটি কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিকও। যুদ্ধ এবং অবরোধের ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ইতিমধ্যেই বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ভারতের প্রবৃদ্ধিকে ধাক্কা দিতে পারে।
এক সময় মার্কিন অনুমতিতেই ভারত সীমিত পরিমাণে ইরানি তেল আমদানি করেছিল। পরে নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকট মোকাবিলার জন্য ওয়াশিংটন কিছু অস্থায়ী ছাড় দিলেও এখন পরিস্থিতি আবার কঠোর হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জি–৭ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং Donald Trump-এর আলোচনায় বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ভারতের আগ্রহও আলোচনায় আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সামনে এখন কঠিন ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাশিয়ার তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ভারত বিকল্প উৎস খুঁজছে। কিন্তু ইরানের তেল সম্পূর্ণভাবে হাতছাড়া হলে সেই কাজ আরও কঠিন হবে।
ফলে মার্কিন সতর্কবার্তা শুধু একটি কূটনৈতিক মন্তব্য নয়; এটি ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক, পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং ভারতের জ্বালানি নীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহে জি–৭ বৈঠক এবং পরবর্তী বাণিজ্য ও কৌশলগত আলোচনাগুলি এই উত্তেজনার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে।