অনুমতি চাননি পড়ুয়ারা, নালসারে দেখানো হল উমর খালিদের তথ্যচিত্র

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখানো হল উমর খালিদকে নিয়ে তৈরি বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘প্রিজনার নম্বর ৬২৬৭১০ ইজ প্রেজেন্ট’।
- বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একদল পড়ুয়া এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেন।
- বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের অন্য দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ছবির প্রদর্শনী বাতিল হওয়ার পরে নালসারের এই উদ্যোগ শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশ, প্রশাসনিক অনুমতি এবং বিচারাধীন বন্দিদের অধিকার নিয়ে…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখানো হল উমর খালিদকে নিয়ে তৈরি বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘প্রিজনার নম্বর ৬২৬৭১০ ইজ প্রেজেন্ট’। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একদল পড়ুয়া এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের অন্য দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ছবির প্রদর্শনী বাতিল হওয়ার পরে নালসারের এই উদ্যোগ শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশ, প্রশাসনিক অনুমতি এবং বিচারাধীন বন্দিদের অধিকার নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের অনুমোদন ছিল না। আয়োজক পড়ুয়ারাও স্বীকার করেছেন, তাঁরা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাননি। তাঁদের ব্যাখ্যা, অনুমতি চাওয়ার প্রক্রিয়া এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি এবং হায়দরাবাদের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে যা ঘটেছে, সেই অভিজ্ঞতার কথাই উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
আমন্ত্রণের মাধ্যম ছিল ছোট একটি পোস্টার। তাতে খাঁচা থেকে একটি পাখিকে মুক্ত করে দেওয়ার ছবি। কয়েক দিন আগে পড়ুয়াদের হোয়াটসঅ্যাপ গোষ্ঠীতে সেটি ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আহ্বান—‘প্রিজনার নম্বর ৬২৬৭১০ ইজ প্রেজেন্ট’ দেখতে আসুন। সময় রাত সাড়ে আটটা, স্থান ‘টার্ফ’। এই বার্তার মাধ্যমেই সহপাঠীদের প্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান উদ্যোক্তারা।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিটি দেখানো হয়েছিল সংহতি প্রকাশ এবং আলোচনার পরিসর তৈরির উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ কারাবাসের মানবিক মূল্য, নাগরিক অধিকার এবং বিচারব্যবস্থার জবাবদিহির মতো বিষয় নিয়ে সরাসরি ভাবনাচিন্তার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। প্রদর্শনীর পরে বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও বিচারাধীন বন্দিদের দীর্ঘদিন আটক থাকার প্রশ্নেও আলোচনা হয়।
পড়ুয়াদের বক্তব্য, বিচার শুরু হওয়ার আগেই কোনও মানুষ বছরের পর বছর কারাগারে থাকলে ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তাঁদের মতে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই আইনি প্রক্রিয়া যেন শাস্তির রূপ না নেয়। একই ধরনের আলোচনার পরিসর তৈরির জন্য অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রগোষ্ঠীগুলির প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
ললিত বাচানি পরিচালিত তথ্যচিত্রটির কেন্দ্রে রয়েছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ-র ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রেফতার এবং দীর্ঘ বন্দিজীবনের পরিস্থিতি তুলে ধরেছে ছবিটি।
বেঙ্গালুরুর আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে ১২ সেপ্টেম্বর ছবিটি দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ আপত্তি জানায়। সংগঠনটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদের হুঁশিয়ারিও দেয়। প্রথমে প্রদর্শনী পিছিয়ে দেওয়া হয়; পরে তা বাতিল করা হয়। ছাত্রসংস্থার এক সদস্যের আশঙ্কা ছিল, প্রদর্শনী হলে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পড়াশোনায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অ্যান্ড সোসাইটি কমিটি পড়ুয়াদের পাঠানো বার্তায় ফৌজদারি ব্যবস্থার হুমকি, ভয় দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি এবং চাপের কথা জানিয়েছে। সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই আলোচনা শেষে প্রদর্শনী বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিটি ব্যাখ্যা করেছে।
অন্যদিকে, আইআইআইটি-হায়দরাবাদে প্রস্তাবিত প্রদর্শনী নিয়ে আপত্তি তুলেছিল কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র পর্ষদ। পর্ষদের বক্তব্য ছিল, তাদের শংসাপত্রহীন কোনও ছবি নির্দিষ্ট ছাড়পত্র ছাড়া প্রকাশ্যে দেখানো হলে তা সিনেমাটোগ্রাফ আইনের লঙ্ঘন হবে। পরে প্রতিষ্ঠানটি অনুষ্ঠান বাতিল করে জানায়, আয়োজনের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার বা দপ্তর-সহ প্রতিষ্ঠানের কোনও জায়গাতেই ছবিটির প্রকাশ্য কিংবা ব্যক্তিগত প্রদর্শনী করতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।
এই পটভূমিতে নালসারের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রদর্শনী ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং কেবল পড়ুয়াদের জন্য সীমিত। তাঁদের বিবরণে, আলোচনায় উঠে এসেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা এবং ছবিতে উত্থাপিত অধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্নও। দীর্ঘ কারাবাস ও বিচারব্যবস্থার বিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



