গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর লে-তে পুলিশের গুলিতে চার জনের মৃত্যুর ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে ফের একবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করলেন জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার লাদাখে এক সমাবেশে তিনি সরাসরি বলেন, লাদাখ থেকে তিনি ঘোষণা করছেন যে অমিত শাহকে পদত্যাগ করতে হবে, কারণ লাদাখে যা ঘটেছিল তার দায় তাঁকে নিতে হবে।

দায় এবং আশঙ্কা

ওয়াংচুকের অভিযোগ, গত বছরের আন্দোলনে নিরাপত্তারক্ষীরা স্থানীয় তরুণদের বিরুদ্ধে একে-৪৭-এর মতো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, এবং পরবর্তীতে নিহতদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক ভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করে তিনি বলেন, ঘটনার জবাবদিহি স্থির হওয়া দরকার। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য তাঁকে কোনও ‘এনকাউন্টারে’ মেরে ফেলা হতে পারে। ওয়াংচুক জানান, ইতিমধ্যেই তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে, এবং এখন প্রাণনাশের হুমকিও আসছে। তবে দেশ জেগে ওঠার স্বার্থে যে কোনও পরিণতি মেনে নিতে তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

রাহুল গান্ধীর সমর্থন, প্রশ্নও

দিল্লির জন্তরমন্তরে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অমিত শাহের পদত্যাগ দাবির প্রসঙ্গ টেনে ওয়াংচুক সেই দাবিকে সমর্থন জানান। কিন্তু একই সঙ্গে রাহুলের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রদের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রয়োগ নিয়ে সরব হওয়া রাহুল গান্ধী লাদাখের ঘটনা নিয়ে কেন চুপ, যেখানে একে-৪৭ ব্যবহার করে মাথা ও বুকে গুলি চালিয়ে মানুষ মারা হয়েছিল।

বিচারবিভাগীয় তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি

সমাবেশে ওয়াংচুক হিংসা সংক্রান্ত বিচারবিভাগীয় তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানান, এবং হুঁশিয়ারি দেন যে তা প্রকাশ না হলে একটি ‘গণ-আদালত’ (পিপল্‌স ট্রাইবুনাল) গঠন করা হবে। স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছরের ওই হিংসায় চার জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয় এবং পুলিশের গুলিতে অন্তত চুয়াল্লিশ জন আহত হন। ওয়াংচুকের দাবি, তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট গুলি চালানোর নির্দেশে সই করতে অস্বীকার করেছিলেন, যা তদন্তে খতিয়ে দেখা উচিত।

লাদাখের রাজ্য মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত সুরক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন ওয়াংচুক। গত বছরের হিংসার পরে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) তাঁকে গ্রেফতার করে জোধপুর জেলে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর মুক্তির দাবিতে স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর দায়ের করা আবেদনের শুনানি সুপ্রিম কোর্ট পিছিয়ে দিয়েছে আগামী নভেম্বর মাসে, ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

কেন্দ্রীয় সরকার লে-র হিংসার কারণ অনুসন্ধানে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, কিন্তু এক বছর পরেও তার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। এই বিলম্ব এবং স্বচ্ছতার অভাবই লাদাখের আন্দোলনকে নতুন করে উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ওয়াংচুকের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন হিমালয়ের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং কেন্দ্রের সঙ্গে আস্থার সংকট ক্রমশই গভীর হচ্ছে।