জেতার পরে দলবদল ১১১ সাংসদ-বিধায়কের, প্রাপকদের মধ্যে দ্বিতীয় বিজেপি

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ভোটে জেতার পরে রাজনৈতিক দল বদলেছেন দেশের ১১১ জন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়ক।
- অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস বা এডিআর-এর হিসাবে, তাঁদের মধ্যে ৬৪ জনই নির্বাচিত হয়েছিলেন এনডিপিপি, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে।
- অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত দলবদলকারীদের প্রায় ৫৮ শতাংশ এসেছেন এই তিন দল থেকে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ভোটে জেতার পরে রাজনৈতিক দল বদলেছেন দেশের ১১১ জন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়ক। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস বা এডিআর-এর হিসাবে, তাঁদের মধ্যে ৬৪ জনই নির্বাচিত হয়েছিলেন এনডিপিপি, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে। অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত দলবদলকারীদের প্রায় ৫৮ শতাংশ এসেছেন এই তিন দল থেকে। অন্য দল থেকে জনপ্রতিনিধি পাওয়ার তালিকায় প্রথম নাগা পিপলস ফ্রন্ট, দ্বিতীয় বিজেপি এবং তৃতীয় ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া।
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এডিআর ও ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচের এই সমীক্ষায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচন ও উপনির্বাচন বিবেচনা করা হয়েছে। হিসাবের শেষ তারিখ ১২ জুলাই, ২০২৬। সংশ্লিষ্ট ১১১ জনের মধ্যে লোকসভার সাংসদ ২৬ জন, রাজ্যসভার সাংসদ সাত জন এবং বিধায়ক ৭৮ জন।
দল ছাড়ার তালিকায় শীর্ষে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি বা এনডিপিপি। এই দলের হয়ে নির্বাচিত ২৫ জন পরে রাজনৈতিক পরিচয় বদলেছেন। তৃণমূলের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ২০ এবং কংগ্রেসের ১৯। ফলে তিন দলের মিলিত সংখ্যাটি যেমন বড়, তেমনই জাতীয় দলের পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলির সাংগঠনিক অবস্থার উপরেও আলো ফেলছে এই হিসাব।
উল্টো দিকে, নাগা পিপলস ফ্রন্ট বা এনপিএফ পেয়েছে ৩২ জন জনপ্রতিনিধিকে। মোট দলবদলকারীর প্রায় ২৯ শতাংশ এই দলে গিয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ২৯ জন, অর্থাৎ প্রায় ২৬ শতাংশ। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই পেয়েছে ২০ জনকে, প্রায় ১৮ শতাংশ। এই তিন দলে যোগদানকারীর মোট সংখ্যা ৮১। বাকি দলগুলি মিলিয়ে পেয়েছে ৩০ জনকে।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য উল্লেখযোগ্য তথ্য হল, রাজ্যভিত্তিক তালিকায় নাগাল্যান্ডের পরেই বাংলার স্থান। নাগাল্যান্ডে সংখ্যা ৩২, পশ্চিমবঙ্গে ২০। বাংলার এই ২০ জনই লোকসভার সাংসদ; তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে গিয়েছেন। ফলে বাংলার ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান সরাসরি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের দলীয় বিন্যাস বদলের ছবি তুলে ধরছে।
এই হিসাব দলীয় শক্তির পরিবর্তনের দুটি দিক সামনে আনছে। এক দিকে রয়েছে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ধরে রাখার প্রশ্ন, অন্য দিকে অন্য দলের প্রতিনিধিদের নিজের শিবিরে টেনে আনা। কোনও দলের হয়ে ভোটে জয় এবং পরে সেই দলের সঙ্গে থাকা যে এক বিষয় নয়, ১১১ জনের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিচয় তারই পরিসংখ্যানগত ছবি। সেই কারণেই নির্বাচনের ফলের পরেও বদলে যাচ্ছে দলীয় অঙ্ক।
সমীক্ষায় ‘দলবদল’ কথাটিও বিস্তৃত অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। সদস্যপদ না ছেড়ে অন্য দলে যোগদান, দলের সংযুক্তি, পদত্যাগের পরে নতুন দলের হয়ে উপনির্বাচনে জয় এবং সদস্যপদ খারিজের পরে অন্য দলের হয়ে উপনির্বাচনে জয়—চার ধরনের ঘটনাই ধরা হয়েছে। নাগাল্যান্ডে এনডিপিপি ও এনপিএফের সংযুক্তিও হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। ফলে প্রত্যেকটি ঘটনাকে একই ধরনের ব্যক্তিগত দলত্যাগ হিসেবে পড়লে ভুল হবে।
প্রাপক তিন দলের মিলিত অংশ প্রায় ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ, সমীক্ষায় থাকা প্রতি চার জন দলবদলকারীর প্রায় তিন জনের গন্তব্য হয়েছে এনপিএফ, বিজেপি অথবা এনসিপিআই। বিজেপি একাই পেয়েছে প্রতি চার জনের প্রায় এক জনকে। অন্য দিকে, দল ছেড়ে আসার হিসাবে এনডিপিপি, তৃণমূল ও কংগ্রেসের বাইরের সমস্ত দল মিলিয়ে সংখ্যাটি ৪৭।
এডিআর জানিয়েছে, সুসংবদ্ধ ও সহজলভ্য সরকারি তথ্যের অভাবে এই তালিকাকে সম্পূর্ণ বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আরও প্রাসঙ্গিক ঘটনা এর বাইরে থেকে যেতে পারে। তাই ১১১ সংখ্যাটি সমীক্ষায় শনাক্ত বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের হিসাব হিসেবেই পড়তে হবে।
পরিসংখ্যানের এই সীমা রাজনৈতিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। কোনও দলের মোট নির্বাচিত প্রতিনিধির কত অংশ চলে গিয়েছেন, তা না দেখে শুধু দলত্যাগকারীর সংখ্যা দিয়ে ক্ষতির সম্পূর্ণ মাত্রা বোঝা সম্ভব নয়। একই ভাবে অন্য দল থেকে জনপ্রতিনিধি পাওয়ার সংখ্যা দিয়ে ভোটারদের সমর্থন বৃদ্ধিও মাপা যায় না। সমীক্ষাটি মূলত নির্বাচনের পরে প্রতিনিধিদের বদলে যাওয়া দলীয় অবস্থান নথিবদ্ধ করেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



