অর্থ ও বাণিজ্য

দশ বছরের সরকারি ঋণপত্রে ফলন সাত শতাংশ পেরোল, ঋণতহবিলের পুরনো লাভও নড়ল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভারতের দশ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণপত্রের ফলন ১৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ৭.০৭ শতাংশে উঠেছে।
  • দিনের এক পর্যায়ে তা ৭.০৯ শতাংশের কাছাকাছি যায়।
  • অপরিশোধিত তেলের দাম, দুর্বল টাকা, বৈশ্বিক সুদের প্রত্যাশা এবং সরকারি ঋণের সরবরাহ—সব মিলিয়ে বন্ডবাজারে চাপ বেড়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভারতের দশ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণপত্রের ফলন ১৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ৭.০৭ শতাংশে উঠেছে। দিনের এক পর্যায়ে তা ৭.০৯ শতাংশের কাছাকাছি যায়। আগস্টের শুরুতে ফলন প্রায় ৬.৮১ শতাংশ ছিল। অপরিশোধিত তেলের দাম, দুর্বল টাকা, বৈশ্বিক সুদের প্রত্যাশা এবং সরকারি ঋণের সরবরাহ—সব মিলিয়ে বন্ডবাজারে চাপ বেড়েছে।

বন্ডের ফলন বাড়া মানে নতুন ঋণপত্র তুলনামূলক বেশি আয় দেওয়ার দরে বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে কম কুপনের পুরনো বন্ডের বাজারদর কমে। এই বিপরীত সম্পর্কের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণপত্র ধরে রাখা মিউচুয়াল ফান্ডের নিট সম্পদমূল্য স্বল্প সময়ে নামতে পারে, যদিও সংশ্লিষ্ট বন্ডে ঋণখেলাপির ঝুঁকি খুব কম।

দামের সংবেদনশীলতা মেয়াদের উপর নির্ভর করে। দূরের মেয়াদপূর্তির বন্ডে সুদের পরিবর্তনের প্রভাব সাধারণত বেশি। এক শতাংশ-বিন্দু ফলন বাড়লে ২০ বছরের বন্ডের দাম তিন বছরের বন্ডের তুলনায় বেশি নামতে পারে। তাই ‘সরকারি বন্ড’ এবং ‘মূলধন স্থির’ সমার্থক নয়; মেয়াদপূর্তির আগে বাজারদরে বিক্রি বা তহবিল থেকে টাকা তুললে ওঠানামা বাস্তব ক্ষতি তৈরি করতে পারে।

ফলন উঁচু হওয়ায় নতুন বিনিয়োগে সম্ভাব্য চলতি আয় বাড়ে। কয়েকটি তহবিল সংস্থা তিন থেকে পাঁচ বছরের ঋণপত্রে তুলনামূলক সুযোগ দেখছে। এটি তাদের বাজার-মত, নিশ্চিত ফল নয়। তেল আরও বাড়লে, টাকা দুর্বল হলে বা বাজারে সরকারি ঋণের সরবরাহ বাড়লে ফলন আরও উঠতে পারে এবং বর্তমান বন্ডের দাম আবার কমতে পারে।

ঋণতহবিলে দুটি ঝুঁকি আলাদা করে দেখা দরকার। সুদের ঝুঁকি আসে বাজারের ফলন বদলালে; ঋণমানের ঝুঁকি আসে কোনও সংস্থা সুদ বা মূলধন দিতে না পারলে। সরকারি ঋণপত্রে দ্বিতীয় ঝুঁকি সীমিত হলেও প্রথমটি থাকে। কর্পোরেট ঋণপত্রে উচ্চ ফলন কখনও বেশি ঋণমানের ঝুঁকির মূল্যও হতে পারে।

লক্ষ্য-মেয়াদি তহবিল নির্দিষ্ট সূচকের বন্ড মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধরে রাখার চেষ্টা করে। বিনিয়োগকারী একই সময় পর্যন্ত থাকলে মধ্যবর্তী দামের দোলাচলের প্রভাব কমতে পারে, কিন্তু সূচকের পুনর্বিন্যাস, খরচ, অনুসরণ-বিচ্যুতি এবং আগাম টাকা তোলার ঝুঁকি থাকে। প্রচারপত্রে দেখানো ‘সূচক ফলন’ তহবিলের হাতে পাওয়া নিশ্চিত বার্ষিক মুনাফা নয়।

স্থায়ী আমানতের সঙ্গে তুলনায় শুধু প্রদর্শিত শতাংশ দেখলে ভুল হতে পারে। আমানতের সুদ পূর্বনির্ধারিত এবং পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যোগ্য ব্যাঙ্ক-আমানত ডিআইসিজিসির সুরক্ষায় থাকে। বন্ড তহবিলে বাজার-দাম, খরচ ও করের প্রভাব রয়েছে, তবে প্রয়োজনমতো ভাঙার সুবিধা আলাদা হতে পারে। সময়সীমা এবং নগদের প্রয়োজন একই মাপকাঠিতে মিলিয়ে দেখা দরকার।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ১১ সেপ্টেম্বরের বাজার-তথ্যে ৬.৯৪ শতাংশ সরকারি ঋণপত্র ২০৩৬-এর ফলন ৭.০১৫৯ শতাংশ ছিল। কয়েক দিনের ব্যবধানে তার আরও বৃদ্ধি বন্ডবাজারের দ্রুত পরিবর্তন দেখায়। এক দিনের ফলনকে দীর্ঘমেয়াদি সুদের স্থায়ী স্তর ধরে পরিকল্পনা করা তাই ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষণ: সাত শতাংশের ফলন নতুন বিনিয়োগকারীর কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে, আবার পুরনো দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের দামে ক্ষতি ঘটায়। উপযুক্ত পছন্দ ব্যক্তির সময়সীমা, নগদের প্রয়োজন এবং মূল্যপতন সহ্য করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। ফলন শীর্ষে পৌঁছেছে ধরে দীর্ঘ মেয়াদে বাজি ধরা সুদের পূর্বাভাস; সঞ্চয়ের নিশ্চয়তা নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles